হাজারদুয়ারিকে তো আগেই সাজিয়েগুছিয়ে তোলা হয়েছে, এ বার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মোতিঝিল। মোতিঝিল নতুন করে সেজে ওঠার পর পর্যটকদের কাছে ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদের আকর্ষণ এখন বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। এবং মজার কথা হল, পর্যটক সংখ্যার দিক থেকে প্রকৃতিতীর্থ মোতিঝিল পর্যটনকেন্দ্র পিছনে ফেলে দিয়েছে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ ও সংগ্রহশালাকে। গত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোতিঝিল দেখেছেন ২ লক্ষ ৬ হাজার ৩৪১ জন, আর হাজারদুয়ারিতে গেছেন ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬০ জন পর্যটক। পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষণ করার জন্য মোতিঝিল পর্যটনকেন্দ্রে সন্ধের পর চলছে ‘সন এ ল্যুমিয়ের’ তথা আলো ও ধ্বনির মাধ্যমে ইতিহাস কথন।

অবহেলায় আর উপেক্ষায় হারিয়ে যেতে বসেছিল প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাস। শেষ মোতিঝিলের সংস্কারে হাত লাগায় রাজ্য পর্যটন দফতর। সাহায্য করে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। মোতিঝিলের ৪৬ একর এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রকৃতিতীর্থ পর্যটনকেন্দ্র। ১৭৫০-৫১ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলিবর্দি খানের জ্যেষ্ঠ জামাতা তথা ঘসেটি বেগমের স্বামী নবাব নওয়াজেস মোহম্মদ খাঁ সুদৃশ্য মোতিঝিল এবং ঝিলের পাড়ে ‘সাংহী দালান’ (শাহী দালান) নামে এক প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এখন সেই প্রাসাদ আর নেই। রয়েছে শুধু দালানের ভিত। এই দালানের সামনেই চেয়ারে বসে এখন আলোচনায় ব্যস্ত ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, জগৎ শেঠ, লর্ড ক্লাইভ আর ওয়াটসন। ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীদের এই শিল্পকর্ম এখন মোতিঝিল বড় আকর্ষণ। বসানো হয়েছে মুর্শিদকুলি খাঁ আর সিরাজের মূর্তিও। সাংহী দালানের প্রবেশপথের তোরণ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ইতিহাসবিদদের পরামর্শ নিয়ে সে সময়ের স্থাপত্যের কথা মাথায় রেখে নতুন তোরণ গড়া হয়েছে।  মুর্শিদকুলি খাঁ থেকে শুরু করে সিরাজ পর্যন্ত, নবাবি আমলের এই ইতিহাস সম্পর্কে পর্যটকদের অবহিত করার জন্য তৈরি হয়েছে সিরাজ-উদ-দৌলা মিউজিয়াম। তৈরি হয়েছে মুঘল গার্ডেন, ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন। প্রায় সাত হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা রয়েছে ফলের বাগান। সেখানে ৪৩টি প্রজাতির আম ও বিভিন্ন  ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে প্রজাপতি আকারের বাটারফ্লাই গার্ডেনে। অশ্বক্ষুরাকৃতি ঝিলটির সংস্কার করে সেখানে পর্যটকদের জন্য বোটিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলছে ১ কিমি দীর্ঘ লাইনে টয়ট্রেন। মিউজিক্যাল ফাউন্টেন নামে প্রায় ৮০ ফুট উঁচু নৃত্যরত ঝরনা তৈরি হয়েছে। লোকগান ও লোকনৃত্য পরিবেশনের জন্য মুক্তমঞ্চ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আছে ক্যান্টিন ও মালপত্র রাখার জায়গা। ভবিষ্যতে মোতিঝিল এবং সিরাজের সমাধি খোসবাগের মধ্যে রোপওয়ে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে পর্যটন দফতরের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here