Connect with us

Uncategorized

বছরের প্রথম দিন, লাভের কড়ি ঘরে তোলার কথা ভাবতে তো হবেই

বিনিয়োগ মাত্রই লাভদয়ক। তবে সেই বিনিয়োগ হতে হবে সুচিন্তিত। অনেকেই আক্ষেপ করে থাকেন, ওমুক ওই শেয়ারে টাকা ঢেলে সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা যদি ওই সুচিন্তিত পথে করা হয় তা হলে সব হারানোর গল্প মোটই খাটে না। কেউ ভাবতেই পারেন, শেয়ার বাজার তো নিজেই অনিশ্চিত, সেখানে আবার সুনিশ্চিত বিনিয়োগ হয় নাকি। ওয়ারেন বাফেটের একটা বহুপ্রচলিত উক্তি এক্ষেত্রে না বললেই নয়। বাফেট বলছেন, শেয়ারে বিনিয়োগকে সেভিংসে পরিণত করুন। কোনো মাসে একটা শেয়ার ১০টা কিনুন। পরের মাসে যদি দেখেন ওই শেয়ার ব্যাঙ্কের সেভিংস ইন্টারেস্টের থেকে বেশি রিটার্ন দিচ্ছে তা হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকুন। আর যদি উল্টোটা হয় অর্থাৎ যে দরে কেনা হয়েছিল, দাম তার থেকে অনেকটাই পড়ে গিয়েছে তখন পরের মাসে আরও ১০ টা কিনে ফেলুন।এ ভাবেই অনিশ্চিত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকে সুনিশ্চিত করে তুলুন। দেখবেন এ ভাবে দীর্ঘ মেয়াদি ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে থাকলে সুফল মিলবেই।

সাবধান, এক সঙ্গে ২০০-৫০০ একই স্টক কখনোই কিনবেন না। শেয়ার বাজারে ট্রেড পণ্ডিতরা এই কিনুন, ওই কিনুন বলে যতই হাঁক পাড়ুন, কোনো শেয়ার কেনার আগে সেটার অতীত এবং বর্তমান অবস্থান ও চরিত্র ভালো করে জানুন।
২০১৮ সালে শেয়ার বাজার যথেষ্ট শক্তিশালী থাকার যাবতীয় লক্ষণের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নিফটি যে ১০৩৫০ পয়েন্টে স্থায়ী হলে বাজার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে, সে কথা আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি। বাস্তবে হয়েছে-ও তাই। গত শুক্রবার ভারতীয় বাজারের এই শেয়ার সূচক বন্ধ হয়েছে ১০৫৩০ পয়েন্টে। তবে ১০৩৫০-এর পর এর উল্লেখযোগ্য অবস্থান হতে পারে ১০৫৫০।  এর উপরে স্থায়ী হলেই নিফটি আরও জোরালো হয়ে উঠবে।  কারেকশনের গল্প থাকবে।  কিন্তু সেভিংসের আকারে শেয়ারে বিনিয়োগ আপনাকে লাভের কড়ি ঘরে তোলার সুযোগ দেবেই দেবে।
]]>

Uncategorized

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৬/ লিপুলেখ দিয়ে তাকলাকোটে

om parvat

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

৫ আগস্ট। চলেছি কালাপানি, ১০ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়লাম, সাথে জহরভাই আর সুরজভাই, আমার প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। পাহাড়ি পথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। একটি পাকদণ্ডি পথ অতিক্রম করতেই এক সুবিশাল শৃঙ্গ চোখে পড়ল। এতক্ষণ রোদ ঝলমল করছিল শৃঙ্গটি, সহসা দেখলাম কোথা থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল। জলভারে নত মেঘ পর্বতচূড়ায়। পর্বতচূড়ায় মেঘাবরণ, কিন্তু আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। চার দিক ভাসছে সোনালি রোদে।

