বন্দিদশা থেকে মুক্তির স্বাদ: পুজোয় চলুন ঝিলিমিলি

0
এই পথ যদি না শেষ হয়...। ঝিলিমিলি থেকে সুতানের পথে।

ঘরবন্দি শরীর আর মন দু’টোই একটু হাঁফ ছাড়তে চাইছে। তার ওপর দোরগোড়ায় পুজো। ভ্রামণিক বাঙালি পুজোর ছুটিতে ঘরে থাকতে চায় না। কিন্তু এ বার করোনার আবহে বাড়ির বাইরে বেরোনো নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগছেন। করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই দ্বিধা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। দূরের ভ্রমণে না হোক, কাছেপিঠে তো যাওয়াই যায়, তিন-চার দিনের ভ্রমণে। শুধু মাথায় রাখবেন স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা।

এমনই কিছু জায়গার কথা বিশদে জানাচ্ছে খবরঅনলাইন। আজ তৃতীয় পর্বে বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলি।

জঙ্গলের মাঝে উঁচুনিচু পথ আর টিলায় ভরা পাহাড়ি জায়গা ঝিলিমিলি। উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে বেড়াতে বা নিখাদ বিশ্রাম করতে এমনিই ভালো লাগে ঝিলিমিলিতে। তবে আশেপাশে বেশ কিছু জায়গা আছে দেখার।

তালবেড়িয়া ড্যাম।

ঘোরাঘুরি

তালবেড়িয়া ড্যাম – ঝিলিমিলি থেকে ৪ কিমি। পাহাড়ে ঘেরা জলাধারটি বেশ নান্দনিক।

সুতান – সুতানের জঙ্গল-পাহাড় ঝিলিমিলি থেকে ৪ কিমি, তালবেড়িয়া ড্যাম থেকে ১৬ কিমি।     

দুয়ারসিনি – ঝিলিমিলি থেকে ৩১ কিমি, চলুন বান্দোয়ান হয়ে। পাহাড় আর শাল, পিয়াল, শিমূল, পলাশ, বহেড়ার জঙ্গলে ঘেরা দুয়ারসিনি। এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে সাতগুড়ুং নদী। ঝিলিমিলি ফেরার পথে দেখে নিতে পারেন ভালোপাহাড়। দুয়ারসিনি থেকে ৫ কিমি। মেনিঝুরি, সোনাঝুরি, শিমুল, পলাশে ছাওয়া টিলা টিলা পাহাড় – আদিবাসীদের বাস। স্থাপত্য-ভাস্কর্য-চারুকলায় এক অতীত সভ্যতার নিদর্শন প্রাচীরে ঘেরা ভালোপাহাড়।

সুতান।

মুকুটমণিপুর – পাহাড়, জঙ্গল আর জলাধার নিয়ে মুকুটমণিপুর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র, ঝিলিমিলি ৩৭ কিমি।  

বেলপাহাড়ি – ঝিলিমিলি থেকে ২৮ কিমি। বেলপাহাড়ি থেকে দেখে নিন –

(১) ঘাগরা ফলস্‌ – বেলপাহাড়ি থেকে ৬ কিমি। শাল-পিয়াল-অমলতাস-ইউক্যালিপটাসের বনবাসরে এলোমেলো পাথরখণ্ডের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাগরার দুদ্দাড় এগিয়ে চলা।   

(২) তারাফেনি ড্যাম – ঘাগরা ফলস্‌ থেকে সাড়ে ৪ কিমি, বেলপাহাড়ি থেকে সাড়ে ৭ কিমি। তারাফেনি নদীর জলধারা নিস্তব্ধতা ভাঙছে নির্জন বনভূমির।     

ঘাগরা ফলস্‌।

(৩) খান্ডারিনি লেক – বেলপাহাড়ি থেকে ৯ কিমি, পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা জলাধার।

(৪) গাদরাসিনি পাহাড় – বেলপাহাড়ি থেকে ৯ কিমি, খান্ডারিনি লেক থেকে ২ কিমি। এখানকার নিস্তব্ধতা আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে। পাহাড়ের পাদদেশে গাদরাসিনি আশ্রম। পাহাড় শীর্ষে রয়েছে শিব ও বিষ্ণুর মন্দির। অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে হলে চলুন দেবী মা গুহা ও জগদানন্দ সিদ্ধি গুহা।

(৫) লালজল গুহা – আদিম মানবের গুহা দেখতে চলুন লালজল গুহা, বেলপাহাড়ি থেকে ২০ কিমি, খান্ডারিনি লেক থেকে ১৩ কিমি, গাদরাসিনি পাহাড় থেকে ১৫ কিমি। প্রাকৃতিক রহস্যের এক জায়গা লালজল। তামা ও লোহার উপস্থিতির কারণে এখানকার জল লালচে। তাই জায়গার নাম লালজল। বেলপাহাড়ির এই অঞ্চলের আদিম মানবের গুহা আছে।

(৬) কাঁকড়াঝোড় জঙ্গল – শাল, পিয়াল, কেন্দু, শিমুল, বহেরা, হরিতকী ইত্যাদি গাছে ভরা কাঁকড়াঝোড় জঙ্গল বেলপাহাড়ি থেকে ২৩ কিমি, লালজল গুহা থেকে ১৯ কিমি।

ঢাঙিকুসুম।

(৭) ঢাঙিকুসুম ও ডুংরি ফলস্‌ – কাঁকড়াঝোড়ের পথে চিরাকুটি গিয়ে বাঁ দিকের পথ, দূরত্ব ১৫ কিমি। পৌঁছে যাবেন ঢাঙিকুসুম ভিউ পয়েন্টে। ঢাঙিকুসুম থেকে ১ কিমি দূরে ঢাঙিকুসুম ফলস্‌, স্থানীয়রা বলেন ডুংরি ফলস্‌। পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে বসে রয়েছে ঢাঙিকুসুম। আর গ্রাম থেকে নিস্তব্ধ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে খানিকটা হেঁটে গেলেই কানে আসবে ঝরনার জলধারার সুমধুর ধ্বনি, একটু গেলেই চোখে পড়বে ডুংরি ফলস্‌। শেষ-বিকেলে পড়ন্ত সূর্যের আলোয় তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ।  

(৮) কেটকি লেক –  কাঁকড়াঝোড়ের পথে ১৫ কিমি দূরে কেটকি লেক।

(৯) ঘোরাটিকা ড্যাম – কাঁকড়াঝোড় থেকে ১২ কিমি, কেটকি লেক থেকে ২১ কিমি এবং বেলপাহাড়ি থেকে ৩৬ কিমি।     

(১০) কানাইশ্বর হিল (পাহাড় পূজা) – বেলপাহাড়ি থেকে ১০ কিমি। পাহাড়দেবতার পূজার জন্য বিখ্যাত। শরৎকালে পাঁচ দিনের জন্য আদিবাসীদের ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।     জুলাই মাসে পাহাড় শীর্ষে গ্রাম্য মেলা বসে। পরিবেশ ভারী উপভোগ্য।

ঝিলিমিলি থেকে বেলপাহাড়ি যাওয়ার পথে।

যাতায়াত

ঝিলিমিলি যাওয়ার সুবিধাজনক উপায় ট্রেনে ঝাড়গ্রাম যাওয়া সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে ঝিলিমিলি যাওয়া। ঝাড়গ্রাম থেকে বিনপুর, বেলপাহাড়ি হয়ে ঝিলিমিলি ৬৫ কিমি।

বাসে যেতে হলে বেলপাহাড়িতে বদল করতে হতে পারে। ঝিলিমিলি থেকে ফেরাও সে ভাবে। ঝাড়গ্রাম থেকে ট্রেন ধরা।

কলকাতা থেকে হাওড়া-টিটলাগড় সুপারফাস্ট স্পেশালে চলুন ঝাড়গ্রাম। হাওড়া থেকে  সকাল ৬.৩৫-এ ছেড়ে ঝাড়গ্রাম পৌঁছোয় সকাল ৮.৪৭-এ।

ওই ট্রেনেই ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরুন। টিটলাগড়-হাওড়া সুপারফাস্ট স্পেশাল বিকেল ৩.২৫ মিনিটে ঝাড়গ্রাম ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় সন্ধ্যা ৬.১৫-য়।

রিমিল ইকো ট্যুরিজম তথা রিমিল লজ।

কলকাতা থেকে টানা সড়কপথেও ঝিলিমিলি যাওয়া যায়। পথ: (১) জাতীয় সড়ক ১৬ (বম্বে রোড) দিয়ে খড়গপুর হয়ে লোধাশুলি মোড়। তার পর ঝাড়গ্রাম, বিনপুর, বেলপাহাড়ি হয়ে ঝিলিমিলি, দূরত্ব ২৩৫ কিমি; (২) রাজ্য সড়ক ২ অর্থাৎ ডানকুনি, চাঁপাডাঙা, আরামবাগ, কোতলপুর, বিষ্ণুপুর, খাতড়া, রানিবাঁধ হয়ে ঝিলিমিলি, দূরত্ব ২৩৭ কিমি।

থাকাখাওয়া

ঝিলিমিলিতে থাকুন রিমিল ইকো ট্যুরিজম-এ, যা রিমিল লজ নামে পরিচিত। যোগাযোগ: ০৮৫৩৮৮ ৩৪০৩১।

রিমিল লজের একাংশ।

মনে রাখুন

(১) টিকার দু’টি ডোজের সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখবেন। না হলে আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট।

(২) বেলপাহাড়ির সব দ্রষ্টব্য এক দিনে দেখতে পারবেন না। ঝিলিমিলিতে যেখানে থাকবেন সেখানকার কর্মীদের অথবা বেলপাহাড়ি পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জেনে নেবেন।

(৩) ঘোরাঘুরির জন্য ঝিলিমিলি থেকে গাড়ি পেয়ে যাবেন।

আরও পড়তে পারেন

বন্দিদশা থেকে মুক্তির স্বাদ: পুজোয় চলুন কাশীরাম দাসের সিঙ্গি গ্রাম

বন্দিদশা থেকে মুক্তির স্বাদ: পুজোয় চলুন ঘাটশিলা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন