Connect with us

Uncategorized

অক্ষয় তৃতীয়ায় ঘরে নিয়ে আসুন সোনা, জেনে নিন কোথায় মিলবে বিশেষ ছাড়

ওয়েবডেস্কঃ অক্ষয় তৃতীয়া, এই দিনটি অত্যন্ত শুভ সূচনার দিন। কিন্তু এই দিনটিতে ঠিক কী হয়েছিল? অনেকেই হয়তো জানেন না! এর আসল মাহাত্ম্যটা কী, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

অক্ষয় এমনই একটি শব্দ যার কোনও ক্ষয় নেই এবং বিনাশ নেই। বৈশাখ মাসের প্রথম তৃতীয়ায় এই দিনটি পালন করা হয়।এটি অত্যন্ত একটি শুভ দিন। এছাড়া এই দিনটিতে পরশুরামের জন্ম হয়। পরশুরাম ছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। আবার পরশুরামের বংশে শ্রীরামের জন্ম হয়েছিল।

শুধু তাই নয় বেদব্যাস গণেশের সাহায্য নিয়ে এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে মহাভারত লেখা শুরু করেছিলেন। বলা হয়, রাজা ভগীরথ গঙ্গাকে ঠিক এই দিনেই পৃথিবীতে নিয়ে আসেন। পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরেও এই দিনটির অনেক তাৎপর্য রয়েছে। এই শুভদিনেই পুরীতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে রথ বানানো শুরু হয়। কুবেরের ধন-ঐশ্বর্যের কথা কে না জানে। বলা হয়, এ দিনই নাকি কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে ঐশ্বর্য প্রদান করেন। কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয় বলে এ দিন ভৈরব লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। তাই এই দিনটিতে অনেকেই কিছু না কিছু সোনার জিনিস কেনেন।

অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে প্রতিটি সোনার দোকানেই চলছে বিশেষ ছাড়। পিছিয়ে নেই অনলাইন সংস্থাগুলিও। অনলাইনে নামীদামি সংস্থাগুলোতে চলছে বিশেষ ছাড়। যেমন বিশেষ ছাড় দিচ্ছে সেনকো গোল্ডে। এছাড়া আপনি পেয়ে যাচ্ছেন ৬,৩৭৭ থেকে ৭৭,৮৭৫ টাকা পর্যন্ত সোনার কয়েন কেনার বিশেষ সুযোগ। যা মিলবে জয়া লুকাসে। আর দেরি না করে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের সোনা।

এছাড়া সোনার গয়নার দোকানগুলিও অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে মজুরিতে দিচ্ছে বিশেষ ছাড়। জেনে নিন কোন সংস্থা কত ছাড়া দিচ্ছে।

পি সি চন্দ্র-

২২ এপ্রিল পর্যন্ত সোনার কয়েনের ওপরে পেয়ে যাচ্ছেন বিশেষ ছাড়।

তানিস্ক-

সোনা এবং হীরের যেকোন গয়নার ওপরে পেয়ে যাচ্ছেন ২৫ শতাংশের বিশেষ ছাড়। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত থাকছে  এই বিশেষ সুযোগ।

ওরা-

এখানে সোনার গয়নার ওপরে থাকছে ২৭ শতাংশ ছাড় এবং হীরের গয়নার ওপরে থাকছে ৫০ শতাংশের বিশেষ ছাড়। এই সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া না করে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের গয়না।

 

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Uncategorized

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৬/ লিপুলেখ দিয়ে তাকলাকোটে

om parvat

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

৫ আগস্ট। চলেছি কালাপানি, ১০ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়লাম, সাথে জহরভাই আর সুরজভাই, আমার প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। পাহাড়ি পথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। একটি পাকদণ্ডি পথ অতিক্রম করতেই এক সুবিশাল শৃঙ্গ চোখে পড়ল। এতক্ষণ রোদ ঝলমল করছিল শৃঙ্গটি, সহসা দেখলাম কোথা থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল। জলভারে নত মেঘ পর্বতচূড়ায়। পর্বতচূড়ায় মেঘাবরণ, কিন্তু আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। চার দিক ভাসছে সোনালি রোদে।