কখন যেন একা হয়ে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। আমার দুই সঙ্গী পিছিয়ে পড়েছে। জনমানবশূন্য প্রান্তর দিয়ে হেঁটে চলেছি। দূর থেকে চোখে পড়ল বশিষ্টমুনির গুহা। এই সব মুনি-ঋষির যে দৈবিক ক্ষমতা ছিল, তা এই গুহা দেখলেই বোঝা যায়। সামনে পড়ল দু’টি সেতু। সেতু পেরোতেই একটি সুন্দর মন্দিরপ্রাঙ্গণ। শ্বেতশুভ্র মন্দিরটি দেখে দেহের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে কালী নদীর উৎপত্তি। তাই এই জায়গাটির নাম কালাপানি। মন্দিরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। পূজারি আমার হাতে কমণ্ডলুটি দিয়ে বললেন, “অব পানি চড়াইয়ে”। কিছুটা জল ঢেলে কমণ্ডলুটি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি বাকি জল শিবের মাথায় ঢেলে বললেন, হর হর মহাদেব। পূজারিজির মন্ত্রধ্বনিতে মন্দির গমগম করতে লাগল। আমি রোমাঞ্চিত। বেদমন্ত্র জপ করতে লাগলাম।

কালী নদীর উৎপত্তিস্থল।

প্রসাদ হাতে একটু সামনে এগোতেই দেখি চেকপোস্ট। পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। আইটিবিপি-র ক্যাম্প ছাড়িয়েই কেএমভিএন-এর অতিথিশালা। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, মাঝে ছোট্ট এক ফালি জায়গায় আমাদের রাত্রি-আবাস। যথারীতি শরবত খাইয়ে অভ্যর্থনা। গরম জলে স্নান করে শরীর অনেক চাঙ্গা হল।

বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। ৮টা নাগাদ বৃষ্টি একটু কমতেই আমরা রওনা দিলাম। আজ আমাদের গন্তব্য ৯ কিমি দূরের নাবিডাং, উচ্চতা ১৩৯৮০ ফুট। প্রথমেই অনেকটা চড়াই। আজ আমার সঙ্গী পুত্রসম গণেশ। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে চলা। মাঝে আবার বৃষ্টির তেজ বাড়ল। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ভালো ট্রেকিং-শু না পরলে এই পথে হাঁটা খুব দুষ্কর। যারা ভয়ংকরের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অভয়ংকরের প্রসাদে পদে পদে বরাভয় লাভ করে তাদের ঈশ্বরবিশ্বাস পাকা হয়ে যায়।

১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নাবিডাং। কেএমভিএন-এর কর্মী-ভাইরা শরবত তুলে দিলেন। একটু পরেই খাবারের ডাক পড়ে গেল। গরম গরম খিচুড়ি আর পাঁপড়ভাজা, যেন অমৃত। আজ রাতের খাবার সন্ধে ৬টায় দিয়ে দেবে। রাত ২টোয় যাত্রা শুরু হবে।

নাবিডাং বেস ক্যাম্প।

নাবিডাং থেকে ‘ওম’ পর্বতের দর্শন মেলে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফে লেখা ওঁ। কপাল খারাপ। আবহাওয়া এত খারাপ যে কিছুই দেখা গেল না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুচ্ছি। হঠাৎ অনেকের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। ভক্তের কাতর আহ্বানে ঈশ্বর অবশেষে করুণা করলেন। বাইরে এসে দেখি, মেঘ কেটে গিয়েছে। চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে ওঁ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রণাম করলাম।

রাত ১২টায় ঘুম ভেঙে গেল। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাথায় হেডটর্চ লাগিয়ে, গায়ে চার সেট জামা চাপিয়ে, মাথায় ২টো টুপি পরে রওনা হলাম। তবু ঠান্ডা যেন কাটে না। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে গাইড গণেশকে অনুসরণ করে সন্তর্পণে এগিয়ে চললাম। আমাদের গন্তব্য ১২ কিমি দূরে ১৬৭৩০ ফুট উচ্চতায় লিপুলেখ পাস। গণেশ বার বার সতর্ক করে বললল – “স্যর, আপ পনি লিজিয়ে।” আজকের রাস্তা সব থেকে দুর্গম। আমি আবার দুর্গম পথ চলতেই বেশি ভালোবাসি। যে পথে রোমাঞ্চ নেই, সেই পথ আমায় টানে না। আমার ‘প্রভুর’ উপর অগাধ আস্থা। তিনি যদি কৃপা করেন, কোনো পথই আমার কাছে বাধা নয়।

‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপতে জপতে পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে এগিয়ে চললাম। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা পিঁপড়ের মতো লাইন করে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ডান দিকে নদীর জলের শব্দ। হঠাৎ দেখি জহরভাই অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে খাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এক ফুট দূরেই খাদ। সাক্ষাৎ মৃত্যু। হ্যাঁচকা টান দিয়ে জহরভাইকে আমার দিকে টেনে আনলাম। ঈশ্বরের অপার করুণায় এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এই ভাবে একটা পাহাড় থেকে আরেকটা পাহাড় পেরিয়ে চলেছি। গলা শুকিয়ে আসছে। সঙ্গে গরম জল ছিল। একটু খেয়ে তাজা হলাম।

লিপুলেখ পাস যাওয়ার পথ।

খাড়া পাহাড়ে শুধুই হেঁটে চলেছি। সামনে গণেশ, আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। রাতের পাহাড়ে চলার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ এই রাতে আমি উপলব্ধি করলাম, মহারণ্যের নিজস্ব সংগীত আছে। অরণ্য-প্রকৃতির সোঁ সোঁ শব্দ ওঁকারে পরিণত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পর্বতের সানুদেশে এসে পৌঁছোলাম। পুবের আকাশ আলোকিত করে সূর্যদেব উঠছেন। সূর্যের প্রথম আলোয় পর্বতের চূড়াগুলি হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাগ থেকে যে ক্যামেরা বার করব, সে ক্ষমতাও নেই। শুধুই প্রাণভরে দেখা। এই দেখার কোনো শেষ নেই। যত দেখছি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির এই রূপের সন্ধানেই তো আসা। এই রূপে যারা একবার মজেছে, তারা ঘর-সংসার ফেলে বার বার ছুটে আসে।

গণেশের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে রাস্তার বরফ গলে গিয়েছে। না হলে এই পথে হাঁটতে আরও কষ্ট হত। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে লিপুলেখ পাস, ভারত-চিন সীমান্ত। সামনের রাস্তা আরও চড়াই। অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। দু’ পা হাঁটছি, দাঁড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু দাঁড়ালে চলবে না। গণেশ তাড়া দিচ্ছে। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে পা ধরে যাবে। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরের তেজ কমে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম জল শেষ। পকেট থেকে চকোলেট বার করে মুখে দিলাম। এ ভাবেই শরীর আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিন কিমি চড়াই অতিক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছোলাম।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৫/ নবী হয়ে ফের গুনজিতে

শরীরে আর শক্তি নেই। প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছে। গণেশ আমাকে একটা পাথরের আড়ালে বসাল। কিছু খেজুর খেলাম। ধীরে ধীরে শরীরের বল ফিরে পেলাম। গণেশ এখান থেকে ফিরে যাবে। ও আবার ১৫ আগস্ট আসবে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় গণেশরাই ভরসা। এদের ছাড়া পাহাড়ে এক মুহূর্ত চলা যায় না। গণেশ কাল রাত থেকে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে, কিছুই খায়নি। ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো খাবার গণেশকে দিলাম। ওর চোখে জল।

সকাল ৮টা। পাহাড়ের নীচে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ১১ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা উপরে উঠে আসছেন। সঙ্গে চিনা অফিসারেরা। ওঁরা এ পারে এলে আমরা ও পারে যাওয়ার অনুমতি পাব। ওঁরা উপরে উঠে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল লিপুলেখ। ওঁরা আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। পাহাড়ের নীচে দু’টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। গাড়িতে উঠতেই ফলের রস আর আপেল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হল। ফলের রস খেয়ে একটু বল ফিরে পেলাম। গাড়ি ছাড়ল। চললাম তাকলাকোট।

তাকলাকোটের পথ।

তিব্বতের এই ভূমির সঙ্গে আমাদের লে-লাদাখের খুব মিল। কোনো গাছপালা নেই। শুষ্ক মরুভূমি। বিস্তীর্ণ এই রুক্ষ প্রান্তরে শুধু মাটি আর পাথর। বড়ো বড়ো গাছ এনে রাস্তার দু’ পাশে বসানো হচ্ছে। সুন্দর, মসৃণ রাস্তা, কোথাও একটা গর্ত চোখে পড়ল না। তাকলাকোটে পৌঁছে আমাদের নিয়ে গাড়ি পৌঁছোল অভিবাসন দফতরে। সেখানে আমাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মুখের ছবি মেলানো হল। আমাদের পাঁচ আঙুলের ছাপ নেওয়া হল। চোখের মণির ছবি তুলে রাখা হল। এ বার আমাদের গন্তব্য কাস্টমস অফিসে। এখানে আমাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হল। ক্যামেরা আর মোবাইলের সব ছবি দেখে নিলেন অফিসারেরা। সব নিয়নকানুন মিটিয়ে বেলা আড়াইটা নাগাদ হোটেলে এলাম। ঘরে ঢুকে গরম জলে স্নান করতেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। দুপুরে গরম গরম ভাত খেয়ে হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। চোখ জ্বালা করছে। হোটেল ঘরের সুন্দর বিছানায় শরীর ছুড়ে দিলাম।(চলবে)

ছবি: লেখক                          

Continue Reading

Uncategorized

বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি

vivekananda

স্মিতা দাস

তিন ধর্মের উপাসনালয়ের গঠনশৈলির মিশ্রণে তৈরি বেলুড় মঠ। স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এই বেলুড়মঠের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৩৮ সালের ১৪ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়। ৪০ একর জমির উপর অবস্থিত মূল মঠপ্রাঙ্গন।

এই বেলুড় মঠ হল রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের বিশ্বাস অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। এই মন্দিরের মাধ্যমে বিশ্বধর্মের আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। তাই জন্যই বৌদ্ধ, মুসলিম, হিন্দু-সহ একাধিক ধর্মের স্থাপত্য ও প্রতীককে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে গোটা চত্ত্বরের বিভিন্ন স্থাপত্য। মন্দিরের মূল ফটক বৌদ্ধধর্মের স্থাপত্যের আদর্শে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল প্রবেশপথের উপরের অংশে রয়েছে উচ্চ স্তম্ভ। সেই অংশ দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যের কায়দায় নির্মিত। আবার মন্দিরের ভেতরের জানলা বারান্দা উত্তর ভারতের রাজপুত ঘরানার এবং মুঘল স্থাপত্যের শৈলি অনুসরণ করে তৈরি। মূলমন্দিরের মাঝের গম্বুজটিতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। আবার ভিতরের মেঝে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ক্রসের আকারে সুসজ্জিত। স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই মন্দিরের নকশা তৈরি করেছিলেন রামকৃষ্ণদেবের অন্য এক শিষ্য স্বামী বিজ্ঞানানন্দ।

এই হেন বেলুড়মঠ গড়ার পেছনে মা সারদার অবদান ও স্বপ্ন এবং দিকদর্শন যে সাংঘাতিক ভাবে ক্রিয়াশীল ছিল সে কথা বলাই বাহুল্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কাজ চলত আলমবাজারের এই ভাড়া বাড়ি থেকে। জায়গার সমস্যা হওয়ায় কারণে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নীলাম্বর বাবুর বাড়িতে। সেটিও ভাড়া বাড়ি। এই সময়ই বেলুড় মঠের জমিও কেনা হয়েছিল বিদেশি ভক্তদের অর্থানুকুল্যে। সেখানেই আজকের বেলুড়মঠ।

আলমবাজার মঠের ভারপ্রাপ্ত স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, কিন্তু একটা সময় এই হেন বেলুড়মঠের জমিই বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি। এক সময় প্লেগ মহামারী আকার নিল। সেই সময় নিবেদিতাও রয়েছেন বাগবাজারে। অর্থাভাবের কারণে স্বামীজি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিয়ে প্লেগাক্রান্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করবেন। স্বামীজি বলেছিলেন, তাঁরা সন্ন্যাসী মানুষ, গাছ তলাতেও জীবন কাটাতে পারবেন। কিন্তু মানুষের সেবার প্রয়োজন। সেই সময় সারদা মা তাঁকে সেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত করেন। সারদা মা বলেন, “বাবা একটা প্লেগেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? যুগ যুগ ধরে এই বেলুড় মঠ থেকে বহু মানুষের সেবা হবে।“ মায়ের এই কথার প্রেক্ষিতে স্বামীজির সিদ্ধান্ত বদলায়।

