চলছে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। নিজস্ব চিত্র
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: বসে আঁকো প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে দামামা বেজে গেল জয়পুর পর্যটন উৎসবের। ২০১৬ সালে বাঁকুড়ার জয়পুর এলাকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে উদ্যোগ নেন এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, শুরু হয় জয়পুর পর্যটন উৎসব। তৃতীয় বছরের এই পর্যটন উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৫ ডিসেম্বর। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। উপস্থিত থাকবেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও-সহ আরও অনেকে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জয়পুর বিডিও অফিস সংলগ্ন মাঠ, গোকুলচাঁদ মন্দির ও ভাস্করানন্দ মঞ্চে পাঁচ দিনের এই পর্যটন উৎসব চলবে বলে জানা গেছে।

এই প্রসঙ্গে উৎসব কমিটির সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, “জয়পুরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে বর্তমান জনসমাজের কাছে তুলে ধরতে ও এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।” জয়পুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে হাজার হাজার পর্যটক সারা বছর ধরেই ভিড় জমান। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে বাঁধ সংস্কার করে পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য কটেজ তৈরি হচ্ছে। মাকড়া পাথরে তৈরি বাঁকুড়া জেলার জেলার সব থেকে বড়ো মন্দির গোকুলচাঁদ মন্দির এখানেই রয়েছে। এ ছাড়াও পর্যটকরা স্থানীয় দে পাড়া, কোলে পাড়ার প্রাচীন মন্দির-সহ রাজগ্রামের রাজবাড়ি দেখার সুযোগ পাবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান শ্যামলবাবু।

আরও পড়ুন শীতে চলুন জয়চণ্ডী পাহাড়, রাত কাটান এইখানে

একই সঙ্গে মল্লরাজবংশের সূচনার কালে মল্লরাজাদের প্রাচীন রাজধানী ছিল এই জয়পুরের প্রদ্যুম্নগড়। যদিও পরবর্তীকালে তাঁরা বিষ্ণুপুরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তাই মল্লরাজাদের আদি রাজধানী প্রদ্যুম্নগড়ের পাশপাশি অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলিও দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। জয়পুর পর্যটন উৎসব একদিন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নেবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

বিডিও বিট্টু ভৌমিক বলেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বর জয়পুর পর্যটন উৎসব উপলক্ষে ‘রান ফর হেরিটেজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে পুরুষ ও মহিলাদের ম্যারাথন দৌড় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ওই দিন দিনরাতের ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জয়পুরের সংস্কৃতি, পর্যটন ক্ষেত্রগুলি সকলের সামনে তুলে ধরতে এই উৎসবে সকলকে আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here