ওয়েবডেস্ক: ক্যালেন্ডার ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এই বছর অন্তত ১৮টা বড়ো সপ্তাহান্ত পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কিছু সপ্তাহান্তে যেমন টানা ছুটি রয়েছে, তেমন অন্য ক্ষেত্রে মাঝের একটা দিন হয়তো আপনাকে ‘সিএল’ ম্যানেজ করতে হতে পারে। তবুও বাঙালির মন তো! একটা ছুটি ঠিক ম্যানেজ হয়ে যাবে।

খুব কাছাকাছি সপ্তাহান্ত দোল। ১ মার্চ বৃহস্পতিবার দোল। পরের দিনটা হোলি। কারও ছুটি আছে, কারও বা নেই। যাঁদের নেই, তাঁরা একটা দিন ‘সিএল’ ম্যানেজ করলে টানা চার দিন ছুটি।

এই সপ্তাহান্তে ঘরের কাছে দিঘা বা বকখালি, শান্তিনিকেতন বা ঘাটশিলা তো যাওয়াই যায়, তবুও আমরা একটু দূরের তিনটে উইকএন্ড ডেসটিনেশনের খোঁজ দিলাম –

১) দার্জিলিং পাহাড়ে

বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় পাহাড়ের রানি দার্জিলিং। গুরুং-এর স্মৃতি ভুলে বিনয় তামাং-এর হাত ধরে পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে। ম্যালে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

বৃহস্পতিবার ১ মার্চ দার্জিলিং পৌঁছে সারা দিন বিশ্রাম আর ম্যালে টুকটাক হাঁটাহাঁটি করে কাটিয়ে দিন। শুক্রবার ভোরে চলুন টাইগার হিল। টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখে ফেরার পথে দেখে নিন বাতাসিয়া লুপ, ঘুম মনেস্ট্রি এবং ডালি মনেস্ট্রি। প্রাতরাশ করে আরও এক দফা বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরে নিন পদ্মজা নাইড়ু চিড়িয়াখানা, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, তেনজিং রক, রোপওয়ে এবং হ্যাপি ভ্যালি টি-এস্টেট। শনিবার মিরিক যেতে পারেন। পথে জোড়পোখরি দেখতে ভুলবেন না।

sunrise at tiger hill
টাইগার হিকে সূর্যোদয়।

কী ভাবে যাবেন

কী ভাবছেন? এত অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনে জায়গা পাবেন কি না? চিন্তা নেই, এখনও একটি ট্রেনে জায়গা আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার শিয়ালদহ থেকে নিউ জলপাইগুড়িগামী শতাব্দী এক্সপ্রেসে চেপে বসুন। ওই রাতটা শিলিগুড়ির কোনো হোটেলে কাটিয়ে দিন। দোলের দিন, অর্থাৎ ১ মার্চ সক্কালে যাত্রা করুন দার্জিলিং-এর উদ্দেশে। বৃহস্পতি, শুক্র, শনি কাটিয়ে দিন এখানে। ফেরার পালা রবিবার। আর বুধবার অফিসের ছুটি ম্যানেজ করতে না পারলে সে দিন রাতে বাসে চলুন। অনেক বাস আছে, জায়গাও অঢেল। বৃহস্পতিবার সকালেই পৌঁছে যান দার্জিলিং। make my trip‘ বা ‘redBus.in’-এর মতো ওয়েবসাইটগুলো দেখে নিন। বাস পেয়ে যাবেন।

কোথায় থাকবেন

কোথায় থাকবেন ভাবছেন? চিন্তা নেই, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইট খুলুন (www.wbtdcl.com) দেখবেন দার্জিলিং টুরিস্ট লজে এখনও জায়গা রয়েছে। তা ছাড়া দার্জিলিং অসংখ্য হোটেল রয়েছে। triviago.in, make my trip, goibibo, yatra.com ইত্যাদির মতো ওয়েবসাইটগুলিতে বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাবেন। অগত্যা আর দেরি কেন! আজই প্ল্যান করে টিকিট কেটে নিন, বুকিং করে নিন দার্জিলিং-এর জন্য।

২) ডুয়ার্স-এর ঝলক

চার দিনের ছুটিতে পুরো ডুয়ার্স ঘোরা সম্ভব নয়। তবুও মংপং আর লাটাগুড়ি ঘুরে নিতে পারেন। আগের সূচির মতো বুধবার ট্রেন বা বাস ধরুন। শিলিগুড়ি থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছে যান মংপং। ওই দিন সারা দিন মংপং-এ বন উন্নয়ন নিগমের চত্বরে ঘুরে বেড়ানো। তিস্তার সঙ্গে জলকেলি করতে করতে কাটিয়ে দিন সময়। শুক্রবার চলুন লাটাগুড়ি। লাটাগুড়িতে থাকুন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বাটাবাড়ি বা টিলাবাড়ি টুরিস্ট কমপ্লেক্সে। শুক্রবার বিকেলে গরুমারার জঙ্গলে সাফারি করুন। শনিবার ঘুরে আসতে পারেন সামসিং, সান্তালেখোলা, প্যারেন, ঝালং, বিন্দু। রবিবার শিলিগুড়ি ফিরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার বাস ধরুন।

WBFDC nature resort at mongpong
মংপং-এ বন উন্নয়ন নিগমের রিসর্ট।

কোথায় থাকবেন

মংপং-এর বন উন্নয়ন নিগমের রিসোর্ট বুক করার জন্য লগইন করুন www.wbfdc.com। লাটাগুড়ির টুরিস্ট কমপ্লেএক্স বুক করার জন্য লগইন করুন www.wbtdcl.com। আর লাটাগুড়িতে অসংখ্য বেসরকারি রিসর্ট তো আছেই। triviago.in, make my trip, goibibo, yatra.com ইত্যাদির মতো ওয়েবসাইটগুলিতে বেসরকারি হোটেলের সন্ধান পাবেন।

৩) দারিংবাড়ি/তারাতারিনি

ওড়িশার দারিংবাড়ির নাম শোনেননি এ রকম বাঙালি খুব কম। দোলের সপ্তাহান্তে দারিংবাড়ির দিকে পা বাড়াতে পারেন। প্রায় ৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ‘ওড়িশার কাশ্মীর’ দারিংবাড়ি। উপভোগ করুন দারিংবাড়ির নিসর্গ। দেখে নিন হিল ভিউ পার্ক, ডুডুবাটা নদীর কোলে ‘নেচার্স প্যারাডাইস’, এমু প্রতিপালন কেন্দ্র, পাইনের জঙ্গল, দুলুরি নদী, কফি বাগান, সানসেট পয়েন্ট, এমডিউবন্ডা ফলস্‌ (১৩ কিমি), মন্ডাসুরু ইকো ট্যুরিজম সেন্টার (৩৫ কিমি) ইত্যাদি।

কী ভাবে যাবেন

তবে এখানে একটা কথা বলে রাখা যেতে পারে, হাওড়া থেকে ব্রহ্মপুরগামী কোনো ট্রেনেই আপনি জায়গা পাবেন না। অগত্যা কী করণীয়! আপনাকে যেতে হবে ভুবনেশ্বর হয়ে। ভুবনেশ্বরগামী দু’টো ট্রেন, জনশতাব্দী এবং পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেসে অনেক জায়গা এখনও রয়েছে। সুতরাং ২৮ হোক বা ১ মার্চ, বেরিয়ে পড়ুন বাড়ি থেকে। ওই দিন রাতে থাকুন ভুবনেশ্বরে। পরের দিন ভুবনেশ্বর থেকে ভাইজাগগামী ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে চেপে বসুন। সে আপনাকে সকাল ১০টার মধ্যে ব্রহ্মপুর নামিয়ে দেবে। এখান থেকে দারিংবাড়ি ১২৫ কিমি। এখান থেকে বাস বা গাড়ি পাবেন।

daringbadi
দারিংবাড়ি।

কোথায় থাকবেন

দারিংবাড়িতে অনিল সোয়েনের ডিয়ার্স ইকো হোম ছাড়া আর গোটা তিনেক জায়গা আছে থাকার। যোগাযোগ: (১) ডিয়ার্স ইকো হোম, ০৯৪৩৮৪ ২২৪৫২; (২) হোটেল পদ্মা, ০৮৮৯৫২ ২৬৮৯৩; (৩) হোটেল ইউটোপিয়া, ০৯৪৩৭৭ ৮১৯৭২; (৪) হোটেল হিল ভিউ, ০৯৪৩৯৩ ৬১২০৩

কিন্তু দারিংবাড়িতে জায়গা না থাকলে কী করবেন?

চিন্তা নেই, চলুন তারাতারিনি। ব্রহ্মপুর থেকে ৩২ কিমি দূরে ঋষিকুল্যা নদীর ধারে অবস্থিত অসাধারণ একটি সুন্দর জায়গা এই তারাতারিনি। এখানে থাকার জন্য রয়েছে নিরুপামা গ্রুপের হোটেল। ওই হোটেলে এখনও অনেক জায়গা ঘর আছে। অনলাইনে বুক করে নিতে পারেন। নিরুপমার ওয়েবসাইটে (https://nirupamagroup.com/)  গিয়ে এই ব্যাপারে সব কিছু জেনে নিতে পারেন।

rushikulya river, taratarini
রুশিকুল্যা নদী, তারাতারিনি।

রুশিকুল্যা নদীর তীরে পাহাড়ে ঘেরা নিরিবিলি তারাতারিণী ওড়িশা পর্যটনের নতুন কেন্দ্র। এখনও বাঙালির কাছে সে ভাবে পরিচিতি পায়নি তারাতারিণী। কিন্তু এখানে দুটো দিন কাটাতে পারলে বেশ ভালো লাগবে। রোপওয়েতে উঠুন তারাতারিণী পাহাড়ে। দেখে নিন তারাতারিণী মন্দির। গাড়িও যায় তারাতারিণী পাহাড়ের মাথায়।

ইচ্ছে হলে পরের দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন ৭০ কিমি দূরে পাহাড়ের ঢালে তপ্তপানি — গরম জলের কুণ্ড ও ডিয়ার পার্ক। আরও ৩০ কিমি গেলে পূর্বঘাট পর্বতের অধিত্যকায় শাল-মহুয়ায় ছাওয়া তিব্বতি বসতি চন্দ্রগিরি। শান্ত পরিবেশ মন ভালো করে দেয়। আরও সাত কিমি গিয়ে পাহাড়ের কোলে দলাই লামার উদ্বোধন করা জিরাং কুলেন মনাস্ট্রি।

কোথাও না গিয়ে শুধু বিশ্রাম করারও আদর্শ জায়গা তারাতারিণী।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন