spain stars

ওয়েবডেস্ক: যুব বিশ্বকাপে যাঁরা খেলবেন, তাঁরা কেউই এখনও সেই অর্থে তারকা হয়ে ওঠেননি। কিন্তু এখনই নিজেদের দেশের মিডিয়ায় যাবতীয় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন কয়েক জন। নিজেদের প্রতিভার জন্যই যে জাতীয় দলে তাঁরা সুযোগ পেয়েছেন সে কথাও কোনো ভাবেই অস্বীকার করা যায় না।

ইতিমধ্যেই নিজেদের দেশে মিডিয়ায় ভবিষ্যতের মেসি বা ভবিষ্যতের নেইমার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন অনেকেই। বিশ্বকাপের বল গড়ানোর আগে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক কয়েক জন ভবিষ্যতের তারকার ওপরে।

ভিনিশুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

এখনই ‘নেইমার নেক্সট’-এর তকমা জুটেছে তাঁর মাথায়। তাঁর প্রতিভা দেখে ১৬ বছরের এই কিশোরকে এখনই তাদের সিনিয়র দলে সই করিয়ে নিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। বয়স যখন আঠারো হবে তখনই রেয়ালে খেলতে পারবেন তিনি। তিনি যাতে হাতছাড়া না হন সেই জন্য আগেভাগেই তাঁকে সই করিয়ে নিয়েছে রেয়াল। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। সেই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’-ও পেয়েছেন তিনি। আগামী বছরে রাশিয়ার বিশ্বকাপে ভিনিশুসের অভিষেক হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

অ্যালান সুজা গিমারিস (ব্রাজিল)

দশ নম্বর জার্সি পরা  যে কোনো খেলোয়াড়ের ওপরেই আলাদা করে নজর পড়ে। তবে সতেরোর এই কিশোর কিন্তু এখনই ব্রাজিলের মিডিয়ার নজরে চলে এসেছেন। এখনই অনুর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলে ফেলেছেন অ্যালান। তাঁকেও নজরে রেখেছে রেয়াল। ২০১৯ পর্যন্ত পালমিরাস ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে গিমারিসের। তাঁর পরেই সম্ভবত রেয়ালের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। চুক্তিও নাকি প্রায় পাকা। এ বছর বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বে চিলেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি।

আবেল রুইজ (স্পেন)

স্পেনের যুবদলের এই অধিনায়কের গোল করার ক্ষমতার জন্য এখনই জ্‌লাটান ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। স্পেনের হয়ে ১৯টি গোল করে এখনই অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরে সর্বোচ্চ গোলদাতার শিরোপা জুটেছে তাঁর মাথায়। বিশ্বের অনেক দলের নজর এখন স্পেনের এই তারকার দিকে রয়েছে। বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে মাঠে নামলে অনুর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে সব থেকে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড করবেন রুইজ।

সেরখিও গোমেজ (স্পেন)

আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা দলের স্ট্রাইকারের ভূমিকা পালন করেন গোমেজ। রুইজের মতো গোমেজও বার্সেলোনার লা মাজিয়া অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। বিশ্বকাপের পরে আঠারো বছরের গণ্ডি পেরোলেই তাঁকে নেওয়ার জন্য সম্ভবত ঝাঁপিয়ে পড়বে লিভারপুল। বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার জেতার অন্যতম দাবিদার গোমেজ।

মাতিউ মোরে (স্পেন)

স্পেনের অধিনায়ক এই ডিফেন্ডারের নাম দিয়েছেন বুলেট। তার কারণ দুরন্ত গতিতে ওভারল্যাপে উঠে এসে বিপক্ষকে চমকে গোল করে যান মাতিউ। পায়ে জোরালো শট যেমন রয়েছে তেমনই হেড করার নিয়ন্ত্রণও চোখে পড়ার মতো। অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচ ম্যাচে তিনটে গোলও করেছেন তিনি। আঠারো বছর পেরোলে বায়ার্ন মিউনিখে খেলতে দেখা যেতে পারে মোরেকে।

দিয়েগো লিনিয়েজ (মেক্সিকো)

‘মেক্সিকোর মেসি’-এর তকমা জুটছে লিনিয়েজের মাথায়। মেক্সিকোয় ক্লাব ফুটবল খেললেও শোনা যাচ্ছে বিশ্বের অনেক ক্লাবই তাঁর ওপরে নজর রাখছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে না খেললেও, বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর গোল করার ক্ষমতার ওপরেই ভরসা রাখছে মেক্সিকো।

আইরো তোরেস (মেক্সিকো)

airo tores

এই মিডফিল্ডারকে মেক্সিকোর প্রধান স্তম্ভ বলা যেতে পারে। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার জেতেন তোরেস। স্ট্রাইকার হিসেবেও সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। মেক্সিকোর প্রথম সারির ক্লাব আতলাসের সিনিয়র দলেও খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর।

জেডন সাঞ্চো (ইংল্যান্ড)

অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরে জাতীয় দলের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৩টি গোল করে ফেলেছেন সাঞ্চো। পাঁচটি গোল করে অনূর্ধ্ব-১৭ এর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, আর্সেনাল-সহ আরও অনেক ক্লাবের অফার ছিল তাঁর ওপর। কিন্তু তিনি জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ডে সই করেছেন। যাঁকে নিয়ে এ রকম টানাটানি, তিনি যে ভালো কিছু করবেনই সেটা এখনই বলে দেওয়া যায়।

ইয়ান ফিটো আর্প (জার্মানি)

কম সময়ের ব্যবধানে (তেরো মিনিটেরও কম সময়ে) হ্যাটট্রিক করে সবার নজর কেড়েছেন আর্প। অনূর্ধ্ব ১৭ দলের হয়ে তেরোটি গোল করেছেন আর্প। বর্তমানে হামবুর্গের একটি ক্লাবের জুনিয়র দলে খেলছেন তিনি। তবে তাঁর ওপরেও নজর রাখছে বিশ্বের অনেক ক্লাবই। ক্লোজে, ক্লিন্সমান, মুলারের মতো বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকারদের উত্তরসূরি হয়ে ওঠার সব মশলা রয়েছে আর্পের।

অ্যামিন গুইরি (ফ্রান্স)

অনূর্ধ্ব-১৭ এর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে চার ম্যাচে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার শিরোপা উঠেছিল অ্যামিন গুইরির মাথায়। শুধু ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপই নয়, তার আগে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫-১-এ যেতে ফ্রান্স। সেই ম্যাচে পাঁচটা গোলই করেন গুইরি। পেশাদার স্ট্রাইকারের সব গুণই রয়েছে তাঁর। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যাবতীয় আশা এবং ভরসা এই গুইরি।

এই দশ জন ছাড়াও ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে আরও কয়েক জন খেলোয়াড়ের ওপরে। তাঁরা হলেন, ঘানার এরিক আইয়া, যুক্তরাষ্ট্রের জোশ সার্জেন্ট, হোন্দুরাসের কার্লোস মেখিয়া, ব্রাজিলের লিঙ্কন, স্পেনের বিক্তোর গার্সিয়া, মেক্সিকোর দানিয়েল লোপেজ প্রমুখ।

abhijit sarkar
অভিজিৎ সরকার

বিশ্বকাপে নজর থাকবে বাংলার ত্রয়ীয়ের ওপরেও। গোলকিপার তমাল নস্কর, ডিফেন্ডার জিতেন্দ্র সিংহ এবং মিডফিল্ডার অভিজিৎ সরকার বাংলা তথা গোটা দেশের ব্যাটন বহন করবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here