কলকাতা: ফিফার ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে কলকাতার ‘ব্রাজিল সাপোর্টিং ক্রাউডে’র কথা। দলে দলে মাঠে হলুদ জার্সির কলকাতাবাসী এদিন ম্লান করে দিয়েছিলেন জার্মানির সমর্থকদের। গোটা ফুটবল দুনিয়াই তো জানে জার্মানি ফুটবলটাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তাতে দলটাকে কার্যত অপ্রতিরোধ্য মনে হয়ে বেশিরভাগে সময়। মনে হয়ে যেন তাদের দলগত প্রেসিং ফুটবলের কাছে হার মানতে বাধ্য যে কোনো ব্যাক্তিগত নৈপুণ্য। ভুল তো নয়। আমরা তো ভুলে যাই সহজেই, গত বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি-সহ আর্জেন্টিনার সহজ জোড়া গোল মিস। মনে থাকে শুধু প্রেসিং ফুটবলের উড়তে থাকা জয় পতাকা।

রবিবারের কলকাতা কিন্তু দেখিয়ে দিল, নৈপুণ্যের সঙ্গে টিমগেমের মিশেল যেখন ঝলমল করে, তখন সব ট্যাকটিকসেরই কাঁধ ঝুলে যায়। প্রথমার্ধে জার্মানি যে দাপট নিয়ে খেলছিল, তাতে মনে হচ্ছিল যেন ব্রাজিলের বিদায় কেবল সময়ের অপেক্ষা। ব্রাজিলের ডিফেন্সের ভুলে ২১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েও ছিলেন আর্প। কিছু আক্রমণে ব্রাজিল রক্ষণকে চাপে ফেলেও দিয়েছিল জার্মানরা। কিন্তু গোলমুখ আর খোলেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন পালটে গেল ব্রাজিল। সাম্বার ছন্দে দুলে উঠতে থাকল কানায় কানায় ভর্তি যুবভারতী। ব্রাজিলের ডিফেন্স ভাঙা পাসিং ফুটবল একের পর এক তৈরি করল গোলের সুযোগ। এবং সেগুলো নষ্ট হতে থাকল। এর মধ্যেই ৭১ মিনিটে পরিবর্ত ওয়েভারসনের বাঁদিক দিক থেকে নেওয়া দুরন্ত শট বারের নীচে লেগে ঠুকে গেল গোলে। রক্তের স্বাদ পেয়ে গেল পেলের দেশ।

জার্মানি যেন হঠাৎই হারিয়ে গেল খেলা থেকে। প্রেসিং ফুটবল উধাও। তার মধ্যেই ৭৭ মিনিটে ২৫ মিটার দূর থেকে অসাধারণ শটে বল জালে জড়ালেন আগামীর তারকা পাউলিনহো। জার্মানি তারপর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল কিন্তু গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করল ব্রাজিলই।

আর্প, পাউলিনহো- দুজনেই গোল পেলেন। ৭-১ এর বদলা ২-১-এ হয় না। কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণা থেকে যায় এক রকমই। বড়োদের এবং দেশবাসীর তিন বছর আগের সেই যন্ত্রণাটাই যেন এদিন জার্মানবাসীকে ফিরিয়ে দিলেন ব্রাজিলের ছোটোরা।

বুধবার গুয়াহাটিতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। অন্যদিকে মালির মুখোমুখি হবে স্পেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here