Connect with us

ভ্রমণ কথা

রূপসী বাংলার সন্ধানে ৩/ রোমান্টিক ঝিলিমিলির আশেপাশে

ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। অদ্ভুত একটা রোমান্টিকতা ছড়িয়ে রয়েছে চার দিকে। সবুজের সমুদ্র।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

‘কোঁ কোঁর কোঁ’…‘কোঁ কোঁর কোঁ’…

Loading videos...

মোরগের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। ভোর সাড়ে পাঁচটা। কলকাতায় থাকতে এই ডাকটা তো শুনতেই পাওয়া যায় না। তাই আজকের সকালটা সত্যিই একটা বিশেষ তাৎপর্যের।

ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়াতেই অদ্ভুত একটা উপলব্ধি হল। ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। অদ্ভুত একটা রোমান্টিকতা ছড়িয়ে রয়েছে চার দিকে। সবুজের সমুদ্র।

মালভূমি অঞ্চলের ছোঁয়া। চারিদিকে জঙ্গল আর ছোটোখাটো পাহাড়। ভৌগোলিক কারণেই এই নভেম্বরের শুরুতেই বেশ ঠান্ডা ঝিলিমিলিতে। কাল রাতে পাখা তো চালাতেই হয়নি, বরং কম্বল গায়ে দিতে হয়েছে। এখনও গায়ের ওপরে হালকা চাদর। বলা যায়, এই ঝিলিমিলিতেই শীতের নতুন মরশুমকে স্বাগত জানালাম।

এই রিমিল লজটাই কিন্তু ঝিলিমিলির প্রধান আকর্ষণ। শাল-পিয়াল-পলাশ-মহুয়া গাছে ভরে রয়েছে লজের চত্বর। এ ছাড়া কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, আম, জাম, কাঁঠাল গাছ তো রয়েছেই। 

ঝিলিমিলির সকাল।

নেমে এলাম লজ চত্বরে। পরিবেশটা প্রাতর্ভ্রমণের জন্য আদর্শ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুব আকাশ রাঙিয়ে সূর্যদেব উঠলেন। লম্বা লম্বা গাছের আড়াল ভেদ করে ধীরে ধীরে লজ চত্বরে তাঁর আশীর্বাদ ঝরে পড়তে লাগল।

অন্য কোথাও না গিয়ে, অবলীলায় একটা গোটা দিন স্রেফ বিশ্রাম নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় রিমিলে। যদিও আমরা টুকটাক কিছু সাইটসিয়িংয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম।

সত্যি কথা বলতে কী! ঝিলিমিলির আশেপাশে এত কিছু দেখার আছে, যে সব কিছু দেখতে হলে অন্তত চারটে দিন থাকতেই হবে এখানে। কিন্তু আমাদের হাতে তো অত সময় নেই।

দুয়ারসিনির নাম কত শুনেছি। সেই দুয়ারসিনি ঝিলিমিলির এত কাছে, সেটা আগে জানতাম না। আগে মাওবাদীদের সমস্যা থাকলেও এখন অবলীলায় যাওয়া যায় সেখানে। লজকর্মীদের কাছে এমন আশ্বাস পেয়েই প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়লাম।

ঝিলিমিলি থেকে বেরিয়ে কুইলাপালের কিছু আগেই ঢুকে গেলাম পুরুলিয়ায়। এর পর এল বান্দোয়ান। সড়ক যোগাযোগের প্রেক্ষিতে বান্দোয়ানের গুরুত্ব অপরিসীম।

বান্দোয়ান থেকে ঘুরলাম বাঁ দিকে। পথের প্রথম অংশটা ধানখেতের মধ্যে দিয়ে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে এগিয়ে এল জঙ্গল। আমাদের চারিদিকে ঘিরে ধরল পাহাড়। শুরু হয়ে গেল ঘাটরাস্তা। রাস্তাটা খুবই সরু কিন্তু পিচের।

বান্দোয়ান থেকে ঘণ্টাখানেক পথ চলার পর এসে পৌঁছোলাম দুয়ারসিনি। এখান থেকে মাত্র দু’ কিলোমিটার দূরে আসানপানি, সেটাই বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা। কিছু দূরেই ঘাটশিলা।

দুয়ারসিনি ঢোকার একটু আগেই পড়ল ভালোপাহাড়। আদতে গ্রামটার নাম ডঙ্গোরজুরি। কিন্তু এই নাম ওখানকার লোক প্রায় ভুলেই গেছে, সবার কাছে এখন এটা ‘ভালোপাহাড়’।

‘সভ্যতা’র গ্রাস থেকে প্রকৃতিকে বাঁচানোর তাগিদে এগিয়ে এসেছিলেন কয়েক জন সাহসী মানুষ। নেতৃত্বে সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ‘ভালোপাহাড়’-এর কাজ থেমে থাকেনি।

দক্ষিণবঙ্গের ‘ডুয়ার্স’ হিসেবে খ্যাতি দুয়ারসিনির, যে শব্দটির অর্থ ‘দ্বাররক্ষক ঠাকুর’। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী এখানে যে খাড়া পাহাড় রয়েছে, তার ওপর দিয়েই লঙ্কার রাজা রাবণ স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

দুয়ারসিনি যাওয়ার পথে একটু যাত্রাবিরতি।

২৯৪ হেক্টরের প্রাকৃতিক জঙ্গলে ঘেরা দুয়ারসিনি। গভীর অরণ্যের মাঝেমাঝে ছোটো ছোটো টিলা। পাহাড় আর পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা সাতগুরুম নদী।

তবে দুয়ারসিনিকে বুঝতে এখানে একটা রাত থাকতেই হবে। তা হলেই পাহাড়, জঙ্গল, নদীর সঙ্গে এখানকার নির্জনতাও উপভোগ করা যাবে।

এক যুগ আগেও দুয়ারসিনিতে টিলার ওপরে অবস্থিত বনোন্নয়ন নিগমের তিনটি কটেজে ভিড় লেগে থাকত পর্যটকদের। কিন্তু আশেপাশে মাওবাদীদের ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণের পর বন্ধ হয়ে যায় পর্যটকদের আনাগোনা।

অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে ধ্বংস হয়ে যায় নিগমের কটেজগুলি। দীর্ঘদিন পর আবার এখানে পর্যটনক্ষেত্র গড়ে তোলার জন্য নতুন করে কটেজ তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগী হয় নিগম। বর্তমানে কটেজগুলি পুরো তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কবে থেকে অনলাইন বুকিং শুরু হবে, বা কবে থেকে পর্যটকরা এখানে রাত কাটাতে পারবেন, সে ব্যাপারে কারও কাছেই কোনো তথ্য নেই। 

ঠিক যেমন কেউ জানে না যে সুতানের নবনির্মিত বন বিশ্রামাগারে কবে মানুষজন রাত কাটাবেন।

দুয়ারসিনির মতোই পর্যটকদের পা বিশেষ পড়ে না দক্ষিণবঙ্গের গভীরতম জঙ্গল সুতানে। ঝিলিমিলির ‘বারোমাইল’ জঙ্গলের একটা অংশ এই সুতানের জঙ্গল।

এই ‘বারোমাইল’ জঙ্গলের বুক চিরে বেরিয়ে যাচ্ছে ঝিলিমিলি-রানিবাঁধ রোড। রাস্তা আঁকাবাঁকা, পাহাড়ি।

সুতানের জঙ্গল দিয়ে এগিয়ে চলেছে গাড়ি।

মসৃণ রাস্তার লোভে পড়ে গাড়ি যদি বেশি স্পিড তুলে ফেলে তা হলে সুতানের জন্য নির্দিষ্ট ডান দিকটা মিস করার প্রবল সম্ভাবনা। মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না, তাই গুগল ম্যাপ কোনো ভরসা দেবে না।

যা-ই হোক, আমাদের গাড়ি সেই ভুল করেনি। ডান দিকের সরু রাস্তায় ঘুরতেই সম্পূর্ণ অন্য একটা জগতে প্রবেশ করলাম যেন।

পাথুরে রাস্তা যাচ্ছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে, একধারে খাদ, প‍্যাঁচানো রাস্তা, প্রাচীন গাছপালা। আমাদের সাধারণ প্রবণতা, কোথাও যাওয়া মানে একটা গন্তব‍্য বা স্পট থাকতে হবে। রাস্তা উপভোগ করতে আমরা ভুলে যাই। কিন্তু সুতানের রাস্তাই যেন এর প্রধান আকর্ষণ।

বিরাট বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে ছড়ানো বিশুদ্ধ বনভূমি দিয়ে যেতে যেতে মাঝেমধ্যে দু-একটা পাথুরেপথ ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যায় কোনো একটা জঙ্গলঘেরা গ্রামের দিকে।

এই যে ৬.১৪৩ কিলোমিটার পথ চলে আমরা সুতানের বন বিশ্রামাবাসের কাছে পৌঁছোলাম, তার অভিজ্ঞতাটা কিন্তু এক কথায় দুর্দান্ত। এই পথে যেতে যেতে ময়ূরের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়। হাতিরও দর্শন পেয়ে যেতে পারেন। 

সুতানের নবনির্মিত বিশ্রামাবাস।

বিশ্রামাবাস তৈরি হয়েছে। অতীতের সাক্ষ্য বহন করে এখানেই দাঁড়িয়ে আছে সিআরপিএফের একটি ক্যাম্প, যেটা এখন ধ্বংসাবশেষে পরিণত। পাশেই নতুন একটি ওয়াচটাওয়ার। তবে সেই ওয়াচটাওয়ার বেশি উঁচু নয়।

বিশ্রামাবাসটা বাইরে থেকে দেখতে বেশ সুন্দর। রঙের নতুন প্রলেপ পড়েছে। স্থানীয় এক গ্রামবাসী বললেন, বন দফতরের আধিকারিকরা এখানে এলেও কেউ রাতে থাকেন না। তার অবশ্য একটা কারণ রয়েছে। গহন এই অরণ্যে কোনো নেটওয়ার্ক নেই। রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারও সাহায্য চাওয়ার কোনো উপায় নেই।

বিশ্রামাবাসের ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি বিল। শীতে হয়তো এখানে টুকটাক পরিযায়ী পাখি আসে।

সুতানের পালা মিটিয়ে এ বার আমাদের গন্তব্য তালবেড়িয়া জলাধার। বাংলার পর্যটন মানচিত্রে এই লেক এখনও সে ভাবে স্থান পায়নি। কিন্তু বাংলার অন্যতম সেরা হ্রদ হওয়ার যাবতীয় রসদ রয়েছে এই তালবেড়িয়ার মধ্যে।

সবুজ জঙ্গল ও অনুচ্চ পাহাড়ে ঘেরা এই হ্রদ। টলটলে নীল জল। পানকৌড়ি আর বকের দল ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তালবেড়িয়া লেক।

জলাধারের কিছুটা ভেতরে একটা দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি হয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। লেকটাকে প্রকৃত ভাবে উপভোগ করা যায় এখানে দাঁড়িয়ে। উত্তর দিক থেকে শিরশিরানি ধরানো একটা হাওয়া আসছে। ছায়ায় থাকার ফলে নভেম্বরের দুপুরেও ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে।

তালবেড়িয়ার মতো সুন্দরী না হলেও রিমিলের ঠিক কাছে কল্যাণ সায়রটাকেও বিকেলে বেশ উপভোগ করা গেল। সায়রের বুকে ফুটে রয়েছে অসংখ্য পদ্ম। জলের মধ্যে মাছেদের খেলে বেড়ানো দেখতে দেখতেই সময়টা কখন কেটে গেল বুঝতে পারলাম না।

সূর্য অস্ত গেল। ঝিলিমিলিতে আমাদের থাকার সময়ও ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এল। (চলবে)

এই ভ্রমণকাহিনির প্রথম অংশ পড়ুন এখানে

এই ভ্রমণকাহিনির দ্বিতীয় অংশ পড়ুন এখানে

কলকাতা

ভাষা দিবসে উত্তর কলকাতার অলিতেগলিতে ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’

‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর উদ্যোগে হাটা।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

চমৎকার একটি বাড়ি। সাবেকি। লম্বা টানা রক। সবুজ খড়খড়ি আর দরজা। নামটাও তার চমৎকার– ‘চমৎকার বাড়ি।’

Loading videos...

হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, ছবিতে রামায়ণ, মহাভারত, সব কিছুই এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়। কারণ এই বাড়িতেই যে রয়েছে দেব সাহিত্য কুটিরের প্রেস। উত্তর কলকাতার ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িটায় এক সময়ে বরেণ্য সব মানুষের যাতায়াত লেগে থাকত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সেই গোলাপি মলাটের ‘বর্ণপরিচয়’ও তো পরবর্তী কালে এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়।

‘বর্ণপরিচয়’-এর মধ্যে দিয়ে সংস্কৃত ভাষার অযৌক্তিক শাসনজাল থেকে বাংলা ভাষাকে মুক্ত করেন বিদ্যাসাগর। সেই সঙ্গে যুক্তি ও বাস্তবতাবোধের প্রয়োগ করে বর্ণমালাকে সংস্কার করেন তিনি। সেই কারণেই রবিবার উত্তর কলকাতা অলিতে গলিতে ঘুরিয়ে দেখার বিশেষ যে পরিকল্পনা ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’ করেছিল, তার নামকরণ হয়েছিল ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’।

সংগঠনের দুই কান্ডারি – দীপ ভট্টাচার্য আর অয়ন মণ্ডল। ২০১৯ সালে এই দু’ জনের উদ্যোগে জন্ম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেরা যেমন কলকাতার সঙ্গে পরিচিত হবেন, তেমনই অন্যদেরও শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। আমার সঙ্গে দু’ জনেরই পরিচয় হল গত মাসে। ২৬ জানুয়ারিও এমনই একটা হাঁটা হেঁটেছিলাম আমরা। তেমনই আজ আবার পথে। আগের বারের মতো এ বারও কোভিডের সব রকম বিধি কঠোর ভাবে মেনেই হাঁটা হয়েছে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিলিত হয়ে হাঁটা শুরু। প্রথমে দাঁড়ানো হল সংস্কৃত কলেজের সামনে। বিদ্যাসাগর মহাশয় এই কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন এই কলেজের পরিচিতি বাড়ে। এই কলেজের নিয়মনীতি সংস্কার করে ১৮৫১-এর জানুয়ারিতে কায়স্থদের এবং ১৮৫৪-এর ডিসেম্বরে সব বর্ণের হিন্দুদের জন্য কলেজের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

এ দিনের হাঁটায় মাঝেমধ্যেই ফিরে এসেছেন বাঙালির সমাজসংস্কারের অন্যতম কান্ডারি বিদ্যাসাগর। তবে সংস্কৃত কলেজের পর আমাদের গন্তব্য ছিল উত্তর কলকাতার এক বিখ্যাত মিষ্টির দোকান, পুঁটীরাম (দোকানের সাইনবোর্ডে এই বানানই লেখা)। উদ্দেশ্য প্রাতরাশ করা। আলুর তরকারি-সহ চারটে কচুরি, নতুন গুড়ের রসগোল্লা এবং ১০০ গ্রামের এক ভাঁড় মিষ্টি দই খেয়ে ফের হাঁটা শুরু।

কলেজ স্কোয়ারে ডেভিড হেয়ারের সমাধিস্থল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যু বরণ করা বাঙালি সেনাদের সৌধটি দেখে চলে এলাম উত্তর কলকাতার বিখ্যাত গলিগুলিতে। এই রাস্তাগুলোর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। এখান দিয়ে হাঁটলে এবং বাড়িগুলোর দিকে তাকালে সময় যে কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

হাঁটতে হাঁটতেই এগিয়ে চলা। ঝামাপুকুর লেন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই চলে এল রামকৃষ্ণ সংঘ। এটা আদতে দিগম্বর মিত্রের বাড়ি, যা পরিচিত ছিল ঝামাপুকুর রাজবাড়ি হিসেবে। দাদা রামকুমারের হাত ধরে কলকাতায় পৌঁছে ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িতেই উঠেছিলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায় তথা শ্রীরামকৃষ্ণ। বাড়িটি খুব ভালো ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। ঠাকুর দালানে শ্রীরামকৃষ্ণ, জগজ্জননী সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নিত্য পুজো হয় সেখানে।

ঝামাপুকুর লেনের রামকৃষ্ণ সংঘের সেই বাড়ি।

বাড়ির দালানে বেশ কিছুটা সময় জিরিয়ে নেওয়া গেল। ফের হাঁটা শুরু। এসে পৌঁছোলাম সেই চমৎকার বাড়িতে।

দেব সাহিত্য কুটির-এর বীজ বুনেছিলেন বরদাপ্রসাদ মজুমদার। কলকাতার বটতলা অঞ্চলে থাকতেন তিনি। বটতলা তখন ছিল কলকাতার প্রকাশনার এক কেন্দ্র। তাঁর যে স্বল্প সঞ্চয় ছিল তা-ই নিয়ে তিনি আবির্ভূত হলেন পুস্তকবিক্রেতা হিসাবে। এই কাজে আয়‌ও হচ্ছিল ভালোই।

বরদাপ্রসাদ শীঘ্র‌ই বেশ কিছু টাকা জমিয়ে নিজের একটা ছোটো প্রেস খুললেন।বরদাপ্রসাদের সেজো ছেলে আশুতোষ উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার ব্যবসার অধিকারী হলেন। সেই সময় থেকেই তিনি ডিকশনারি প্রকাশের পরিকল্পনা করেন। শীঘ্র‌ই এই ডিকশনারি প্রকাশিত হল।

এর পর ১৯২৪ সালে তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অনেক পাঠ্যপুস্তকের স্বত্বও কিনে নেন। তার মধ্যে অবশ্যই ছিল বর্ণপরিচয়। ওই বছর‌ই প্রতিষ্ঠিত হল ‘দেব সাহিত্য কুটির’। ব্যবসায় লক্ষ্মী মুখ তুলে চাইলেন। প্রচুর সম্পত্তি হল আশুতোষ দেবের।

চমৎকার বাড়ি ও ‘নন্টে ফন্টে’

প্রায় ৩০টি বাড়ির মালিক হলেন তিনি। ঝামাপুকুর লেনে ৫টি বাড়ি কেনেন তিনি। ২১ নম্বর লেনের বাড়ির নাম রাখলেন নিজের স্ত্রী, চমৎকার সুন্দরী দাসীর নামে – চমৎকার বাড়ি। আর তার পাশে ২১/১-এর নাম – বরদাকুটীর।

পথ চলতে চলতে ফের বিদ্যাসাগর মশাই এসে গেলেন। সেই সূত্র ধরেই এ বার তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম জীবনে নিজে কোনো বাড়ি তৈরি না করলেও পরে তাঁর বিপুল গ্রন্থসম্ভার রাখার জন্য ১৮৭৬-এ মধ্য কলকাতায় ২৫ বৃন্দাবন মল্লিক লেনে, অধুনা ৩৬ বিদ্যাসাগর স্ট্রিটে এক খণ্ড জমির ওপরে একটি দোতলা বাড়ি তৈরি করেন৷ জীবনের শেষ চোদ্দো বছর মাঝেমধ্যে তিনি কাটিয়েছেন এই বাড়িতে৷ এই বাড়িতেই মারা যান তিনি।

বিদ্যাসাগরের বাড়ি।

বাড়িটিতে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। তাই সামনের বাগানটার বেশি এগোতে পারলাম না। সংস্কারের কাজ শেষ হলে একদিন সবাই আসব, এই প্রতিজ্ঞা করে শেষ দফার হাঁটা শুরু হল। এ বার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড পেরিয়ে ঢুকলাম গড়পাড় রোডে। কিছুটা এগোতেই ডান দিকে দেখলাম এক বিদ্যালয় ভবন।

ঢোকার দরজার ওপরে একটি ফলকে লেখা এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশন। পাশেই রয়েছে তিন মহাপুরুষের মূর্তি। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় এবং সত্যজিৎ রায়। ১৯১৪ সালে উপেন্দ্রকিশোর ১০০এ গড়পাড় রোডের ওপর এই বাড়িটি তৈরি করেন। এখানেই ১৯২১ সালের ২ মে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এথেনিয়াম বিদ্যালয় কিনে নেয় ১৯৩১ সালে।

প্রতিবেদক-সহ ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর অন্য সদস্যরা।

এখানেই শেষ হল রবিবারের ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক।’ শেষ করার আগে ফের একবার স্লোগান উঠল, ‘শহর চিনতে হলে হেঁটে দেখো বন্ধু।’ সেই সঙ্গে আওয়াজ উঠল “আসছে মাসে আবার হবে।” ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ হয়তো শেষ, কিন্তু হাঁটা শেষ করছে না ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক।’ ফের রাস্তায় নামবে তারা, হয়তো সামনের মাসেই।

Continue Reading

প্রবন্ধ

‘কয়েকটা টাকার বিনিময়ে নেতাজির স্মৃতি ধুলোয় মিশিয়ে দেব?’, বলেছিলেন পদমবাহাদুর

মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

Published

on

কার্শিয়াঙের নেতাজি মিউজিয়ামে নেতাজির আবক্ষ মূর্তি।

শ্রয়ণ সেন

আবার সেই পথে। এই তো ঠিক এক বছর আগে ২০২০-এর জানুয়ারিতে ঘুরে গিয়েছিলাম এখান থেকে। এই জানুয়ারিতে দার্জিলিঙের পথে গিদ্দা পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতে যেতে স্মৃতিতে ডুব দিলাম। মনের মধ্যে ভেসে উঠল পদমবাহাদুর ছেত্রীর মুখটা আর ওঁর কথাগুলো।

Loading videos...

“তখন ওরা কত করে আমায় বলল বাড়ির ইটগুলো বিক্রি করে দিতে, এতে আমার টাকা হবে। কিন্তু আমি ওদের কথা শুনিনি। আমার তখন একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক, ওদের হাত থেকে বাড়িটা বাঁচাতেই হবে।”

বেশ গর্ব করেই কথাগুলো বলেছিলেন পদমবাহাদুর। নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ তথা নেতাজি মিউজিয়ামের দেখভালের পুরো দায়িত্ব তাঁর ওপরে। তিন বছরের দুরন্ত নাতিকে সঙ্গে নিয়ে পুরো বাড়িটা আমাদের ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বাড়িটার অবদান হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। কারণ এই বাড়িতে খুব বেশি কারও পা-ও পড়ে না।

নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ

“খুলা হ্যায়, খুলা হ্যায়।”

মূল ফটক দিয়ে বাড়ির দিকে এগোতেই আমাদের উদ্দেশ করে বলেছিল মিষ্টি অথচ দুরন্ত সেই শিশুটি। শীতের দিনের মিঠে রোদে পিঠ দিয়ে দাদুর কোলে বসেছিল নাতি। আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল, মিউজিয়াম খোলা আছে, ভেতরে যেতে পারি।

বাইরে জুতো খুলে প্রবেশ করলাম। এটা তো ঠিকই, যে কোনো পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে গেলে জুতো খুলতেই হবে। নেতাজিকে ভালবাসেন, এমন যে কোনো মানুষের কাছে এই বাড়ি একটা সাধনাস্থল।