কখন যেন একা হয়ে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। আমার দুই সঙ্গী পিছিয়ে পড়েছে। জনমানবশূন্য প্রান্তর দিয়ে হেঁটে চলেছি। দূর থেকে চোখে পড়ল বশিষ্টমুনির গুহা। এই সব মুনি-ঋষির যে দৈবিক ক্ষমতা ছিল, তা এই গুহা দেখলেই বোঝা যায়। সামনে পড়ল দু’টি সেতু। সেতু পেরোতেই একটি সুন্দর মন্দিরপ্রাঙ্গণ। শ্বেতশুভ্র মন্দিরটি দেখে দেহের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে কালী নদীর উৎপত্তি। তাই এই জায়গাটির নাম কালাপানি। মন্দিরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। পূজারি আমার হাতে কমণ্ডলুটি দিয়ে বললেন, “অব পানি চড়াইয়ে”। কিছুটা জল ঢেলে কমণ্ডলুটি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি বাকি জল শিবের মাথায় ঢেলে বললেন, হর হর মহাদেব। পূজারিজির মন্ত্রধ্বনিতে মন্দির গমগম করতে লাগল। আমি রোমাঞ্চিত। বেদমন্ত্র জপ করতে লাগলাম।

কালী নদীর উৎপত্তিস্থল।

প্রসাদ হাতে একটু সামনে এগোতেই দেখি চেকপোস্ট। পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। আইটিবিপি-র ক্যাম্প ছাড়িয়েই কেএমভিএন-এর অতিথিশালা। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, মাঝে ছোট্ট এক ফালি জায়গায় আমাদের রাত্রি-আবাস। যথারীতি শরবত খাইয়ে অভ্যর্থনা। গরম জলে স্নান করে শরীর অনেক চাঙ্গা হল।

বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। ৮টা নাগাদ বৃষ্টি একটু কমতেই আমরা রওনা দিলাম। আজ আমাদের গন্তব্য ৯ কিমি দূরের নাবিডাং, উচ্চতা ১৩৯৮০ ফুট। প্রথমেই অনেকটা চড়াই। আজ আমার সঙ্গী পুত্রসম গণেশ। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে চলা। মাঝে আবার বৃষ্টির তেজ বাড়ল। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ভালো ট্রেকিং-শু না পরলে এই পথে হাঁটা খুব দুষ্কর। যারা ভয়ংকরের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অভয়ংকরের প্রসাদে পদে পদে বরাভয় লাভ করে তাদের ঈশ্বরবিশ্বাস পাকা হয়ে যায়।

১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নাবিডাং। কেএমভিএন-এর কর্মী-ভাইরা শরবত তুলে দিলেন। একটু পরেই খাবারের ডাক পড়ে গেল। গরম গরম খিচুড়ি আর পাঁপড়ভাজা, যেন অমৃত। আজ রাতের খাবার সন্ধে ৬টায় দিয়ে দেবে। রাত ২টোয় যাত্রা শুরু হবে।

নাবিডাং বেস ক্যাম্প।

নাবিডাং থেকে ‘ওম’ পর্বতের দর্শন মেলে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফে লেখা ওঁ। কপাল খারাপ। আবহাওয়া এত খারাপ যে কিছুই দেখা গেল না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুচ্ছি। হঠাৎ অনেকের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। ভক্তের কাতর আহ্বানে ঈশ্বর অবশেষে করুণা করলেন। বাইরে এসে দেখি, মেঘ কেটে গিয়েছে। চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে ওঁ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রণাম করলাম।

