Connect with us

Uncategorized

নতুন মূদ্রাস্ফীতির সূচকে পরীক্ষা মূলক ভাবে সংযুক্ত হল ১০টি পরিষেবা

ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা মূলক ভাবে ১০‌‌টি পরিষেবাকে নিয়ে শুরু গল প্রডিউসার্স প্রাইস ইনডেস্ক বা পিপিআই। টেলিকম, রেলওয়ে-সহ ১০টি পরিষেবা ক্ষেত্রকে এর অন্তর্ভুক্ত করে আগামী মাস থেকেই পিপিআইয়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রে। এই পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে মূদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতিতে নজরদারি চালাতেই পিপিআইযের পরিকল্পনা। জানা গিয়েছে, টেলিকম, রেলওয়ে ছাড়াও বন্দর, ডাক, বিমা, ব্যাঙ্কিং, পরিবহণ এবং […]

Published

on

ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা মূলক ভাবে ১০‌‌টি পরিষেবাকে নিয়ে শুরু গল প্রডিউসার্স প্রাইস ইনডেস্ক বা পিপিআই। টেলিকম, রেলওয়ে-সহ ১০টি পরিষেবা ক্ষেত্রকে এর অন্তর্ভুক্ত করে আগামী মাস থেকেই পিপিআইয়ের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রে।

এই পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে মূদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতিতে নজরদারি চালাতেই পিপিআইযের পরিকল্পনা। জানা গিয়েছে, টেলিকম, রেলওয়ে ছাড়াও বন্দর, ডাক, বিমা, ব্যাঙ্কিং, পরিবহণ এবং বিমানযাত্রাকেও পিপিআইয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই নজরদারির লক্ষ্য, প্রতিনিয়ত এই সমস্ত পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে কী ভাবে মূদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়ছে, তার উপর পূর্ণাঙ্গ ভাবে নজর রাখা।

Loading videos...

উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রী ভাড়া এবং পণ্যবাহী ট্রেনে পণ্য পরিবহণ থেকে আয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন: বাংলার চারটি রেল স্টেশনে বসল ফ্রি ওয়াইফাই

হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স বা ডব্লিউপিআই এবং কনজিউমার্স প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই ইতিমধ্যেই সরকারি ভাবে বাজারে নজরদারি চালানোর কাজ করে থাকে।

পূর্ববর্তী ইনডেক্স দু’টির পিপিআইয়ের মূল ফারাক, উৎপাদক তার পণ্য বা পরিষেবার জন্য ঠিক কী পরিমাণ মূল্য পাচ্ছেন তার গড় হিবাস উঠে আসবে এই সূচক থেকে।

Uncategorized

কৃষক বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ দিল্লি, কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কেন্দ্রের সংবেদনহীন মনোভাব এবং উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published

on

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক থেকে

খবর অনলাইন ডেস্ক: সাধারণতন্ত্র দিবসে কৃষি আইনের বিরোধিতায় কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

এ দিন দিল্লির একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে প্রতিবাদী কৃষকদের। কেন্দ্রের নয়া তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রায় দু’মাস ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের চরম বহির্প্রকাশ দেখে দেশের রাজধানী। এক কৃষকের মৃত্যু-সহ একাধিক ব্যক্তি এবং পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এ দিনের ঘটনায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

Loading videos...

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এ দিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে একাধিক টুইট করেন মমতা। একটিতে তিনি লিখেছেন, “দিল্লির রাস্তায় উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনাগুলির জন্য আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের প্রতি কেন্দ্রের সংবেদনহীন মনোভাব এবং উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী”।

নতুন কৃষি আইনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা লেখেন, “প্রথমত, এই আইনগুলি কৃষকদের সম্মতি না নিয়েই পাশ করানো হয়েছিল। আর তার পরে টানা দু’মাস ধরে যখন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাকে কেন্দ্রের তরফে যথোপযুক্ত গুরুত্বও দেওয়া হল না। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলি প্রত্যাহার করা উচিত ছিল কেন্দ্রের”।

কৃষি আইন নিয়ে মমতার অবস্থান

শুরুতেই কৃষি আইন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদে বিল পাশ করানো নিয়ে ব্যাপক হইচইয়ের সময়েও খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তৃণমূল সংসদরা। পরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিল পাশ করানোর পরেও আইন বাতিলের দাবিতে পথে নেমেছে তৃণমূল।

সম্প্রতি নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, আমি সব সময় কৃষকের পক্ষে। স্বাভাবিক ভাবেই দেশ এবং কৃষকদের স্বার্থে আমি এই তিনটি কৃষি আইনের বিপক্ষে। এই সূত্রেই রাজ্য বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গত ৮ জানুয়ারি জানান, আগামী ২৭-২৮ জানুয়ারি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত আধা সেনা

Continue Reading

Uncategorized

দেশের ১২টি রাজ্যে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রক

Published

on

coronavirus
সুস্থ হয়ে ফিরছেন করোনারোগী। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বুধবার স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণমন্ত্রক জানাল, দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। এ দিন মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এই জাতীয় গড় ৭৬.৯৮ শতাংশ।

এ দিন সকালে মন্ত্রক জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ২৬ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৯০৮ জন। [বিস্তারিত পড়ুন এখানে: ফের বাড়ল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, তবে দশ লক্ষ টেস্টের পরেও সংক্রমণের হার আট শতাংশের কম] এর মধ্যে ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার জাতীয় গড়েত তুলনায় বেশি।

Loading videos...

কোন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার কত?

*দিল্লি-৮৮.৫০ শতাংশ

*বিহার- ৮৭.৯০ শতাংশ

*তামিলনাড়ু- ৮৬.২০ শতাংশ

*আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ- ৮৫.৯০ শতাংশ

*পশ্চিমবঙ্গ- ৮৩ শতাংশ

*রাজস্থান-৮১.৯০ শতাংশ

*হরিয়ানা- ৮১ শতাংশ

*গুজরাত- ৮০.৮০ শতাংশ

*নাগাল্যান্ড- ৮০ শতাংশ

*দমন ও দিউ এবং দাদর নগর ও হাভেলি- ৮৮.৯০ শতাংশ

**বুধবার সকাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান

শেষ ছ’দিন ৬০ হাজারের উপরে!

অন্য দিকে সরকারি তথ্যে প্রকাশিত, মোট সুস্থ রোগীর ৩০ শতাংশই মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক জানান,ভারতে এখন সুস্থতার হার প্রতিদিনই কিছুটা করে বাড়ছে। সব মিলিয়ে গত মে মাসের তুলনায় এখন সুস্থতার সংখ্যা ৫৮গুণ বেড়েছে। প্রতিদিনই একটা বিশাল সংখ্যক করোনারোগী হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশন থেকে বাইরে আসছেন।

তিনি বলেন, দৈনিক সুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন ৬০ হাজারের উপরেই থাকছে। গত ছ’দিন ধরে এই সংখ্যা ৬০ হাজারের উপরে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের করোনা আপডেট

বুধবার রাজ্যে ফের একবার একদিনে সুস্থ হলেন তিন হাজারের বেশি মানুষ এবং সুস্থ হওয়া মানুষের থেকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে: রাজ্যে ফের এক দিনে আক্রান্তের থেকে সুস্থ হলেন বেশি মানুষ, টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়ল

Continue Reading

Uncategorized

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৬/ লিপুলেখ দিয়ে তাকলাকোটে

Published

on

om parvat

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

Loading videos...

৫ আগস্ট। চলেছি কালাপানি, ১০ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়লাম, সাথে জহরভাই আর সুরজভাই, আমার প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। পাহাড়ি পথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। একটি পাকদণ্ডি পথ অতিক্রম করতেই এক সুবিশাল শৃঙ্গ চোখে পড়ল। এতক্ষণ রোদ ঝলমল করছিল শৃঙ্গটি, সহসা দেখলাম কোথা থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল। জলভারে নত মেঘ পর্বতচূড়ায়। পর্বতচূড়ায় মেঘাবরণ, কিন্তু আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। চার দিক ভাসছে সোনালি রোদে।

কখন যেন একা হয়ে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। আমার দুই সঙ্গী পিছিয়ে পড়েছে। জনমানবশূন্য প্রান্তর দিয়ে হেঁটে চলেছি। দূর থেকে চোখে পড়ল বশিষ্টমুনির গুহা। এই সব মুনি-ঋষির যে দৈবিক ক্ষমতা ছিল, তা এই গুহা দেখলেই বোঝা যায়। সামনে পড়ল দু’টি সেতু। সেতু পেরোতেই একটি সুন্দর মন্দিরপ্রাঙ্গণ। শ্বেতশুভ্র মন্দিরটি দেখে দেহের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে কালী নদীর উৎপত্তি। তাই এই জায়গাটির নাম কালাপানি। মন্দিরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। পূজারি আমার হাতে কমণ্ডলুটি দিয়ে বললেন, “অব পানি চড়াইয়ে”। কিছুটা জল ঢেলে কমণ্ডলুটি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি বাকি জল শিবের মাথায় ঢেলে বললেন, হর হর মহাদেব। পূজারিজির মন্ত্রধ্বনিতে মন্দির গমগম করতে লাগল। আমি রোমাঞ্চিত। বেদমন্ত্র জপ করতে লাগলাম।

কালী নদীর উৎপত্তিস্থল।

প্রসাদ হাতে একটু সামনে এগোতেই দেখি চেকপোস্ট। পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। আইটিবিপি-র ক্যাম্প ছাড়িয়েই কেএমভিএন-এর অতিথিশালা। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, মাঝে ছোট্ট এক ফালি জায়গায় আমাদের রাত্রি-আবাস। যথারীতি শরবত খাইয়ে অভ্যর্থনা। গরম জলে স্নান করে শরীর অনেক চাঙ্গা হল।

বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। ৮টা নাগাদ বৃষ্টি একটু কমতেই আমরা রওনা দিলাম। আজ আমাদের গন্তব্য ৯ কিমি দূরের নাবিডাং, উচ্চতা ১৩৯৮০ ফুট। প্রথমেই অনেকটা চড়াই। আজ আমার সঙ্গী পুত্রসম গণেশ। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে চলা। মাঝে আবার বৃষ্টির তেজ বাড়ল। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ভালো ট্রেকিং-শু না পরলে এই পথে হাঁটা খুব দুষ্কর। যারা ভয়ংকরের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অভয়ংকরের প্রসাদে পদে পদে বরাভয় লাভ করে তাদের ঈশ্বরবিশ্বাস পাকা হয়ে যায়।

১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নাবিডাং। কেএমভিএন-এর কর্মী-ভাইরা শরবত তুলে দিলেন। একটু পরেই খাবারের ডাক পড়ে গেল। গরম গরম খিচুড়ি আর পাঁপড়ভাজা, যেন অমৃত। আজ রাতের খাবার সন্ধে ৬টায় দিয়ে দেবে। রাত ২টোয় যাত্রা শুরু হবে।

নাবিডাং বেস ক্যাম্প।

নাবিডাং থেকে ‘ওম’ পর্বতের দর্শন মেলে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফে লেখা ওঁ। কপাল খারাপ। আবহাওয়া এত খারাপ যে কিছুই দেখা গেল না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুচ্ছি। হঠাৎ অনেকের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। ভক্তের কাতর আহ্বানে ঈশ্বর অবশেষে করুণা করলেন। বাইরে এসে দেখি, মেঘ কেটে গিয়েছে। চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে ওঁ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রণাম করলাম।

