travel and tourism bajar
শ্রয়ণ সেন

আগরতলার উজ্জ্বন্ত প্রাসাদ হোক বা কচ্ছের রন, হিমাচলের পং ড্যাম হোক বা ওয়ারাঙ্গেলের কাকাতীয়দের দুর্গ। একটা ছোট্টো চক্কর, আর আপনি এক লহমায় ভ্রমণ করে নিতে পারেন সব কিছু। এই সুযোগ আপনাকে করে দিচ্ছে ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম বাজার  তথা টিটিবি।

নেতাজি ইনডোর এবং ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আয়োজিত হওয়া বার্ষিক ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের তুলনায় এই বাজারের জৌলুস কম হলেও বাড়ির কাছে মানসভ্রমণের এ রকম সুযোগ কিন্তু আপনি আর পাবেন না।

আগে বলি এই বাজার থুড়ি মেলা কোথায় বসেছে? বাইপাসে মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির ঠিক উলটো দিকে আগুয়ান সংঘের মাঠে, শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। চলবে রবিবার পর্যন্ত। রুবির দিক থেকে হোক বা গড়িয়ার দিক থেকে, আপনি যে দিক দিয়েই আসুন, মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির সামনে নামলেই বুঝে যাবেন। আর আপনাকে সহায়তা করার জন্য বিশাল বিশাল ফেস্টুন তো আছেই।

জৌলুস কম কেন বলছি? কারণ টিটিএফ যখন হয়, তখন তো মানুষের মন উড়ু উড়ু। চার মাস পরেই পুজো, তার পরেই কু ঝিক ঝিক। উলটো দিকে এখন তো আর বেড়ানোর সময় নয়। কত আর মানুষ বেড়াতে যান! তাই মেলায় যখন ঢুকলাম, বেশ ফাঁকা ফাঁকা ব্যাপারটা দেখে অবাকই হলাম। আবার একটা আনন্দও পেলাম এই ভেবে যে নিজের পছন্দের স্টলে বেশ কিছুটা সময় খরচ করা যাবে। পেছন থেকে বিরক্ত করার কেউ নেই।

আগেই বলেছি ভিড় কম, তবে আমার চোখে যা পড়ল, দেখলাম গুজরাত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। ভোটের হাওয়া কি গুজরাতের প্রতি মানুষের টান বাড়িয়ে দিয়েছে কি না সেটা বুঝলাম না। গুজরাত পর্যটনের স্টলে কচ্ছের প্যাম্ফলেটটি উলটে পালটে দেখছিলেন যাদবপুরের অনিমেষ বিশ্বাস। মনে হল বেশ উৎসাহ নিয়েই দেখছেন। কাছে গিয়ে দু’চারটে কথা বলা গেল।

“গুজরাত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?”

“ওই আর কি, ভাবছি যদি যাওয়া যায়। এখন তো আবার রন উৎসব শুরু হয়েছে দেখলাম। মাস দুয়েক চলবে। ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় কি না দেখি। তেমন হলে প্লেনেও যেতে পারি।” গুজরাতের বাকি অংশের থেকে এই কচ্ছের প্রতি তাঁর আকর্ষণ যে অনেক বেশি সেটা জানাতে ভোলেননি অনিমেষবাবু। তাঁর কথায়, “ছোটোবেলা থেকে কচ্ছের ব্যাপারে পড়াশোনা করেছি। ভারী অবাক লাগে। মরুভুমিও নয়, আবার মরুভুমির মতো। একবার চোখে না দেখলে ঠিক মন ভরবে না।” উল্লেখ্য, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রন উৎসব চলবে।”

হিমাচল নিয়েও মানুষের আগ্রহ রয়েছে দেখলাম, কিন্তু অবাক লাগল ত্রিপুরা বা ঝাড়খণ্ডের প্রতি বিশেষ আগ্রহ না দেখে। যদিও মানুষকে টানার জন্য কোনো কসুরই করেনি এই স্টলগুলোও। মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল বা কাশ্মীরের মতো পর্যটন সংস্থাগুলির অনুপস্থিতি যেন একটু বেশি নজর কাড়ল।

গত ন’বছর ধরে কলকাতায় আয়োজিত হচ্ছে এই টিটিবি। মূলত উত্তরপূর্ব ভারতকেন্দ্রিক এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। কলকাতা ছাড়াও রাঁচি, শিলং-এও এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। ভবিষ্যতে এই প্রদর্শনী আরও বড়ো হয়ে উঠুক, আরও অনেক পর্যটন এখানে যোগদান করুক, এই আশা রাখব।

আর হ্যাঁ, শেষ করার আগে বলে দিই, রবিবার যদি আপনি ফ্রি থাকেন, ভাবেন বাড়িতে বসেই কাটিয়ে দেবেন, তা হলে অনুরোধ, একবার এই প্রদর্শনী ঘুরে যান। আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হন, আপনার মন ভালো হবেই।”

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here