sundarban

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: ভরা শীতের মরসুম। নিঃসন্দেহে পর্যটনের সেরা সময়। আর এই সময়েই সুন্দরবনের কুলতলিতে ঠাকুরান নদীর একটি অংশ বানচাপড়ির পাড়ে মিলল বাঘের পায়ের ছাপ। তাতে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে কুলতলি আর মৈপীঠ থানা এলাকাগুলিতে, তেমনই আবার বছরশেষে জঙ্গলে বাঘ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে গিয়েছে।

আসলে দক্ষিণ রায়ের দর্শন পাওয়া তো আর মুখের কথা নয়। বছর শেষে নিয়ম করে আসেন পর্যটকরা, ফিরে যান দর্শন না পেয়েই। এ বছরেও কুলতলির কৈখালিতে ভিড় করবেন তাঁরা। সেখান থেকে মিনি লঞ্চ বা বোট নিয়ে সোজা চলে যাবেন আজমলমারি, কলস, হেরোভাঙা জঙ্গলের কাছে। ভাগ্য সহায় দিলে দেখা মিলেও যাবে বাঘের। পায়ের ছাপ থেকে তেমনটাই আশা করা যাচ্ছে। ফলে এই মরসুমে পর্যটন ব্যবসা ভালো হবে বলে আশাবাদী বিভিন্ন লঞ্চ, বোটের মালিকরা।

সুন্দরবনের ঠাকুরান নদীর বানচাপড়ির পাড়ে সোমবার দুপুরে মৎস্যজীবীরা বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। স্বাভাবিক ভাবেই তাতে প্রথমে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। কুলতলি বন দফতরকে খবর দেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তার পর ঘটনাস্থলে যান কুলতলির বিট অফিসার বিবেকানন্দ বেরা। তিনি এলাকা পর্যবেক্ষণ করে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন। জানান যে বাঘ জঙ্গলে চলে গিয়েছে। যদিও গ্রামবাসীদের ভয় তাতে কাটছে না। নদীর পাড়ের দেউলবাড়ি, পূর্ব গুরগুরিয়া, ভুবনেশ্বরী গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে বাঘ গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে।

এ দিকে বন দফতর সূত্রে খবর, বাঘ সকালে নদীর পাড়ের আজমলমারি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আবার হেরোভাঙা জঙ্গলে ঢুকে গিয়েছে। বাঘের এই আনাগোনায় তার দর্শন পর্যটকরা পেতে পারেন বলে আশা বন দফতর থেকে শুরু করে বিভিন্ন লঞ্চের, বোটের মালিকদের। ঝড়খালিতে কয়েক মাস আগেই বাঘের দর্শন মিলেছিল, আবার বছরশেষে সেই সূত্রে রেকর্ড ভিড় হতে পারে কুলতলিতে। তেমনটারই সম্ভাবনা দেখছে কুলতলি।

সেখানকার এক লঞ্চের মালিক সৌমিত্র দেবনাথ জানান, “পায়ের ছাপে বোঝা গিয়েছে বাঘ আজমলমারি, হেরোভাঙা জঙ্গলে রয়েছে। তাই পর্যটকদের ভিড়ে ব্যবসা জমবে এ বার। সব মিলিয়ে বছরশেষে বাঘের দেখা মেলার আশায় রয়েছি সবাই!”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here