নয়াদিল্লি: যে কোনো স্তরের ফুটবলে এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলল ১২০ কোটির দেশ। তৈরি করল বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ। একটি শট বারে লাগল। দুরন্ত খেললেন গোলকিপার ধীরজ সিং। সারা মাঠ জুড়ে খেলে, বেশ কয়েকবার মার্কিনিদের রক্ষণ ভেঙে দর্শকদের নয়নের মণি হয়ে গেলেন কোমল থাট্টাল। ১, ২, ৩ গোল হয়ে যাওয়ার পরেও একবারও মনে হল না অনূর্ধ্ব ১৭ ভারতীয় দলটার কাঁধ ঝুঁকে গেছে।

হ্যাঁ। প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচে আমেরিকার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেল ভারত। আমেরিকার হয়ে গোল করলেন সার্জেন, ডারকিন ও কার্লটন। প্রথম গোলটা পেনাল্টি থেকে। দুটো দলের মধ্যে এই পার্থক্যটা ছিলই।

কিন্তু এসবই শুকনো তথ্য। আসল কথা হল, ভারত হারল স্পিড, স্ট্যামিনা ও মানসিক শক্তির কাছে। স্কিলের কাছে নয়। পর্তুগিজ কোচ মাতোস সেটা জানতেন। তাই কিছুটা রক্ষণাত্মক ভাবেই দল সাজিয়েছিলেন। তাই হয়তো গোল খাওয়ার পর আক্রমণে উঠেও দ্বিধায় ভুগছিলেন কোমল-অনিকেতরা। মার্কিন বক্সি যখন বল নিয়ে গেছেন কোমলরা, তখনও দেখা গেছে বল দেওয়ার জন্য কোনো সতীর্থকে পাচ্ছেন না তাঁরা। লাগামছাড়া আক্রমণ করতে গেলে হয়তো দুটো গোল ভারত করত কিন্তু ৬টি গোল খেয়েও যেতে পারত। যেভাবে খেলার শেষ দিকে খেয়ে গেল তৃতীয় গোলটা।

তবু ৯০ মিনিটে কখনও মনে হয়নি বল কন্ট্রোল, ড্রিবল, স্কিলে পিছিয়ে আছে নীল জার্সিধারীরা। শারীরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে এই বিশ্বাকাপেই পয়েন্ট পাওয়া হয়তো কঠিন। কিন্তু মাঝমাঠটা আরেকটু সংহত করা যেতেই পারে। আর যেটা হতে পারে, তা হল. এই খেলোয়াড়গুলোকে ধরে রেখে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের নির্মাণের প্রয়াস। সেটা এআইএফএফ-এর হাতে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here