খবর অনলাইন: হরিদ্বার, প্রয়াগ, নাসিকের পর এ বার পালা উজ্জয়িনীর। বারো বছর পর শিপ্রা-পাড়ের এই শহরে বসতে চলেছে পূর্ণ কুম্ভের আসর। আগামী পরশু, ২২-এ এপ্রিল প্রথম শাহি স্নান দিয়ে শুরু হবে এ বছরের কুম্ভ। প্রায় এক মাসব্যাপী এই মেলা শেষ হবে মে মাসের ২১ তারিখ। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত সমাগম শুরু হয়েছে শহরে। নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসছেন সাধারণ পর্যটকও।  কুম্ভকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে শহর জুড়ে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পদপিষ্টজনিত দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ দল। প্রায় ৩৫০ বিজ্ঞানী আর ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত এই ‘কুম্ভ মেলা এক্সপেরিমেন্ট’ দলটি জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে খেয়াল রাখবে মানুষের গতি-প্রকৃতি, আচার-আচরণ। এর ফলে কোথাও কোনও পদপিষ্টজনিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলেই অন্তত আধ ঘণ্টা আগে এই দলটি তা আন্দাজ করে প্রশাসনকে সতর্ক করবে। কুম্ভমেলা চলাকালীন শহর পরিষ্কার রাখার জন্য প্রায় ৬০,০০০টি শৌচালয়ের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। কুম্ভস্নানের তারিখগুলি হল; ২১ এপ্রিল (প্রথম শাহি স্নান), ৩ মে, ৬ মে (প্রথম প্রমুখ স্নান), ৯ মে (দ্বিতীয় প্রমুখ স্নান), ১১ মে, ১৫ মে, ১৭ মে, ১৯ মে, ২০ মে আর ২১ মে (প্রমুখ শাহি স্নান)। যে সব ঘাটে স্নানপর্ব চলবে সেগুলি হল; রাম ঘাট (প্রধান ঘাট), ত্রিবেণী ঘাট, গৌ ঘাট, মঙ্গলনাথ ঘাট, সিদ্ধবট ঘাট, কবীর ঘাট, ঋণমুক্তেশ্বর ঘাট, ভুকিমাতা ঘাট, দত্ত আখাড়া ঘাট, চিন্তামন ঘাট, প্রশান্তি ধাম ঘাট, সুনহেরি ঘাট আর নরসিংহ ঘাট। কুম্ভ উপলক্ষে উজ্জয়িনী শহরে এবং আশেপাশের কিছু দ্রষ্টব্য স্থান দেখে নেওয়া যেতে পারে:

(১) মহাকালেশ্বর মন্দির :  উজ্জয়িনী স্টেশন থেকে ৩ কিমি, শিপ্রা নদীর পাড়ে। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। (২) বড়া গণেশ মন্দির :  অদূরে হরসিদ্ধি মার্গে পাহাড় ঢালে ট্যাঙ্কের উপর গণেশ মন্দির। (৩) হরসিদ্ধি মাতার মন্দির :  স্বল্প যেতে বিক্রমাদিত্যের আরাধ্যা দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির। (৪) সিদ্ধবট : শিপ্রাতটে বিক্রমাদিত্যের বেতালসিদ্ধ বটবৃক্ষ। (৫) গোপাল মন্দির : রামঘাট থেকে ১ আর স্টেশন থেকে দেড় কিমি দূরে শহরের মধ্যমণি, সিন্ধিয়ারানি বৈজাবাঈয়ের তৈরি। (৬) চিন্তামণি গণেশ মন্দির :  স্টেশন থেকে ৮ কিমি দূরে, শিপ্রার অপর পাড়ে। (৭) যন্তর মন্তর : স্টেশন থেকে ১ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে মহারাজা জয় সিংহের গড়া ৫টি মানমন্দিরের অন্যতম। (৮) ভর্তৃহরি গুহা : শহর থেকে ৭ কিমি উত্তরে শিপ্রার বাম তীরে। (৯) গড়কালিকা মন্দির :  ভর্তৃহরি গুহার কাছেই কালিদাসের বরদাত্রী কালির মন্দির। (১০) পীর মৎস্যেন্দ্রনাথ : গড়কালিকা মন্দির ভর্তৃহরি গুহার কাছেই নাথ সম্প্রদায়ের গুরু মৎস্যেন্দ্রনাথের স্মারক। (১১) কালভৈরব মন্দির : গড়কালিকা থেকে ২ কিমি দূরে ভৈরবগড়ে। (১২) কালিদহ প্যালেস : শহর থেকে ১০ কিমি উত্তরে, রয়েছে নানা কুণ্ড। (১৩) মঙ্গলনাথ মন্দির :  স্টেশন থেকে ৬ কিমি, শিপ্রার ধারে অবস্থিত শিবমন্দির। (১৪) সন্দীপন আশ্রম : শহর থেকে ৩.২ কিমি দূরে কৃষ্ণ, বলরাম, সুদামাদের শিক্ষাগুরু ও কুলগুরু ঋষি সন্দীপনীর আশ্রম।


মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here