রাত ১২টায় ঘুম ভেঙে গেল। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাথায় হেডটর্চ লাগিয়ে, গায়ে চার সেট জামা চাপিয়ে, মাথায় ২টো টুপি পরে রওনা হলাম। তবু ঠান্ডা যেন কাটে না। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে গাইড গণেশকে অনুসরণ করে সন্তর্পণে এগিয়ে চললাম। আমাদের গন্তব্য ১২ কিমি দূরে ১৬৭৩০ ফুট উচ্চতায় লিপুলেখ পাস। গণেশ বার বার সতর্ক করে বললল – “স্যর, আপ পনি লিজিয়ে।” আজকের রাস্তা সব থেকে দুর্গম। আমি আবার দুর্গম পথ চলতেই বেশি ভালোবাসি। যে পথে রোমাঞ্চ নেই, সেই পথ আমায় টানে না। আমার ‘প্রভুর’ উপর অগাধ আস্থা। তিনি যদি কৃপা করেন, কোনো পথই আমার কাছে বাধা নয়।

‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপতে জপতে পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে এগিয়ে চললাম। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা পিঁপড়ের মতো লাইন করে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ডান দিকে নদীর জলের শব্দ। হঠাৎ দেখি জহরভাই অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে খাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এক ফুট দূরেই খাদ। সাক্ষাৎ মৃত্যু। হ্যাঁচকা টান দিয়ে জহরভাইকে আমার দিকে টেনে আনলাম। ঈশ্বরের অপার করুণায় এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এই ভাবে একটা পাহাড় থেকে আরেকটা পাহাড় পেরিয়ে চলেছি। গলা শুকিয়ে আসছে। সঙ্গে গরম জল ছিল। একটু খেয়ে তাজা হলাম।

লিপুলেখ পাস যাওয়ার পথ।

খাড়া পাহাড়ে শুধুই হেঁটে চলেছি। সামনে গণেশ, আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। রাতের পাহাড়ে চলার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ এই রাতে আমি উপলব্ধি করলাম, মহারণ্যের নিজস্ব সংগীত আছে। অরণ্য-প্রকৃতির সোঁ সোঁ শব্দ ওঁকারে পরিণত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পর্বতের সানুদেশে এসে পৌঁছোলাম। পুবের আকাশ আলোকিত করে সূর্যদেব উঠছেন। সূর্যের প্রথম আলোয় পর্বতের চূড়াগুলি হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাগ থেকে যে ক্যামেরা বার করব, সে ক্ষমতাও নেই। শুধুই প্রাণভরে দেখা। এই দেখার কোনো শেষ নেই। যত দেখছি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির এই রূপের সন্ধানেই তো আসা। এই রূপে যারা একবার মজেছে, তারা ঘর-সংসার ফেলে বার বার ছুটে আসে।

গণেশের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে রাস্তার বরফ গলে গিয়েছে। না হলে এই পথে হাঁটতে আরও কষ্ট হত। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে লিপুলেখ পাস, ভারত-চিন সীমান্ত। সামনের রাস্তা আরও চড়াই। অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। দু’ পা হাঁটছি, দাঁড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু দাঁড়ালে চলবে না। গণেশ তাড়া দিচ্ছে। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে পা ধরে যাবে। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরের তেজ কমে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম জল শেষ। পকেট থেকে চকোলেট বার করে মুখে দিলাম। এ ভাবেই শরীর আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিন কিমি চড়াই অতিক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছোলাম।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৫/ নবী হয়ে ফের গুনজিতে

শরীরে আর শক্তি নেই। প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছে। গণেশ আমাকে একটা পাথরের আড়ালে বসাল। কিছু খেজুর খেলাম। ধীরে ধীরে শরীরের বল ফিরে পেলাম। গণেশ এখান থেকে ফিরে যাবে। ও আবার ১৫ আগস্ট আসবে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় গণেশরাই ভরসা। এদের ছাড়া পাহাড়ে এক মুহূর্ত চলা যায় না। গণেশ কাল রাত থেকে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে, কিছুই খায়নি। ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো খাবার গণেশকে দিলাম। ওর চোখে জল।

সকাল ৮টা। পাহাড়ের নীচে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ১১ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা উপরে উঠে আসছেন। সঙ্গে চিনা অফিসারেরা। ওঁরা এ পারে এলে আমরা ও পারে যাওয়ার অনুমতি পাব। ওঁরা উপরে উঠে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল লিপুলেখ। ওঁরা আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। পাহাড়ের নীচে দু’টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। গাড়িতে উঠতেই ফলের রস আর আপেল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হল। ফলের রস খেয়ে একটু বল ফিরে পেলাম। গাড়ি ছাড়ল। চললাম তাকলাকোট।

তাকলাকোটের পথ।

তিব্বতের এই ভূমির সঙ্গে আমাদের লে-লাদাখের খুব মিল। কোনো গাছপালা নেই। শুষ্ক মরুভূমি। বিস্তীর্ণ এই রুক্ষ প্রান্তরে শুধু মাটি আর পাথর। বড়ো বড়ো গাছ এনে রাস্তার দু’ পাশে বসানো হচ্ছে। সুন্দর, মসৃণ রাস্তা, কোথাও একটা গর্ত চোখে পড়ল না। তাকলাকোটে পৌঁছে আমাদের নিয়ে গাড়ি পৌঁছোল অভিবাসন দফতরে। সেখানে আমাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মুখের ছবি মেলানো হল। আমাদের পাঁচ আঙুলের ছাপ নেওয়া হল। চোখের মণির ছবি তুলে রাখা হল। এ বার আমাদের গন্তব্য কাস্টমস অফিসে। এখানে আমাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হল। ক্যামেরা আর মোবাইলের সব ছবি দেখে নিলেন অফিসারেরা। সব নিয়নকানুন মিটিয়ে বেলা আড়াইটা নাগাদ হোটেলে এলাম। ঘরে ঢুকে গরম জলে স্নান করতেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। দুপুরে গরম গরম ভাত খেয়ে হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। চোখ জ্বালা করছে। হোটেল ঘরের সুন্দর বিছানায় শরীর ছুড়ে দিলাম।(চলবে)

ছবি: লেখক                          

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ8 hours ago

Bangladesh Covid Vacination: টিকা ট্রায়ালে চিন অর্থ চাওয়ায় রাজি হয়নি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ8 hours ago

Bangladesh-China Relation: চিনের এমন আচরণ আশা করেনি বাংলাদেশ

দেশ11 hours ago

G-7 Summit: পর্তুগালের পর ইংল্যান্ড যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বিজ্ঞান11 hours ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

রাজ্য12 hours ago

Bengal Corona Update: কুড়ি হাজারের গণ্ডি পেরোল দৈনিক সংক্রমণ, প্রচুর টেস্টর ফলে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের নীচে

coronavirus test
দেশ13 hours ago

আক্রান্তদের ফের আরটি-পিসিআর নয়, কোভিড টেস্টে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের

বিনোদন13 hours ago

‘রাধে’র বক্স অফিস কালেশন হতো ‘জিরো’, হল মালিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সলমন খান

দেশ14 hours ago

Vaccination Drive: জোগান নেই, মহারাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেল কমবয়সিদের টিকাকরণ

বিজ্ঞান3 days ago

কোভিডের ভাইরাস বায়ুবাহিত, ৬ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে, দাবি শীর্ষ মার্কিন সংস্থার

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একই, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতা

ক্রিকেট2 days ago

বিরাট-রোহিত ছাড়াই এক নতুন ভারতীয় দলকে জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে!

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার16 hours ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

প্রবন্ধ3 days ago

এমনই বৈশাখের একটি দিনে মুখোমুখি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীরামকৃষ্ণ

দেশ23 hours ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

দেশ23 hours ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

দেশ3 days ago

ভ্যাকসিন এবং কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জামে ট্যাক্স কেন? মমতার চিঠির পর ১৬টা টুইট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে