ভারত-১(জ্যাকসন)           কলোম্বিয়া-২(পেনেলোজা ২)

নয়াদিল্লি: খেলার তখন ৮০ মিনিট। ভারত ১ গোলে পিছিয়ে। তখনই এল সেই মুহূর্তটা। কর্নার থেকে উড়ে আসা সেন্টারে মাথা ছোঁয়ালেন মণিপুরের সবজি বিক্রেতার ছেলে জিকসন থাওনাওজাম। বল জড়িয়ে গেল জালে। ইতিহাসে নাম উঠে গেল জিকসনের। ভারতবর্ষের ১৪০ বছরের ফুটবলে এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলা আর এই প্রথম গোল। সোমবার প্রথম থেকেই দিল্লির দর্শকরা ছিলেন অন্যরকম। ফুটবল মাঠে কেমন আচরণ করতে হয়, এই কদিনেই শিখে নিয়েছেন তাঁরা। টানা চলল মেক্সিকান ওয়েভ। আর জ্যাকসনের গোলের পর উল্লাস যেন বাধা মানল না।

বিশ্বকাপ ফুটবলে ভারতের প্রথম গোলটি করলেন জিকসন থাওমাওজাম

কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস শেষ হওয়ার আগেই কলোম্বিয়ার হয়ে জয়সূচক গোলটি করে দিলেন পেনেলোজা। গোলটি চমৎকার। কিন্তু সারাক্ষণ দুরন্ত ফুটবল খেলা ভারতীয় ডিফেন্স, তখনও গোলের উল্লাস শেষ করে সংহত হতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ডিফেন্সের সামান্য গাছাড়া মনোভাবের ফসল তুলে কলোম্বিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ওই পেনেলোজা।

কিন্তু এসবই শুকনো তথ্য। বিশ্ব ফুটবলে কলোম্বিয়া ১০ নম্বরে আর ভারত ১০৭। প্রথমার্ধ যেখন শেষ হয়ে আসছে, কলোম্বিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা যেন থই পাচ্ছে না। হ্যাঁ। সোমবার এমনই দুরন্ত ফুটবল খেলেছে ভারতের কিশোররা। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সারা ফেলে দেওয়া কোমল থাটারকে এদিন নামাননি কোচ মাতোস। নামাননি অনিকেত যাদব সহ আরও তিনজনকে। বোঝাই যাচ্ছে, ব্যক্তিগত স্কিলের থেকে টিমগেমকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন পর্তুগালের কোচ। বিশেষজ্ঞরা হয়তো সমালোচনা করবেন, কিন্তু এদিন ভারতের খেলায় প্রমাণ, মাতোস ভুল ছিলেন না। এদিন কার্ড সমস্যা কাটিয়ে দলে ফিরেছিলেন বরিস সিং। পুরো ম্যাচটাই দুরন্ত ফুটবল খেলে দলকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি।  ভারতের মাঝমাঠকেও সোমবার অনেক বেশি সচল লাগল। বল পজেসনে কলোম্বিয়া এগিয়ে থাকলেও, ভারত যতবার কাউন্টার অ্যাটাক করেছে, চাপে পড়ে গেছে কলোম্বিয়ার ডিফেন্স।

বরিসের দুটো পাস থেকেই প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে যেতে পারত ভারত। ম্যাচের ১৫ মিনিটে বাংলার অভিজিত সরকার কলোম্বিয়ার ডিফেন্সকে পুরোপুরি ভেদ করেও বলটা গোলকিপারের গায়ে মারলেন। আর হাফটাইমের একটু আগে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে মারা রাহুলের শট বারে লাগল। ওই গোলদুটো হলে এদিন তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরত মাতোসের ছেলেরা। মান থাকত গোলকিপার ধীরজ সহ গোটা দলের দুরন্ত ফুটবলের।

তিন পয়েন্ট কেন, শেষ অবধি এক পয়েন্টও আসেনি। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের প্রথম সারির দলের বিরুদ্ধে ভারতের ছেলেরা যে ফুটবলটা খেলল, তাতে আগামী দিনের জন্য আশা রাখাই যায়। শুধু দরকার বড়ো দলের বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতাটা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here