royal bengal tiger

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তিনি আদতে প্রসন্ন? সেই জন্যেই কি দর্শন দিচ্ছেন মানুষকে? না কি ক্ষুৎপিপাসায় নিতান্ত কাতর হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ রায়? যার জেরে নিরন্তর আনাগোনা চলছে লোকবসি ঘেঁষে?

সে রহস্যের সমাধা না হলেও চলতি শীতের মরসুমে সুন্দরবনে ঘন ঘন লোকচক্ষুর সামনে আসছেন এই কাঁচাখেকো ঠাকুর! আগে কুলতলিতে ঠাকুরান নদীর একটি অংশ বানচাপড়ির পাড়ে দেখা গিয়েছিল বাঘের পায়ের ছাপ। দক্ষিণ রায়ের পদচিহ্ন মিলেছিল ঝরখালির ৪ নম্বর হেরোভাঙাতেও। কিন্তু ঘটনা সেটুকুতেই থেমে থাকল না। এবার স্বমহিমায় দেখা দিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

পিরখালির জঙ্গলের ধারে নদীর জলে দেখা মিলল একটি পূর্ণবয়স্কা অন্ত‌ঃসত্বা বাঘিনীর। এমনকী, নদী সাঁতরে জঙ্গলের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার সময় বাঘের সঙ্গে মোলাকাত হয়ে গেল পর্যটকদের। সেই সময় কলস দ্বীপের কাছে নদীর উপর দিয়ে যাচ্ছিল একটি পর্যটক-বোঝাই লঞ্চ। আচমকাই নদীর জলে বাঘ দেখতে পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন তাঁরা। কলরব আর ক্যামেরার শাটারের শব্দে নির্জনতা ক্ষুণ্ণ হয় নিসর্গের। তাতেই বিরক্ত হয়ে বাঘটি আর নদী পার হয়নি। বরং, উলটো মুখে ফিরে দ্রুত মিলিয়ে যায় জঙ্গলের গভীরে।

স্বাভাবিক ভাবেই বাঘের এই দুর্লভ দর্শন পর্যটনের জোয়ার এনেছে সুন্দরবনের নদীখাতে। আসলে দক্ষিণ রায়ের দর্শন পাওয়া তো আর মুখের কথা নয়। বছর শেষে নিয়ম করে আসেন পর্যটকরা, ফিরে যান দর্শন না পেয়েই। এ বছরেও কুলতলির কৈখালিতে ভিড় করবেন তাঁরা। সেখান থেকে মিনি লঞ্চ বা বোট নিয়ে সোজা চলে যাবেন আজমলমারি, কলস, হেরোভাঙা জঙ্গলের কাছে। ফলে এই মরসুমে পর্যটন ব্যবসা ভালো হবে বলে আশাবাদী বিভিন্ন লঞ্চ, বোট আর হোটেল মালিকরা। ইতিমধ্যেই বাঘের এমন সুলভ দর্শনের খবর পেয়ে ভিড় জমতে শুরু করেছে সুন্দরবনে।

পর্যটকদের কাছে এ সুখের খবর হলেও সুন্দরবনের গ্রামবাসীরা কিন্তু রয়েছেন আতঙ্কেই। বাঘ নিয়ে বংশানুক্রমে ঘর করার অভিজ্ঞতা তাঁদের বলছে, খাদ্যের অভাব না হলে বাঘ সচরাচর লোকালয়ের কাছ ঘেঁষে না। কিন্তু এবারের ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। প্রথম যখন সুন্দরবনের ঠাকুরান নদীর বানচাপড়ির পাড়ে সোমবার দুপুরে মৎস্যজীবীরা বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান, তখন কুলতলি বন দফতরকে খবর দেন তাঁরা। তার পর ঘটনাস্থলে যান কুলতলির বিট অফিসার বিবেকানন্দ বেরা। তিনি এলাকা পর্যবেক্ষণ করে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন। জানান যে বাঘ জঙ্গলে চলে গিয়েছে।

কিন্তু এখন বাঘের ঘন ঘন আনাগোনা বন দফতরের সেই সিদ্ধান্তও বদলে দিল। ফলে নদীর পাড়ের দেউলবাড়ি, পূর্ব গুরগুরিয়া, ভুবনেশ্বরী গ্রাম এখন সময় কাটাচ্ছে আতঙ্ক বুকে নিয়ে! বলা তো যায় না, হঠাৎ যদি গ্রামে হানা দেন দক্ষিণ রায়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here