রাত ১২টায় ঘুম ভেঙে গেল। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাথায় হেডটর্চ লাগিয়ে, গায়ে চার সেট জামা চাপিয়ে, মাথায় ২টো টুপি পরে রওনা হলাম। তবু ঠান্ডা যেন কাটে না। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে গাইড গণেশকে অনুসরণ করে সন্তর্পণে এগিয়ে চললাম। আমাদের গন্তব্য ১২ কিমি দূরে ১৬৭৩০ ফুট উচ্চতায় লিপুলেখ পাস। গণেশ বার বার সতর্ক করে বললল – “স্যর, আপ পনি লিজিয়ে।” আজকের রাস্তা সব থেকে দুর্গম। আমি আবার দুর্গম পথ চলতেই বেশি ভালোবাসি। যে পথে রোমাঞ্চ নেই, সেই পথ আমায় টানে না। আমার ‘প্রভুর’ উপর অগাধ আস্থা। তিনি যদি কৃপা করেন, কোনো পথই আমার কাছে বাধা নয়।

‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপতে জপতে পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে এগিয়ে চললাম। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা পিঁপড়ের মতো লাইন করে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ডান দিকে নদীর জলের শব্দ। হঠাৎ দেখি জহরভাই অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে খাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এক ফুট দূরেই খাদ। সাক্ষাৎ মৃত্যু। হ্যাঁচকা টান দিয়ে জহরভাইকে আমার দিকে টেনে আনলাম। ঈশ্বরের অপার করুণায় এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এই ভাবে একটা পাহাড় থেকে আরেকটা পাহাড় পেরিয়ে চলেছি। গলা শুকিয়ে আসছে। সঙ্গে গরম জল ছিল। একটু খেয়ে তাজা হলাম।

লিপুলেখ পাস যাওয়ার পথ।

খাড়া পাহাড়ে শুধুই হেঁটে চলেছি। সামনে গণেশ, আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। রাতের পাহাড়ে চলার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ এই রাতে আমি উপলব্ধি করলাম, মহারণ্যের নিজস্ব সংগীত আছে। অরণ্য-প্রকৃতির সোঁ সোঁ শব্দ ওঁকারে পরিণত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পর্বতের সানুদেশে এসে পৌঁছোলাম। পুবের আকাশ আলোকিত করে সূর্যদেব উঠছেন। সূর্যের প্রথম আলোয় পর্বতের চূড়াগুলি হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাগ থেকে যে ক্যামেরা বার করব, সে ক্ষমতাও নেই। শুধুই প্রাণভরে দেখা। এই দেখার কোনো শেষ নেই। যত দেখছি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির এই রূপের সন্ধানেই তো আসা। এই রূপে যারা একবার মজেছে, তারা ঘর-সংসার ফেলে বার বার ছুটে আসে।

গণেশের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে রাস্তার বরফ গলে গিয়েছে। না হলে এই পথে হাঁটতে আরও কষ্ট হত। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে লিপুলেখ পাস, ভারত-চিন সীমান্ত। সামনের রাস্তা আরও চড়াই। অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। দু’ পা হাঁটছি, দাঁড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু দাঁড়ালে চলবে না। গণেশ তাড়া দিচ্ছে। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে পা ধরে যাবে। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরের তেজ কমে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম জল শেষ। পকেট থেকে চকোলেট বার করে মুখে দিলাম। এ ভাবেই শরীর আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিন কিমি চড়াই অতিক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছোলাম।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৫/ নবী হয়ে ফের গুনজিতে

শরীরে আর শক্তি নেই। প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছে। গণেশ আমাকে একটা পাথরের আড়ালে বসাল। কিছু খেজুর খেলাম। ধীরে ধীরে শরীরের বল ফিরে পেলাম। গণেশ এখান থেকে ফিরে যাবে। ও আবার ১৫ আগস্ট আসবে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় গণেশরাই ভরসা। এদের ছাড়া পাহাড়ে এক মুহূর্ত চলা যায় না। গণেশ কাল রাত থেকে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে, কিছুই খায়নি। ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো খাবার গণেশকে দিলাম। ওর চোখে জল।

সকাল ৮টা। পাহাড়ের নীচে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ১১ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা উপরে উঠে আসছেন। সঙ্গে চিনা অফিসারেরা। ওঁরা এ পারে এলে আমরা ও পারে যাওয়ার অনুমতি পাব। ওঁরা উপরে উঠে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল লিপুলেখ। ওঁরা আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। পাহাড়ের নীচে দু’টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। গাড়িতে উঠতেই ফলের রস আর আপেল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হল। ফলের রস খেয়ে একটু বল ফিরে পেলাম। গাড়ি ছাড়ল। চললাম তাকলাকোট।

তাকলাকোটের পথ।

তিব্বতের এই ভূমির সঙ্গে আমাদের লে-লাদাখের খুব মিল। কোনো গাছপালা নেই। শুষ্ক মরুভূমি। বিস্তীর্ণ এই রুক্ষ প্রান্তরে শুধু মাটি আর পাথর। বড়ো বড়ো গাছ এনে রাস্তার দু’ পাশে বসানো হচ্ছে। সুন্দর, মসৃণ রাস্তা, কোথাও একটা গর্ত চোখে পড়ল না। তাকলাকোটে পৌঁছে আমাদের নিয়ে গাড়ি পৌঁছোল অভিবাসন দফতরে। সেখানে আমাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মুখের ছবি মেলানো হল। আমাদের পাঁচ আঙুলের ছাপ নেওয়া হল। চোখের মণির ছবি তুলে রাখা হল। এ বার আমাদের গন্তব্য কাস্টমস অফিসে। এখানে আমাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হল। ক্যামেরা আর মোবাইলের সব ছবি দেখে নিলেন অফিসারেরা। সব নিয়নকানুন মিটিয়ে বেলা আড়াইটা নাগাদ হোটেলে এলাম। ঘরে ঢুকে গরম জলে স্নান করতেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। দুপুরে গরম গরম ভাত খেয়ে হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। চোখ জ্বালা করছে। হোটেল ঘরের সুন্দর বিছানায় শরীর ছুড়ে দিলাম।(চলবে)

ছবি: লেখক                          

Continue Reading

Uncategorized

বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি

vivekananda

স্মিতা দাস

তিন ধর্মের উপাসনালয়ের গঠনশৈলির মিশ্রণে তৈরি বেলুড় মঠ। স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এই বেলুড়মঠের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৩৮ সালের ১৪ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়। ৪০ একর জমির উপর অবস্থিত মূল মঠপ্রাঙ্গন।

এই বেলুড় মঠ হল রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের বিশ্বাস অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। এই মন্দিরের মাধ্যমে বিশ্বধর্মের আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। তাই জন্যই বৌদ্ধ, মুসলিম, হিন্দু-সহ একাধিক ধর্মের স্থাপত্য ও প্রতীককে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে গোটা চত্ত্বরের বিভিন্ন স্থাপত্য। মন্দিরের মূল ফটক বৌদ্ধধর্মের স্থাপত্যের আদর্শে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল প্রবেশপথের উপরের অংশে রয়েছে উচ্চ স্তম্ভ। সেই অংশ দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যের কায়দায় নির্মিত। আবার মন্দিরের ভেতরের জানলা বারান্দা উত্তর ভারতের রাজপুত ঘরানার এবং মুঘল স্থাপত্যের শৈলি অনুসরণ করে তৈরি। মূলমন্দিরের মাঝের গম্বুজটিতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। আবার ভিতরের মেঝে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ক্রসের আকারে সুসজ্জিত। স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই মন্দিরের নকশা তৈরি করেছিলেন রামকৃষ্ণদেবের অন্য এক শিষ্য স্বামী বিজ্ঞানানন্দ।

এই হেন বেলুড়মঠ গড়ার পেছনে মা সারদার অবদান ও স্বপ্ন এবং দিকদর্শন যে সাংঘাতিক ভাবে ক্রিয়াশীল ছিল সে কথা বলাই বাহুল্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কাজ চলত আলমবাজারের এই ভাড়া বাড়ি থেকে। জায়গার সমস্যা হওয়ায় কারণে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নীলাম্বর বাবুর বাড়িতে। সেটিও ভাড়া বাড়ি। এই সময়ই বেলুড় মঠের জমিও কেনা হয়েছিল বিদেশি ভক্তদের অর্থানুকুল্যে। সেখানেই আজকের বেলুড়মঠ।

আলমবাজার মঠের ভারপ্রাপ্ত স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, কিন্তু একটা সময় এই হেন বেলুড়মঠের জমিই বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি। এক সময় প্লেগ মহামারী আকার নিল। সেই সময় নিবেদিতাও রয়েছেন বাগবাজারে। অর্থাভাবের কারণে স্বামীজি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিয়ে প্লেগাক্রান্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করবেন। স্বামীজি বলেছিলেন, তাঁরা সন্ন্যাসী মানুষ, গাছ তলাতেও জীবন কাটাতে পারবেন। কিন্তু মানুষের সেবার প্রয়োজন। সেই সময় সারদা মা তাঁকে সেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত করেন। সারদা মা বলেন, “বাবা একটা প্লেগেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? যুগ যুগ ধরে এই বেলুড় মঠ থেকে বহু মানুষের সেবা হবে।“ মায়ের এই কথার প্রেক্ষিতে স্বামীজির সিদ্ধান্ত বদলায়।

Continue Reading

Uncategorized

বাঁশের মণ্ডপ সজ্জায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল

durga idol of ballygunge cultural
smita das
স্মিতা দাস

এই বছর ৬৯তম বর্ষে পা দিল বালিগঞ্জের অন্যতম সেরা পুজো বালিগঞ্জ কালচারালের পুজো। প্রতি বছরই নতুন ভাবনায় মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠে এই ক্লাব। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নেই। এই বছরে তাদের থিম ‘যুগলবন্দি’।

‘যুগলবন্দি’ বলতে আমাদের চার পাশের এমন অনেক কিছুর কথাই মনে পড়ে, যেগুলোকে একে অপরকে ছাড়া ভাবা যায় না। এই পুজোতেও তেমনই বেশ কিছু বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে থিমের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ৮৯তম বর্ষে হিন্দুস্থান পার্কে ‘নবরস’ নিয়ে থিম সাজানো হয়েছে

গোটা মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে বাঁশের মাধ্যমে। আটটি ভিন্ন প্রজাতির বাঁশ দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। তাদের দেখতে যেমন একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তেমনই ব্যবহারিক জীবনে তাদের প্রয়োগ বা ব্যবহারও ভিন্ন।

এই বছর বালিগঞ্জ কালচারালের প্রতিমা গড়েছেন ভাস্কর অরুণ পাল। থিমভাবনা ও মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন বিমান সাহা। প্রতি বারই এখানকার থিম সং সকলের মধ্যে সাড়া ফেলে। এই বারও তাই হয়েছে। থিম সং তৈরি করেছেন ঋষি পান্ডা।

বালিগঞ্জ কালচারালের গত বছর থিম ছিল ‘মেয়ে এসেছে উলু দে, শোলার সাজে সাজিয়ে দে’।

গড়িয়াহাট থেকে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে যেতে বাঁ দিকে এবং রাসবিহারী থেকে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে যেতে ডান দিকে লেক ভিউ রোডে মণ্ডপ।

পুজোর আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন

Continue Reading
Advertisement
বিনোদন5 hours ago

‘সড়ক ২’ পোস্টার: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মহেশ ভাট, আলিয়া ভাটের বিরুদ্ধে মামলা

রাজ্য6 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার দিন আক্রান্তের সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতার হারও

দেশ6 hours ago

নতুন নিয়মে খুলছে তাজমহল!

wfh
ঘরদোর6 hours ago

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন? কাজের গুণমান বাড়াতে এই পরামর্শ মেনে চলুন

দেশ7 hours ago

আতঙ্ক বাড়িয়ে ফের কাঁপল দিল্লি

শিল্প-বাণিজ্য7 hours ago

কোভিড-১৯ মহামারি ভারতীয়দের সঞ্চয়ের অভ্যেস বদলে দিয়েছে: সমীক্ষা

fat
শরীরস্বাস্থ্য7 hours ago

কোমরের পেছনের মেদ কমান এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে

বিদেশ7 hours ago

নরেন্দ্র মোদীর ‘বিস্তারবাদী’ মন্তব্যের পর চিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

নজরে