Continue Reading

Uncategorized

বাঁশের মণ্ডপ সজ্জায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল

durga idol of ballygunge cultural
smita das
স্মিতা দাস

এই বছর ৬৯তম বর্ষে পা দিল বালিগঞ্জের অন্যতম সেরা পুজো বালিগঞ্জ কালচারালের পুজো। প্রতি বছরই নতুন ভাবনায় মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠে এই ক্লাব। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নেই। এই বছরে তাদের থিম ‘যুগলবন্দি’।

‘যুগলবন্দি’ বলতে আমাদের চার পাশের এমন অনেক কিছুর কথাই মনে পড়ে, যেগুলোকে একে অপরকে ছাড়া ভাবা যায় না। এই পুজোতেও তেমনই বেশ কিছু বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে থিমের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ৮৯তম বর্ষে হিন্দুস্থান পার্কে ‘নবরস’ নিয়ে থিম সাজানো হয়েছে

গোটা মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে বাঁশের মাধ্যমে। আটটি ভিন্ন প্রজাতির বাঁশ দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। তাদের দেখতে যেমন একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তেমনই ব্যবহারিক জীবনে তাদের প্রয়োগ বা ব্যবহারও ভিন্ন।

এই বছর বালিগঞ্জ কালচারালের প্রতিমা গড়েছেন ভাস্কর অরুণ পাল। থিমভাবনা ও মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন বিমান সাহা। প্রতি বারই এখানকার থিম সং সকলের মধ্যে সাড়া ফেলে। এই বারও তাই হয়েছে। থিম সং তৈরি করেছেন ঋষি পান্ডা।

বালিগঞ্জ কালচারালের গত বছর থিম ছিল ‘মেয়ে এসেছে উলু দে, শোলার সাজে সাজিয়ে দে’।

গড়িয়াহাট থেকে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে যেতে বাঁ দিকে এবং রাসবিহারী থেকে দেশপ্রিয় পার্কের দিকে যেতে ডান দিকে লেক ভিউ রোডে মণ্ডপ।

পুজোর আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন

Continue Reading
Advertisement
LPG
দেশ29 mins ago

উজ্বলা যোজনায় বিনামূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়ার মেয়াদ বাড়ল আরও তিন মাস

রাজ্য47 mins ago

রেকর্ড বৃদ্ধি, রাজ্যে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০০০

ক্রিকেট2 hours ago

১১৬ দিন পর শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, হাঁটু গেড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ ক্রিকেটারদের

কলকাতা2 hours ago

কলকাতায় লকডাউনের আওতায় পড়া এলাকাগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত

provident fund
শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

কেন্দ্রীয় সরকার আগস্ট মাস পর্যন্ত কর্মীদের ইপিএফ বকেয়া জমা করবে, অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

CBSE
দেশ3 hours ago

সিবিএসইর সিলেবাস থেকে বাদ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’, তীব্র বিতর্ক

রাজ্য4 hours ago

আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

BMS
দেশ4 hours ago

বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে নামছে আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন

দেশ11 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২২৭৫২, সুস্থ ১৬৮৮৩

currency
শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

পিপিএফের ৯টি নিয়ম, যা জেনে রাখা ভালো

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় এখন ১৮টি কনটেনমেন্ট জোন, ১৮৭২টি আইসোলেশন ইউনিট, ফারাকটা কোথায়?

রাজ্য2 days ago

করোনা রুখতে পশ্চিমবঙ্গের ‘সেফ হোম’-এর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রের

রাজ্য1 day ago

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ফের কড়া লকডাউনের জল্পনা

দেশ2 days ago

গালোয়ান উপত্যকা থেকে চিন সেনার পিছু হঠার পেছনেও অজিত ডোভালের ভূমিকা

ক্রিকেট2 days ago

ওপেনার সচিন তেন্ডুলকরের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

বিদেশ1 day ago

অনলাইনে ক্লাস করা ভিনদেশি পড়ুয়াদের আমেরিকা ছাড়তে হবে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা2 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা3 days ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা1 week ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

নজরে