নেতাজির বহু বিরল ছবি, তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র আর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লেখা চিঠি এখানে সযত্নে রাখা আছে।

১৯২২ সালে রলি ওয়ার্ড নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দাপাহাড়ে অবস্থিত এই বাড়িটি কিনে নেন নেতাজির দাদা, তথা স্বাধীনতাসংগ্রামী শরৎচন্দ্র বসু।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫, এই বাড়িতেই ব্রিটিশ সরকারের হাতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল শরৎ বসুকে। এর পরের বছরেই নেতাজির পালা। এই বাড়িতে তাঁকে সাত মাসের জন্য বন্দি করে রাখা হয়।

দ্বিতীয় বার যখন এই বাড়িতে নেতাজি আসেন, তখন তিনি বন্দি নন। সেটা ১৯৩৭ সালের অক্টোবর। হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণ এই বাড়িতে বসেই লিখেছিলেন নেতাজি। এখান থেকে গান্ধীজি ও জওহরলাল নেহরুকে চিঠিও লিখেছিলেন।

নেতাজি মিউজিয়ামে প্রবেশদ্বার।

এই বাড়িতে থাকাকালীনই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চিঠি পেয়েছিলেন নেতাজি। তাতে ‘বন্দেমাতরম’ গানের প্রসঙ্গও ছিল।

চিঠির একটি অংশে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “…যে রাষ্ট্রসভা ভারতবর্ষের সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র, সেখানে এই গান সর্বজনীন ভাবে সঙ্গত হতেই পারে না।”

এই বাড়িতে বহু দুর্লভ ছবির পাশাপাশি নেতাজি-কেন্দ্রিক প্রচুর চিঠিরও সংগ্রহ রয়েছে। সব চিঠি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার মতো সময় ছিল না। ‘বন্দেমাতরম’ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিঠির ব্যাপারটি একটি সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছিলাম। ওই চিঠির উত্তরও রবীন্দ্রনাথকে দিয়েছিলেন নেতাজি। কিন্তু তাঁর সেই জবাবের হাতের লেখা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে নেতাজি কত যে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন, তার প্রমাণও রয়েছে এখানে রক্ষিত বহু চিঠিতে।

নেতাজিকে নিয়ে এমন দুর্লভ ছবির সম্ভার ভারতে আর কোথাও আছে বলে মনে করতে পারি না।

নেতাজি এখানে থাকাকালীন প্রাতর্ভ্রমণে বেরোতেন। পাগলাঝোরায় প্রাতর্ভ্রমণরত নেতাজি, এমনই একটি ছবি রয়েছে। বসু পরিবারের সঙ্গে নেতাজির ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই পটেলের সঙ্গে তোলা ছবিও।

এ ছাড়া নেতাজির ব্যবহার করা খাট, চেয়ার-টেবিল সবই সযত্নে রাখা হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের ‘পয়েন্টস’ ভ্রমণের মধ্যেই নেতাজির এই বাড়ি পড়ে। কিন্তু এখানে আসতে হবে আলাদা ভাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ে দিয়ে ভালো করে দেখতে হবে। তবেই মনের শান্তি পাওয়া যাবে।

১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাড়িটি বসু পরিবারের অধীনে ছিল। এর পর বাড়িটি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার অধিগ্রহণ করে। সংস্কার করে তা কলকাতার ‘নেতাজি ইনস্টিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ’-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নেতাজির দুর্লভ ছবি, চিঠিপত্র আর ব্যবহৃত আসবাবপত্র নিয়ে এই সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালে। ২০১৮ সালে সেই সংগ্রহশালার সংস্কারের কাজও হয়েছে।

নেতাজির এই বাড়িটার সঙ্গেই নিজেকে একাত্ম করে দিয়েছেন পদমবাহাদুর। তাঁর কথাবার্তা, আচার আচরণে বোঝা যায়, আশির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই বৃদ্ধ নেতাজিকে কখনও না দেখলেও তাঁকে রোজ অনুভব করেন।

শত চেষ্টা করেও পদমবাহাদুরকে ক্যামেরার সামনে আনা গেল না।

শরৎ বসুর রোপণ করা ক্যামেলিয়া গাছ।

১৯৭৩ থেকে এই বাড়িটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন পদমবাহাদুর। তখন দিনপ্রতি দু’ টাকা হাজিরায় বসুদের কাছ থেকে এই বাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব পান।

-“তব মহিনে মে ষাট (৬০) রুপ্যায় মিলতা থা।” গলায় গর্ব ঝরে পড়েছিল। 

এর পর বাড়িটা কত ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তবুও তিনি ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল।

কথা প্রসঙ্গেই উঠে এসেছিল ১৯৮৬ সালের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কথা। সুবাস ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন মারাত্মক ধ্বংসাত্মক চেহারা নেয়। গত ১৫ বছরে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে যে আন্দোলন হয়েছে, সুবাস ঘিসিংয়ের জঙ্গি আন্দোলনের কাছে সে সব নেহাতই শিশু।

তখনই পদমবাহাদুরের কাছে আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব আসে এই বাড়ির এক একটা ইট বিক্রি করে দিয়ে বিনিময় টাকা নেওয়ার। আর প্রকারান্তরে সে টাকার কিছুটা অংশ আন্দোলনকারীদের দিয়ে দেওয়া।

পদম কিন্তু ছিলেন তাঁর লক্ষ্যে অবিচল। আন্দোলনকারীদের কথা কানেই তোলেননি তিনি। সোজা জানিয়ে দেন, নেতাজির স্মৃতিকে এ ভাবে ধুলোয় মিশে যেতে তিনি দেবেন না।

তাঁর কথায়, “মাত্র কয়েকটা টাকার জন্য নেতাজিতে বিকিয়ে দেব! আমি গরিব হতে পারি, লোভী নই।”

আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আপশোশ, কার্শিয়াংয়ের এক নেপালি বৃদ্ধ নেতাজির আদর্শে চলতে পারেন, কিন্তু আমরা পারি না। আজ ১২৫ বছরে পড়লেন নেতাজি। মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও, নেতাজির আদর্শে চলার ব্যাপারে আমরা লবডঙ্কা। কবে আমরা ওঁর আদর্শে চলব, ঠিক পদমবাহাদুরের মতো?

ছবি: লেখক

আরও পড়ুন: সুভাষের খোঁজে সুভাষগ্রাম ও অন্যত্র

Continue Reading

ভ্রমণ কথা

রূপসী বাংলার সন্ধানে ৪/ সিঙ্গির শান্তিনিকেতনে দুটো দিন

Published

on

শান্তিনিকেতনের ছাদ থেকে সবুজ দর্শন।

শ্রয়ণ সেন

আমাদের ছোটো নদী। নাম তার ব্রহ্মাণী। মধ্য-কার্তিকে অর্থাৎ নভেম্বরের শুরুতেও টলটলে জল তার। ছলাত ছলাত শব্দে সে এগিয়ে চলেছে নিজ গন্তব্যে।

Loading videos...

সম্রাটদা বললেন, “মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী। ভাতারের কাছে জন্ম নিয়ে কাটোয়ায় গঙ্গায় গিয়ে মিশেছে।”

নদীর ধারের পাড়টায় বসে থাকতে দিব্য লাগছে। এখন সকাল ৮টা। চামড়ায় টান ধরতে শুরু করে দিয়েছে। একটা শিরশিরানি ব্যাপার রয়েছে আবহাওয়ায়।

গতকাল এখান আসার পর থেকেই সম্রাটদা, বউদি আর তাঁর দলবল যে ভাবে আমাদের দিকে খেয়াল রাখছে, সেটা ভাষায় ব্যাখ্যা করা যাবে না। আজ তো আবার দুপুরে দেশি খাসির ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে সম্রাটদা।

ব্রাহ্মণী নদী

গতকাল এখানে এসেছি। পৌঁছোতে যে এমন দেরি হয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি। আসলে ঝিলিমিলি থেকে রওনা হয়েছিলাম পৌনে ন’টা নাগাদ। ২৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের সিঙ্গি গ্রামে আসতে বড়োজোর ঘণ্টা পাঁচেক লাগত। কিন্তু বাধ সাধল বাঁধ।

মানে, ঝিলিমিলি থেকে রানিবাঁধ, বাঁকুড়া, বেলেতোড় হয়ে বড়জোড়া পৌঁছে সেখানে আধ ঘণ্টা জ্যামে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার পর জানতে পারলাম দুর্গাপুর ব্যারেজ বন্ধ। লকগেট ভেঙে গিয়েছে। গাড়ি যাবে না।

অগত্যা গাড়ি ঘুরিয়ে ফের বেলেতোড় এসে, সেখান থেকে বাঁ দিকে ঘুরলাম। সোনামুখী, খণ্ডঘোষ হয়ে বর্ধমান পৌঁছোতেই দুপুর দেড়টা বেজে গেল। 

বর্ধমান থেকে ভাতার, বলগোনা, চন্দ্রপুর হয়ে সিঙ্গি যখন পৌঁছোলাম তখন ৩টে বাজে। পেটে ছুঁচোয় ডন মারছে রীতিমতো।

সম্রাটদার শান্তির নিকেতনে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামতেই লেবুর শরবত চলে এল। ওপরে পুদিনা পাতা ভাসছে। আহ! কী অসম্ভব তৃপ্তি যে পেলাম। গোটা রাস্তার ক্লান্তি যেন নিমেষের মধ্যে দূর হয়ে গেল।

অনেকেই প্রশ্ন করবেন, দক্ষিণবঙ্গে গন্ডা গন্ডা তথাকথিত ‘টুরিস্ট স্পট’ থাকতে কেন পূর্ব বর্ধমানের এক গ্রামকে বেছে নিলাম দু’টো দিন থাকার জন্য।  

সত্যি কথাই, ভ্রমণ-মানচিত্রে খুব একটা পরিচিত নয় এই সিঙ্গি গ্রাম। তবে বাংলায় মহাভারত রচয়িতা কাশীরাম দাসের জন্য এই গ্রামের খ্যাতি যথেষ্ট। এই গ্রামেই তাঁর জন্ম, রয়েছে তাঁর বসতবাটীও।

কাশীরাম দাসের বসতবাটী তো দেখতে যাবই, কিন্তু সেটা প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। আসলে সম্রাটদার ডাককে উপেক্ষা করতে পারিনি। সেই জানুয়ারিতে ফেসবুকে আলাপ হয়েছে ভদ্রলোকের সঙ্গে। তার পর তো লকডাউন হয়ে গেল।

জুনে লকডাউন উঠতে সম্রাটদাই বলতে থাকলেন এক বার তাঁর শান্তিনিকেতনে আসতে। প্রথমে অবাক লাগত। কেন যাব তাঁর শান্তিনিকেতনে?

প্রশ্নের উত্তরে তিনিই বলেন, “পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অলস বিশ্রাম যাপন করতে অথবা নিজের কাছে একলা হতে, ফুসফুস ভরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিতে, মুখরোচক অথচ ১০০% বিষমুক্ত খাবারের স্বাদ নিতে, আর বর্ষার তো একটা অন্য রূপ আছেই, তা দু’ চোখ ভরে দেখতে এখানে আসতেই হবে।”

বর্ষার রূপ দেখা হল না বটে, তবে এখন যা রূপ দেখছি, তা-ই বা কম কীসে! বাড়ির তিনতলায় ছাদ। সেই ছাদ সংলগ্ন দু’টো ঘর আমাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘরের জানলা দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ আর ছাদে দাঁড়ালে উত্তর ও পশ্চিম, যে দিকে তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ। এই আমার শস্যশ্যামলা বাংলা।

শান্তিনিকেতনের ছাদে এ ভাবেই অলস সময়যাপন হয়।

পাহাড় বা সমুদ্র তো কতই দেখেছি, কিন্তু এমন ভাবে সবুজ বাংলাকে দেখার ভাগ্য আর কত জনের হয়! মনে ভরে যাচ্ছে আমার। বাড়িটার নাম শান্তিনিকেতন হোমস্টে। সিঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সম্রাট বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাবা শান্তিময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এই হোমস্টের নাম দিয়েছেন।

হাতমুখ ধুয়ে মধ্যাহ্নভোজন করতে বসে চক্ষু চড়কগাছ। কত রকম পদের ছড়াছড়ি। গুনে গুনে ১৪ রকম। পেট ভরে খাওয়ার পর শেষ পাতে ঠান্ডা ঘোলটা যেন অমৃত। 

সম্রাটদা বলেন, এখানে কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। সিঙ্গি গ্রামের পরিশ্রমী মানুষের সহযোগিতায় বাড়ির নিজস্ব রান্নাঘরে অতিথির জন্য খাবার তৈরি করা হয়।

বাড়িতেই আছে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি এবং বিভিন্ন গাছে ছাওয়া দু’টি ছোটো বাগান। সবজিতে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। এ ছাড়া আছে খুব ছোট্ট একটি বাঁধানো পুকুর, যেখানে ছোটো মাছ চাষ করা হয়।

বাগানের সেই সবজিই বাড়ির রান্নাঘরে ঘরে তৈরি তেল এবং বিভিন্ন মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তা ছাড়া ঘি-ও বাড়িতেই তৈরি। 

পাশের মসজিদ থেকে আসা আজানের সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়েই সবুজ ধানখেতে টুক করে ডুব দিল সূর্য। সন্ধ্যা নামল সিঙ্গিতে। সম্রাটদাকে নিয়েই জমে উঠল আমাদের সন্ধ্যার আড্ডা। রাত বাড়ল সিঙ্গিতে, সেই সঙ্গে অল্প অল্প ঠান্ডাও।

পরের দিন সকাল ৭টায় টোটো এসে হাজির শান্তিনিকেতনের গেটে। সিঙ্গি গ্রামের মধ্যে দিয়ে সরু বাঁধানো রাস্তা ধরে সে আমাদের নিয়ে চলল।

ধান পাকতে শুরু করেছে। তাই সবুজ ব্যাপারটা কোথাও কোথাও সোনালি রঙ নিচ্ছে। ধান কাটার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

ছোটো মেইগাছি গ্রাম পেরিয়ে এসে পৌঁছোলাম ব্রহ্মাণী নদীর পাড়ে। জায়গাটা সিঙ্গি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে। ব্রহ্মাণীকে দেখতে দেখতেই সময়ে কেটে যাচ্ছিল। সম্বিৎ ফিরল সম্রাটদারই ফোনে। শান্তিনিকেতনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে গরম গরম লুচি।

ফুলকো ফুলকো গরম লুচি সাঁটিয়ে প্রাতরাশ করলাম। এর পর আরও এক দফা সিঙ্গি গ্রাম ঘোরা। চলে এলাম লৌকিক দেবতা ক্ষেত্রপাল ঠাকুরের থানে।

কোনো বিগ্রহ নেই এখানে। অতি প্রাচীন একটি বটগাছকে পুজো করা হয়। গ্রামের প্রান্তিক দেবতা। আষাঢ়-নবমী বা উলটোরথের দিন এখানে বিশাল মেলা বসে। বেশ কয়েক দিন ধরে সেই মেলা চলে। কিন্তু এ বার করোনার কারণে, সেই মেলা হয়নি। তাই সিঙ্গির মন খারাপ।

ক্ষেত্রপাল ঠাকুরের থান।

মন খারাপ হয়ে যায় আরও একটা জিনিস দেখলে। সেটা হল কাশীরাম দাসের বসতবাটী। মহাকবি কাশীরামের বাড়ির অতিভগ্ন দশা।

কয়েকটি দেওয়াল ছাড়া এখন কিছুই প্রায় টিকে নেই। এখানে পাতালঘর রয়েছে। শোনা যায় তাঁর ওপরে আক্রমণ আটকাতে এই পাতালঘরে নিজের সব পাণ্ডুলিপি নিয়ে আত্মগোপন করতেন কাশীরাম।

বাড়িটি এখন সাপখোপের আখড়া হয়েছে। তবে বাড়িটি যাদের দেখভালে রয়েছে তাদের এবং সম্রাটদা-সহ সিঙ্গি গ্রামের নাগরিক সমাজের প্রচেষ্টায় এখানে একটা স্মৃতিমন্দির তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বর্তমানে বাড়ির ঠিক সামনে একটা গেট তৈরি হয়েছে, যা এই মন খারাপের আবহেও কিছুটা স্বস্তি দেয়।

ফিরে আসি শান্তিনিকেতনে। এ বার এখানকার বাগান ঘুরে দেখার পালা। কত শাকসবজি ফলেছে এখানে, নানা রকমের আম গাছ রয়েছে। ডিসেম্বরেও আম ফলে, এমন গাছ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মশলার গাছ আর কত কী! এই বাগান ঘুরে দেখতে দেখতেই ঘণ্টা খানেক সময়ে কেটে যায়।

কথা দিয়েছিলেন সম্রাটদা। সেইমতো দুপুরের পাতে দেশি খাসির ঝোল। চার পিস খাওয়ার পরেও পেট আইঢাই করল না! সত্যিই, এখানকার তেলমশলা এবং রান্নার গুণ রয়েছে।

শান্তিনিকেতনে মধ্যাহ্নভোজন।

সিঙ্গির অবস্থান দারুণ জায়গায়। কাছেই ঐতিহাসিক দুই শহর কাটোয়া ও দাঁইহাট। কালনাও খুব বেশি দূরে নয়। কুমুদরঞ্জন মল্লিকের কোগ্রামও গাড়িতে ঘণ্টাখানেকেরই পথ। সিঙ্গিকে আশপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে কয়েকটি সতীপীঠ। 

এমনই এক সতীপীঠে গেলাম বিকেলে। ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দির। সিঙ্গি থেকে ১৮ কিমি। গ্রামে ঢুকতেই হাজার বিঘের ক্ষীরদিঘি, যেখানে পড়েছিল সতীর ডান পায়ের আঙুল। এই দিঘিতেই থাকে দেবীর মূর্তি। ওই মূর্তি বছরে মাত্র ছ’ দিন পুজোর জন্য দিঘি থেকে তোলা হয়।

যোগাদ্যায় সূর্যাস্ত।

ক্ষীরদিঘির পাড়ে অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখে ফিরে এলাম শান্তিনিকেতনে। আমাদের ভ্রমণের আজই শেষ সন্ধ্যা। স্মৃতি রোমন্থনের সন্ধ্যা।

কোভিডের আবহে ৮ দিনের ট্যুর করছি এবং পাঁচ জনের দলে চার জনের বয়স ৫৮ থেকে ৭১-এর মধ্যে, এটা শুনে অনেকেই চোখ কুঁচকেছিল। অনেক রকম ভয় দেখিয়েছিল। বলা হয়েছিল, বেড়াতে বেরিয়ে অসুস্থ হয়ে ফিরব।

কিন্তু সেই সব ভয় আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। সব বাধা টপকে অসাধারণ একটা ট্যুর করতে পেরেছি। এই ৮ দিনের ভ্রমণে বুঝে গিয়েছি, বেড়াতে বেরোলেই অসুস্থ হয়ে ফিরতে হবে, এই ধারণা এক্কেবারেই অমূলক।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব জায়গায় চললে, ভিড় এড়িয়ে গেলে, সর্বজনীন জায়গায় মাস্ক না খুললে, মাঝেমধ্যেই স্যানিটাইজারে হাত সাফ করে নিলে আপনার সংক্রমণের কোনো ঝুঁকিই নেই।

আমি তো বলব, কলকাতায় একটু অসতর্ক হলেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়, কিন্তু ফাঁকা জায়গায় বেড়াতে গেলে সে সবের কোনো আশঙ্কা নেই।

ভ্রমণ আমাদের করতেই হবে। ভ্রমণ এক দিকে আমাদের মনকে যেমন ভালো করে, তেমনই ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনদেরও সাহায্য করে, তাদের মুখে হাসি ফোটায়। সেটা তাজপুর, ঝিলিমিলি আর এই সিঙ্গিতে এসে বুঝেছি।

তাই ভ্রমণ চলবেই। আপাতত বাড়ি ফিরেছি, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে আবার বেরিয়ে পড়ব, হ্যাঁ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই।

আর এই সিঙ্গি তো রয়েছেই। সম্রাটদা এত দিন আমার ভার্চুয়াল বন্ধু ছিলেন, এখন মুখোমুখি আলাপের পর নিজের দাদার মতো হয়ে গিয়েছেন। বউদি আর শান্তিনিকেতনের বাকিদের যা আতিথেয়তা পেলাম, তা-ও অনবদ্য।

তাই, কলকাতার একঘেয়েমি জীবন থেকে মুক্তি পেতে আর কোথাও না হোক এই শান্তিনিকেতনে যে আসবই, তা বলাই বাহুল্য। (শেষ)

পুনঃ সিঙ্গিতে শান্তিনিকেতন হোমস্টেতে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন: ৭০৪৪৭৯১৪৩৬

এই ভ্রমণকাহিনীর বাকি ৩টে পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
modi rahul pakistan poster boy
দেশ1 hour ago

Coronavirus Second Wave: ‘সরকারে ব্যর্থতাকে’ দুষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন রাহুল গান্ধী

দেশ3 hours ago

Tamil Nadu Oath Ceremony: মন্ত্রীসভায় গান্ধী-নেহরু, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এমকে স্ট্যালিন

দেশ4 hours ago

Corona Update: দেশের দৈনিক সংক্রমণে আরও কিছুটা বৃদ্ধি, বাড়ল সুস্থতাও

রাজ্য4 hours ago

Bengal Corona Update: গ্রামাঞ্চলেও দাপট বাড়ছে করোনার, মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্য5 hours ago

Bengal Corona Update: থমকে গিয়েছে নিম্নগামী যাত্রা, পর পর পাঁচ দিন রাজ্যের কোভিডমুক্তির হার ঊর্ধ্বমুখী

west bengal lockdown
দেশ5 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের শরণাপন্ন একাধিক রাজ্য, দেখে নিন তালিকা

বিদেশ13 hours ago

বিস্ফোরণে জখম হলেন মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, হাসপাতালে ভরতি

দেশ14 hours ago

মুম্বই বিমানবন্দরে পেটে ভর দিয়ে জরুরি অবতরণ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, যাত্রীরা নিরাপদ

yogi adityanath
দেশ3 days ago

UP Panchayat Polls: বারাণসী, অযোধ্যা, মথুরায় ধরাশায়ী বিজেপি

ক্রিকেট2 days ago

Corona Crisis In IPL: জৈব বলয় ভেদ করে কী ভাবে ঢুকল করোনা, উঠে এল একাধিক কারণ

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

JEE Main 2021: মে মাসের জয়েন্ট এন্ট্রাস (মেইন‌) ২০২১ পরীক্ষা স্থগিত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

রাজ্য2 days ago

Oath Ceremony: তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য3 days ago

Bengal Corona Update: ঊর্ধ্বমুখী দৈনিক সংক্রমণ, তাল মিলিয়ে বাড়ছে সুস্থতাও

election commission of india
রাজ্য3 days ago

নন্দীগ্রামের সেই রিটার্নিং অফিসারের বাড়তি নিরাপত্তা

রাজ্য2 days ago

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবিতে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্য2 days ago

বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ, মেট্রো ও সরকারি বাস অর্ধেক, এক গুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে