ইংল্যান্ড- ৫(ব্রিউস্টার, গিবস, ফডেন ২, গুয়েহি)   স্পেন- ২(গোমেজ ২)

কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতাকে লন্ডন বানাতে চান বলে বারবার জানিয়েছেন। তাঁর স্বপ্নটা জেনেই নিজেদের অতীতের সাম্রাজ্যের রাজধানীতে রোমাঞ্চকর ফুটবলের নতুন ইতিহাস রচনা করল ব্রিটিশরা। ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে ৫ গোল দিয়ে কোনো দল কোনো স্তরের বিশ্বকাপ ফুটবল এর আগে জেতেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ভয়ঙ্কর চাপের ম্যাচে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করলেন ফডেন, ব্রিউস্টার, গিবসরা। গ্রুপলিগের ম্যাচে কলকাতাই ছিল তাঁদের হোম গ্রাউন্ড। অসম্ভবকে সম্ভব করার এর চেয়ে ভালো জায়গা ভারতে কোথায়ই বা ছিল।

২০১৭ সালটা ব্রিটিশদের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে নিশ্চয়। সেই ১৯৬৬ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। তাতে বিতর্কও ছিল। তার ৬১ বছর পর দু-দুটি বয়স ভিত্তিক বিশ্বকাপ জিতল ব্রিটিশ সিংহরা। গত গ্রীষ্মে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এবার ঘরে তুলল অনূর্ধ্ব ১৭।

১০ মিনিট আর ৩১ মিনিট। বার্সেলোনার তরুণ তারকা সার্জিও গোমেজের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ইংল্যান্ড কিছুটা যেন দিশেহারা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ থেকেই খেলা ধরে নেয় সাদা-নীল জার্সি। প্রথমমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম গোলটি করে ব্যবধান কমান ব্রিউস্টার। এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার একটু পরেই দ্বিতীয় গোল শোধ করেন মরগ্যান গিবস। বাঁ দিক থেকে ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণের কোনো উত্তর ছিল না প্রায় ভেঙে পড়া স্প্যানিশ রক্ষণের কাছে। সেই ভাবেই ৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ফডেন।আর ৮৪ মিনিটে স্প্যানিশদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন গুয়েহি। খেলা শেষ হওয়ার আগে আরও একটি গোল ফডেনের।

ইতিহাস তৈরি করল ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথমার্ধে একের বিরুদ্ধে এক অবস্থায় স্পেন যে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেছিল, সেটা থেকে গোল হলে তারা ৩-০ এগিয়ে যেত। তারপর ম্যাচের রং কেমন হত বলা মুশকিল। তা হোক। মিস তো ফুটবলেরই অঙ্গ। সব মিলিয়েই তো তৈরি হয় রূপকথা। ২০১৭ সালের হেমন্তে যে রূপকথার সাক্ষী থাকল কলকাতা।