giant wheel on iscon temple

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: নদিয়ার মায়াপুরের ইস্কন মন্দির আগাগোড়া পর্যটকদের ফেভারিট ডেস্টিনেশন। নানা উৎসব-অনুষ্ঠানের দিন তো বটেই, দেশি বিদেশি বহু পর্যটক এবং পুণ্যার্থী সারা বছর ভিড় করেন এখানে। এখানকার সুদৃশ্য মন্দির ও বিগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র। সেই মুকুটে যোগ হল নতুন পালক। মায়াপুর ইস্কনের নির্মীয়মান নতুন মন্দিরের শীর্ষে  স্থাপিত হল একটি বিশালাকার চক্র।

মায়াপুর ইস্কন চত্বরে আগে থেকেই মন্দির আছে। তবে সেই চত্বরে একটি বড়ো মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত ২০০৯ সালে, যার নাম বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়াম। এই মন্দিরের আয়তন চার লক্ষ বর্গফুট। বিশাল এলাকা নিয়ে সুউচ্চ এই মন্দির পৃথিবীর বৃহত্তম বলেই জানিয়েছেন মায়াপুর ইস্কন কর্তৃপক্ষ। মায়াপুর ইস্কনের জনসংযোগ আধিকারিক রমেশ মহারাজ বলেন, “উচ্চতা এবং আয়তনে এই বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়াম হবে পৃথিবীর বৃহত্তম। ১০ হাজার মানুষের একত্রে স্থান সংকুলান হবে এখানে। আয়তনে এটি হবে গিজার পিরামিডের সমান।”

প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মন্দির তৈরি হচ্ছে। ২০২২ সাল নাগাদ এই মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা। সেই মন্দিরের মাথায় বুধবার বসল এই বিশালাকার জায়ান্ট হুইল বা চক্র। আগাগোড়া স্টেনলেস স্টিলের তৈরি চক্রের ওপরে রয়েছে রঙিন আস্তরণ। এর খরচ পড়েছে ১৫ কোটি টাকা। এর উচ্চতা প্রায় ২১ ফুট। তৈরি হয়েছে রাশিয়ায়। এর ওজন দেড় টন।

এই বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়ামের ফিনান্স কমিটির প্রধান হলেন মায়াপুর ইস্কনের শিষ্য আলফ্রেড ফোর্ড তথা অম্বরীশ দাস। সম্পর্কে তিনি প্রখ্যাত মোটরগাড়ি নির্মাণ সংস্থার মালিক হেনরি ফোর্ডের প্রপৌত্র। বৈদিক প্ল্যানেটোরিয়াম এবং এই চক্র নির্মাণে সহায়তা করেছেন আলফ্রেড। এ দিন চক্র প্রতিষ্ঠার সময়ে উপস্থিত ছিলেন আলফ্রেড ফোর্ড এবং তাঁর স্ত্রী শর্মিলা ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরেই এই মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে। আর তা নিয়ে মানুষের আগ্রহের অন্ত নেই। এই বৃহত্তম মন্দিরের শোভা বর্ধন করবে এই চক্র।

মন্দিরের শীর্ষে এই চক্র স্থাপনের আগে বুধবার সকালে প্রভুপাদ এবং প্রভু নিত্যানন্দের পাদুকা নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। ইস্কনের ভক্ত শিষ্যরা বক্তব্য রাখেন। ভক্তিমূলক গান বাজানো হয়। এর পর হয় মহাসুদর্শন যজ্ঞ, আরতি। পরে দুপুরে চক্র অভিষেকের পর মন্দিরের চুড়ায় স্থাপিত হয় চক্র। ইস্কন সুত্রে জানা গেছে, নির্মীয়মাণ মন্দিরের ভেতরে থাকবে নানা ত্রিমাত্রিক মুর্তি ও বিগ্রহ। যার মাধ্যমে বৈদিক সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হবে। থাকবে রাধাকৃষ্ণ ও অষ্টসখী, শ্রীচৈতন্যদেব এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবীয় পরম্পরা আচার্যদের বিগ্রহ। নির্মীয়মাণ মন্দির আগামী ২০২২ সালের মার্চ মাসে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলফ্রেড ফোর্ড। এই নতুন চক্র আগামী দিনে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here