কোভিডের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন, সমস্যার সমাধানে সরকারের দ্বারস্থ ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন

0
পর্যটন ক্ষেত্রের হাল জানাতে পথে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন। (উপরে) ইআইএইচটিএএ। (নীচে) ট্যাব।

কলকাতা: বিশ্বব্যাপী কোভিড অতিমারির জন্য অর্থনীতির যে সব ক্ষেত্র প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম পর্যটনক্ষেত্র। আমাদের দেশেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। করোনার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন ব্যাবসা। এই ব্যাবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের আর্থিক দুর্দশায় দিন কাটছে।

কোভিডের প্রথম ঢেউ ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ের মাঝে কিছু দিনের জন্য পর্যটন ব্যাবসা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। লকডাউনের পর ধীরে ধীরে ট্যুরিজম ব্যাবসা কিছুটা মসৃণ হয়েছে। তা সত্ত্বেও করোনা-কালের আগের মতো লাভের মুখ এখনও দেখেনি পর্যটনক্ষেত্র। ভ্রমণপিয়াসি মানুষ ভ্রমণ-পরিকল্পনা করে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। বেশ বড়ো রকমের ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটন ব্যাবসা।

এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্রিয় হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে ট্যুরিজম ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা। তাঁদের বিভিন্ন সংগঠন সাংবাদিক সম্মেলন করে পর্যটনক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে, সরকারকে অবহিত করার চেষ্টা করছেন। শুধু তা-ই নয়, পথে নেমে, স্মারকলিপি দিয়ে, চিঠি দিয়ে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

ইআইএইচটিএএ-র দাবি       

সোমবার ইস্টার্ন ইন্ডিয়া হোটেলিয়ার্স অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ইআইএইচটিএএ, EIHTAA) পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটন ব্যাবসার বর্তমান দুরবস্থার কথা উঠে এল।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেবকুমার চৌধুরী বলেন, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যেমন যুক্ত রয়েছে হোটেল-রিসর্ট তেমনই যুক্ত রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ অর্থনীতি আজ অনেকটাই নির্ভর করে রয়েছে এই পর্যটন শিল্পের ওপর। পশ্চিমবঙ্গে করোনার যে  বিধি চালু রয়েছে তার ফলে ট্যুরিজম ব্যাবসা অনেকটাই পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তরফ থেকে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সংগঠনের দাবি, এই ট্যুরিজম ব্যবসাতেও ছাড় ঘোষণা করা হোক সরকারের পক্ষ থেকে।

বাসে ট্রামে যে ভাবে মানুষ যাতায়াত করছেন এবং যে ভাবে সব জায়গায় করোনা বিধিমালা মানা হচ্ছে, ট্যুরিজম ব্যাবসাকে খুলে সে ভাবেই যাতে কিছু করা হয় তার জন্য আবেদন জানান সংস্থার যুগ্ম-সম্পাদক দিব্যেন্দু চক্রবর্তী। তিনি চান, পর্যটন ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন এক ছাতার তলায় আসুক।

সাংবাদিক সম্মেলনে ইআইএইচটিএএ।

বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়। সংগঠনের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:

৫০% মানুষ নিয়ে লঞ্চ, লাক্সারি বাস, টুরিস্ট-যান চলা শুরু করা হোক।

ট্যুরিজম ব্যবসার দিকে তাকিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক।

পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ৫০ শতাংশ মানুষ নিয়ে ডুয়ার্সে ও সুন্দরবনে জঙ্গল সাফারি শুরু করা হোক।

বর্তমানে যে রাত্রিকালীন নিষেধাজ্ঞা চলছে তাতে টুরিস্ট যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হোক।

পর্যটন শিল্পকে আরও ভালো ভাবে কী ভাবে গড়ে তোলা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত নথিভূক্ত পর্যটন সংগঠনকে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হোক।

পর্যটন শিল্পে যদি এই ধরনের পতন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং সরকার যদি তাতে কর্ণপাত না করে তা হলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাবে  বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ট্যাব-এর আর্জি

এ দিকে ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (ট্যাব, TABB) চায় রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে জারি করা হোক এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর)। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা চান, ধীরে ধীরে সমস্ত পর্যটনক্ষেত্র খোলার ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, পর্যটকদের মন থেকে ভয় দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক সরকার। এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

অ্যাসোসিয়েশন আরও চায় শুধু কোভিডকালীন ব্যবস্থাই নয়, সামগ্রিক ভাবেই পর্যটনকে নিয়ে রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করুক। পাশাপাশি পর্যটনকে যাতে একটি শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়, তা-ও বিবেচনা করে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছে সংগঠন।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল পর্যটনক্ষেত্র। কিন্তু তৃতীয় ঢেউ শুরু হতেই ফের হোঁচট খেয়েছে পর্যটন। রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলি এখন কার্যত শুনশান। ৩ জানুয়ারি রাজ্যে নতুন করে করোনার কড়াকড়ি চালু হতেই বাংলার সব পর্যটনক্ষেত্রে একই ছবি।

ট্যাবের সাংবাদিক সম্মেলন।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সোমবার একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয় ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের তরফে। অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, রাজ্যের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন তাঁরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে করুণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলেছেন, সে দিকে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে ওই স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিতে আবেদন জানানো হয়েছে, পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন এবং রাজ্য সরকার এক সঙ্গে বসে ভ্রমণপিয়াসিদের জন্য একটি এসওপি তৈরি করুক। এতে শুধু বর্তমান সময়েই নয়, আগামী দিনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যাবে বলে মনে করছে ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল।

উল্লেখ্য, পর্যটনক্ষেত্র নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার ফলে মাথায় হাত পড়েছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের। সমস্যায় পড়েছে বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পর্যটনক্ষেত্রগুলি শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ট্র্যাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল।

ছবি: অভিজিৎ ভট্টাচার্য

আরও পড়তে পারেন

ভারতের কোথায় কোথায় যেতে পারেন ভিস্টাডোম কোচে

বিমানবন্দরের পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও থাকতে হবে কোয়ারান্টাইনে, অষ্টম দিনে করাতে হবে আরটি-পিসিআর, নতুন নির্দেশিকা

চারধাম যাওয়ার তিনটি হারিয়ে যাওয়া হাঁটাপথ খুঁজে পেল বিশেষজ্ঞদল

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন