চলুন নন্দনকানন ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এ

0

খবর অনলাইন: গত বুধবার থেকে খুলে গেল ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স। ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় ভুইন্দার উপত্যকায় অবস্থিত সাড়ে ৮৭ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত উত্তরাখণ্ডের এই বিখ্যাত পুষ্প উপত্যকাটি খোলা থাকবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এর ডিএফও চন্দ্রশেখর যোশী জানান, প্রথম দিনেই ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে ট্রেকার্সদের কাছ থেকে। ১০০-এর বেশি পর্যটক এ দিন সেখানে যান। আপাতত আবহাওয়া খুব ভালো। রাস্তাও পরিষ্কার।

ঘাংঘারিয়া থেকে ১ কিমি ট্রেক করে গেলে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এর প্রবেশফটক। এখানে জনপ্রতি ১৫০ টাকার (বিদেশি হলে ৬৫০ টাকা) টিকিট কেটে উপত্যকায় ঢুকতে হয়। সারা দিন সেখানে কাটিয়ে সূর্যাস্তের আগেই ফিরে আসতে হয় ঘাংঘারিয়ায়।

২০১৩-এর উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের পর এই পথে পর্যটকের সংখ্যা খুব কমে গিয়েছিল। এ বার রাজ্য সরকারের আশা, পর্যটক বাড়বে। যোশীমঠ ছাড়িয়ে গোবিন্দঘাট পর্যন্ত এসে তার পর অলকানন্দার উপর তৈরি নতুন সেতু পেরিয়ে পুলনা গ্রামে ঢোকার আগে পর্যন্ত জিপে যাওয়া যায়। তার পর হাঁটা পথ। এখান থেকে ভুইন্দার গ্রাম ৮ কিমি, তার পর ৬ কিমি হাঁটলে ঘাংঘারিয়া। ২০১৩-এর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল এই সব অঞ্চলে। এখন অনেক কিছুই নতুন করে তৈরি হয়েছে, এমনকি ঘাংঘারিয়া পর্যন্ত হাঁটাপথটিও।

ঘাংঘারিয়া থেকে কিছুটা এগিয়ে লক্ষ্মণগঙ্গার উপর সেতু পেরিয়ে পথ দু’ ভাগ – বাঁ দিকের পথ গিয়েছে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স তথা নন্দনকাননে আর ডান দিকের পথ শিখতীর্থ হেমকুণ্ড সাহিব। দু’ পথেই ৬ কিমি করে হাঁটা। ঘাংঘারিয়ায় দু’-তিন রাত কাটিয়ে দু’টি জায়গা ঘুরে আসা যায়। ঘাংঘারিয়াতে থাকার জন্য আছে জিএমভিএন-এর গেস্ট হাউস, বেসরকারি হোটেল। এখানকার গুরুদ্বার কর্তৃপক্ষও রাতে থাকার ব্যবস্থা রেখেছেন। গোবিন্দঘাটে পৌঁছে সে দিন যদি ঘাংঘারিয়া না আসা যায়, তা হলে গোবিন্দঘাটে রাত কাটানোর ব্যবস্থা আছে।

বর্ষাকালে যখন দেশের সব জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে, তখন হিমালয়ের নন্দনকাননে বসে ফুলের জলসা। স্থানীয় মানুষদের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ফুলোঁ কি ঘাটী’, সেই ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এ ৫২১ রকম প্রজাতির লতা, গুল্ম ও বৃক্ষের আবাসস্থল। ৩০০ প্রজাতির ফুল ফোটে এখানে। ঘাংঘারিয়ার বন অফিস বা ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এর কনজারভেশন প্রজেক্ট অফিস থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায় যা একটু জেনে গেলে ফুল চিনতে সুবিধা হয়। সঙ্গে এক জন ফুল বিশেষজ্ঞ গাইড নিলে সুবিধা হয়। সাধারণত ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এ ব্রহ্মকমল দেখতে পাওয়া যায় না। হেমকুণ্ড সাহিবে দেখা যায় ব্রহ্মকমল।

উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের পর গত তিনটি মরশুম ভালো ব্যবসা হয়নি এখানকার হোটেল ব্যবসায়ী, গাড়ি ব্যবসায়ী ও গাইডদের। তাঁদের আশা, এ বার তাঁরা তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

পর্যটকদের জন্য আরও সুখবর। ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি চারটি নতুন ট্রেক পথ এ বার খুলে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল কুন্থখাল-হনুমানচট্টি ট্রেক পথ। ৪৫ বছর বন্ধ থাকার পর এটি গত বছরেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়টি হল লতা গ্রাম থেকে ডিব্রুঘেতা ট্রেক পথ। জোশীমঠ থেকে ১৫ কিমি দূরে লতা গ্রাম আসা যায় গাড়িতে। তৃতীয় পথটি হল দ্রোণগিরির পাথুরে পথ ধরে ১৩ কিমি। এখানে ট্রেকাররা কাক ভূষণ্ডি তালের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আর চতুর্থ ট্রেকপথটি ৩২০০ মিটার থেকে ৪০০০ মিটার উচ্চতায় চেনাব উপত্যকা দিয়ে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন