Connect with us

Uncategorized

রাজনীতি,সমাজবিজ্ঞান,কবিজীবনী থেকে ভ্রমণ- নানা স্বাদের ‘রুপালি’ বইয়ের জগত

সমকালীন সমাজ-রাজনীতি, বামপন্থার নানা দিক নিয়ে মূল্যবান প্রবন্ধ ও আলোচনাধর্মী বই রূপালী প্রকাশন নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছে অনেকদিনই। তাছাড়া রয়েছে ভ্রমণের বই এবং আরও নানা স্বাদের নন ফিকশন। তেমনই কিছু বইয়ের খবর এই লেখায়। প্রথমেই আসা যাক প্রভাত পট্টনায়কের কথায়। প্রথিতযশা এই বামপন্থী অর্থনীতিবিদ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম এবং এ রাজ্যে বামশাসনের অবসান পর্বে সিপিআই(এম)-এর রাজনীতির নানা দিক […]

Published

on

সমকালীন সমাজ-রাজনীতি, বামপন্থার নানা দিক নিয়ে মূল্যবান প্রবন্ধ ও আলোচনাধর্মী বই রূপালী প্রকাশন নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছে অনেকদিনই। তাছাড়া রয়েছে ভ্রমণের বই এবং আরও নানা স্বাদের নন ফিকশন। তেমনই কিছু বইয়ের খবর এই লেখায়।

প্রথমেই আসা যাক প্রভাত পট্টনায়কের কথায়। প্রথিতযশা এই বামপন্থী অর্থনীতিবিদ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম এবং এ রাজ্যে বামশাসনের অবসান পর্বে সিপিআই(এম)-এর রাজনীতির নানা দিক নিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন ‘ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি’-সহ দেশের বেশ কয়েকটি প্রথমসারির পত্রিকায়। নাম- সংকট ও বামপন্থা। দাম-১২০ টাকা।

Loading videos...

সাম্প্রদায়িকতা এই সময়ের এক জ্বলন্ত ইস্যু। কিন্তু কাকে বলে সাম্প্রদায়িকতা। এটা কি কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পত্তি? ভারতবর্ষে এর বিপদ ঠিক কতটা, এর থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী? এমনই নানা বিষয় নিয়ে রাজ্য ও দেশের বেশি কয়েকজন বিদ্বজ্জন, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীর লেখা প্রবন্ধের সংকলন ‘সাম্প্রদায়িকতা: তর্কবিতর্ক’। সঙ্গে রয়েছে সাম্প্রতিক গোরক্ষা বিতর্ক নিয়েও বেশকিছু লেখা। শুধু সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রচার নয়, সাম্প্রদায়িকতার তাত্ত্বিক দিকগুলি নিয়েও চর্চা হয়েছে এই বইতে। সমাজবিজ্ঞানে আগ্রহী পাঠকদের বইটি সংগ্রহ করাই উচিত। সম্পাদনা করেছেন ইতিহাসের শিক্ষক সুমন কল্যাণ মৌলিক। দাম-২৮০ টাকা।

সারা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল সেই ঘটনা। খেটে খাওয়া মানুষের নিদের দেশ গঠনের স্বপ্নকে সাকার করেছিল সেই বিপ্লব। বহুচর্চিত নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ পেরিয়ে চলেছে এই গ্রহ। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কী কী কৃতিত্ব তার। কী ছিল ঘাটতি। কেন ভেঙে গেল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই নিয়ে এ রাজ্যে বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় মূল্যবান সংযোজন ‘নভেম্বর বিপ্লব, শতবর্ষের ভালবাসা’। ইরফান হাবিব, সন্তোষ রানা, রতন খাসনবিশ, সীতারাম ইয়েচুরি সহ বেশ কয়েকজন অধ্যাপক ও রাজনৈতিক কর্মীর লেখা নিয়ে সংকলিত এই বইটি সম্পাদনা করেছেন বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী মইনুল হাসান। দাম-৩০০ টাকা।

তরুণ প্রজন্মের প্রাবন্ধিকদের মধ্যে অর্ণব সাহার নাম অনেকেই জানেন। তাঁর বিশ্লেষণী কলম দেশকালসমাজের নানা ঘটনাকে অনায়াস বিশ্লেষণ করতে সিদ্ধহস্ত। তাঁর ১১টি প্রবন্ধের সংকলন প্রকাশ করল রূপালী। দাম-১৫০ টাকা।

পথচলার শুরু থেকেই ভ্রমণের বই প্রকাশ করছে রূপালী। দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বেড়ানোর জায়গা নিয়ে চমৎকার কিছু বইয়ের পাশাপাশি পাকিস্তান ভ্রমণ নিয়েও বই রয়েছে তাঁদের। সেই তালিকাতে গরুত্বপূর্ণ সংযোজন জঙ্গলকথা। সুপরিচিত ভ্রমণ লেখক গীতা পালিত ও সুপ্রিয় করের এই বইয়ে রয়েছে ভারতের প্রায় সবকটি গুরুত্বপূর্ণ অরণ্য ভ্রমণের বিস্তারিত বিবরণ। কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে বুকিং করবেন- যাবতীয় তথ্য মিলবে এই বইতে। দাম- ২০০ টাকা।

শুভ দাশগুপ্ত। বাংলার কবিতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত নাম। শুরু থেকে নিজস্ব কাব্যভাষায় তিনি মন কেড়েছেন কবিতাপ্রেমীদের। আবৃত্তির দুনিয়ায় তো তাঁর জনপ্রিয়তা প্রবাদপ্রতিম। সেই শুভ দাশগুপ্তের ছয় দশক-ব্যাপ্ত জীবনের আলেখ্য ‘ধুলোবালি মণিমুক্ত’। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘কবির জন্মভূমি জেনো তুমি মনে’। কবির সেই মনের হদিশ এই বইয়ে পাবেন পাঠকরা। দাম-৪০০ টাকা।

রূপালির সব বই পাওয়া যায় কলেজ স্ট্রিটের দে’জ-এ। ফোন- 9432062928

Uncategorized

কৃষক বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ দিল্লি, কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কেন্দ্রের সংবেদনহীন মনোভাব এবং উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published

on

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক থেকে

খবর অনলাইন ডেস্ক: সাধারণতন্ত্র দিবসে কৃষি আইনের বিরোধিতায় কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

এ দিন দিল্লির একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে প্রতিবাদী কৃষকদের। কেন্দ্রের নয়া তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রায় দু’মাস ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের চরম বহির্প্রকাশ দেখে দেশের রাজধানী। এক কৃষকের মৃত্যু-সহ একাধিক ব্যক্তি এবং পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এ দিনের ঘটনায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

Loading videos...

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এ দিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে একাধিক টুইট করেন মমতা। একটিতে তিনি লিখেছেন, “দিল্লির রাস্তায় উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনাগুলির জন্য আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের প্রতি কেন্দ্রের সংবেদনহীন মনোভাব এবং উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী”।

নতুন কৃষি আইনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা লেখেন, “প্রথমত, এই আইনগুলি কৃষকদের সম্মতি না নিয়েই পাশ করানো হয়েছিল। আর তার পরে টানা দু’মাস ধরে যখন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাকে কেন্দ্রের তরফে যথোপযুক্ত গুরুত্বও দেওয়া হল না। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগুলি প্রত্যাহার করা উচিত ছিল কেন্দ্রের”।

কৃষি আইন নিয়ে মমতার অবস্থান

শুরুতেই কৃষি আইন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদে বিল পাশ করানো নিয়ে ব্যাপক হইচইয়ের সময়েও খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তৃণমূল সংসদরা। পরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিল পাশ করানোর পরেও আইন বাতিলের দাবিতে পথে নেমেছে তৃণমূল।

সম্প্রতি নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, আমি সব সময় কৃষকের পক্ষে। স্বাভাবিক ভাবেই দেশ এবং কৃষকদের স্বার্থে আমি এই তিনটি কৃষি আইনের বিপক্ষে। এই সূত্রেই রাজ্য বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গত ৮ জানুয়ারি জানান, আগামী ২৭-২৮ জানুয়ারি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত আধা সেনা

Continue Reading

Uncategorized

দেশের ১২টি রাজ্যে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রক

Published

on

coronavirus
সুস্থ হয়ে ফিরছেন করোনারোগী। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বুধবার স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণমন্ত্রক জানাল, দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। এ দিন মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এই জাতীয় গড় ৭৬.৯৮ শতাংশ।

এ দিন সকালে মন্ত্রক জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ২৬ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৯০৮ জন। [বিস্তারিত পড়ুন এখানে: ফের বাড়ল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, তবে দশ লক্ষ টেস্টের পরেও সংক্রমণের হার আট শতাংশের কম] এর মধ্যে ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার জাতীয় গড়েত তুলনায় বেশি।

Loading videos...

কোন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার কত?

*দিল্লি-৮৮.৫০ শতাংশ

*বিহার- ৮৭.৯০ শতাংশ

*তামিলনাড়ু- ৮৬.২০ শতাংশ

*আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ- ৮৫.৯০ শতাংশ

*পশ্চিমবঙ্গ- ৮৩ শতাংশ

*রাজস্থান-৮১.৯০ শতাংশ

*হরিয়ানা- ৮১ শতাংশ

*গুজরাত- ৮০.৮০ শতাংশ

*নাগাল্যান্ড- ৮০ শতাংশ

*দমন ও দিউ এবং দাদর নগর ও হাভেলি- ৮৮.৯০ শতাংশ

**বুধবার সকাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান

শেষ ছ’দিন ৬০ হাজারের উপরে!

অন্য দিকে সরকারি তথ্যে প্রকাশিত, মোট সুস্থ রোগীর ৩০ শতাংশই মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক জানান,ভারতে এখন সুস্থতার হার প্রতিদিনই কিছুটা করে বাড়ছে। সব মিলিয়ে গত মে মাসের তুলনায় এখন সুস্থতার সংখ্যা ৫৮গুণ বেড়েছে। প্রতিদিনই একটা বিশাল সংখ্যক করোনারোগী হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশন থেকে বাইরে আসছেন।

তিনি বলেন, দৈনিক সুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন ৬০ হাজারের উপরেই থাকছে। গত ছ’দিন ধরে এই সংখ্যা ৬০ হাজারের উপরে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের করোনা আপডেট

বুধবার রাজ্যে ফের একবার একদিনে সুস্থ হলেন তিন হাজারের বেশি মানুষ এবং সুস্থ হওয়া মানুষের থেকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে: রাজ্যে ফের এক দিনে আক্রান্তের থেকে সুস্থ হলেন বেশি মানুষ, টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়ল

Continue Reading

Uncategorized

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৬/ লিপুলেখ দিয়ে তাকলাকোটে

Published

on

om parvat

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

Loading videos...

৫ আগস্ট। চলেছি কালাপানি, ১০ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়লাম, সাথে জহরভাই আর সুরজভাই, আমার প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। পাহাড়ি পথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। একটি পাকদণ্ডি পথ অতিক্রম করতেই এক সুবিশাল শৃঙ্গ চোখে পড়ল। এতক্ষণ রোদ ঝলমল করছিল শৃঙ্গটি, সহসা দেখলাম কোথা থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল। জলভারে নত মেঘ পর্বতচূড়ায়। পর্বতচূড়ায় মেঘাবরণ, কিন্তু আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। চার দিক ভাসছে সোনালি রোদে।

কখন যেন একা হয়ে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। আমার দুই সঙ্গী পিছিয়ে পড়েছে। জনমানবশূন্য প্রান্তর দিয়ে হেঁটে চলেছি। দূর থেকে চোখে পড়ল বশিষ্টমুনির গুহা। এই সব মুনি-ঋষির যে দৈবিক ক্ষমতা ছিল, তা এই গুহা দেখলেই বোঝা যায়। সামনে পড়ল দু’টি সেতু। সেতু পেরোতেই একটি সুন্দর মন্দিরপ্রাঙ্গণ। শ্বেতশুভ্র মন্দিরটি দেখে দেহের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে কালী নদীর উৎপত্তি। তাই এই জায়গাটির নাম কালাপানি। মন্দিরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। পূজারি আমার হাতে কমণ্ডলুটি দিয়ে বললেন, “অব পানি চড়াইয়ে”। কিছুটা জল ঢেলে কমণ্ডলুটি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি বাকি জল শিবের মাথায় ঢেলে বললেন, হর হর মহাদেব। পূজারিজির মন্ত্রধ্বনিতে মন্দির গমগম করতে লাগল। আমি রোমাঞ্চিত। বেদমন্ত্র জপ করতে লাগলাম।

কালী নদীর উৎপত্তিস্থল।

প্রসাদ হাতে একটু সামনে এগোতেই দেখি চেকপোস্ট। পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। আইটিবিপি-র ক্যাম্প ছাড়িয়েই কেএমভিএন-এর অতিথিশালা। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, মাঝে ছোট্ট এক ফালি জায়গায় আমাদের রাত্রি-আবাস। যথারীতি শরবত খাইয়ে অভ্যর্থনা। গরম জলে স্নান করে শরীর অনেক চাঙ্গা হল।

বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। ৮টা নাগাদ বৃষ্টি একটু কমতেই আমরা রওনা দিলাম। আজ আমাদের গন্তব্য ৯ কিমি দূরের নাবিডাং, উচ্চতা ১৩৯৮০ ফুট। প্রথমেই অনেকটা চড়াই। আজ আমার সঙ্গী পুত্রসম গণেশ। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে চলা। মাঝে আবার বৃষ্টির তেজ বাড়ল। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ভালো ট্রেকিং-শু না পরলে এই পথে হাঁটা খুব দুষ্কর। যারা ভয়ংকরের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অভয়ংকরের প্রসাদে পদে পদে বরাভয় লাভ করে তাদের ঈশ্বরবিশ্বাস পাকা হয়ে যায়।

১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নাবিডাং। কেএমভিএন-এর কর্মী-ভাইরা শরবত তুলে দিলেন। একটু পরেই খাবারের ডাক পড়ে গেল। গরম গরম খিচুড়ি আর পাঁপড়ভাজা, যেন অমৃত। আজ রাতের খাবার সন্ধে ৬টায় দিয়ে দেবে। রাত ২টোয় যাত্রা শুরু হবে।

নাবিডাং বেস ক্যাম্প।

নাবিডাং থেকে ‘ওম’ পর্বতের দর্শন মেলে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফে লেখা ওঁ। কপাল খারাপ। আবহাওয়া এত খারাপ যে কিছুই দেখা গেল না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুচ্ছি। হঠাৎ অনেকের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। ভক্তের কাতর আহ্বানে ঈশ্বর অবশেষে করুণা করলেন। বাইরে এসে দেখি, মেঘ কেটে গিয়েছে। চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে ওঁ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রণাম করলাম।

রাত ১২টায় ঘুম ভেঙে গেল। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাথায় হেডটর্চ লাগিয়ে, গায়ে চার সেট জামা চাপিয়ে, মাথায় ২টো টুপি পরে রওনা হলাম। তবু ঠান্ডা যেন কাটে না। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে গাইড গণেশকে অনুসরণ করে সন্তর্পণে এগিয়ে চললাম। আমাদের গন্তব্য ১২ কিমি দূরে ১৬৭৩০ ফুট উচ্চতায় লিপুলেখ পাস। গণেশ বার বার সতর্ক করে বললল – “স্যর, আপ পনি লিজিয়ে।” আজকের রাস্তা সব থেকে দুর্গম। আমি আবার দুর্গম পথ চলতেই বেশি ভালোবাসি। যে পথে রোমাঞ্চ নেই, সেই পথ আমায় টানে না। আমার ‘প্রভুর’ উপর অগাধ আস্থা। তিনি যদি কৃপা করেন, কোনো পথই আমার কাছে বাধা নয়।

‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপতে জপতে পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে এগিয়ে চললাম। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা পিঁপড়ের মতো লাইন করে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ডান দিকে নদীর জলের শব্দ। হঠাৎ দেখি জহরভাই অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে খাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এক ফুট দূরেই খাদ। সাক্ষাৎ মৃত্যু। হ্যাঁচকা টান দিয়ে জহরভাইকে আমার দিকে টেনে আনলাম। ঈশ্বরের অপার করুণায় এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এই ভাবে একটা পাহাড় থেকে আরেকটা পাহাড় পেরিয়ে চলেছি। গলা শুকিয়ে আসছে। সঙ্গে গরম জল ছিল। একটু খেয়ে তাজা হলাম।

লিপুলেখ পাস যাওয়ার পথ।

খাড়া পাহাড়ে শুধুই হেঁটে চলেছি। সামনে গণেশ, আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। রাতের পাহাড়ে চলার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ এই রাতে আমি উপলব্ধি করলাম, মহারণ্যের নিজস্ব সংগীত আছে। অরণ্য-প্রকৃতির সোঁ সোঁ শব্দ ওঁকারে পরিণত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পর্বতের সানুদেশে এসে পৌঁছোলাম। পুবের আকাশ আলোকিত করে সূর্যদেব উঠছেন। সূর্যের প্রথম আলোয় পর্বতের চূড়াগুলি হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাগ থেকে যে ক্যামেরা বার করব, সে ক্ষমতাও নেই। শুধুই প্রাণভরে দেখা। এই দেখার কোনো শেষ নেই। যত দেখছি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির এই রূপের সন্ধানেই তো আসা। এই রূপে যারা একবার মজেছে, তারা ঘর-সংসার ফেলে বার বার ছুটে আসে।

গণেশের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে রাস্তার বরফ গলে গিয়েছে। না হলে এই পথে হাঁটতে আরও কষ্ট হত। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে লিপুলেখ পাস, ভারত-চিন সীমান্ত। সামনের রাস্তা আরও চড়াই। অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। দু’ পা হাঁটছি, দাঁড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু দাঁড়ালে চলবে না। গণেশ তাড়া দিচ্ছে। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে পা ধরে যাবে। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরের তেজ কমে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম জল শেষ। পকেট থেকে চকোলেট বার করে মুখে দিলাম। এ ভাবেই শরীর আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিন কিমি চড়াই অতিক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছোলাম।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৫/ নবী হয়ে ফের গুনজিতে

শরীরে আর শক্তি নেই। প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছে। গণেশ আমাকে একটা পাথরের আড়ালে বসাল। কিছু খেজুর খেলাম। ধীরে ধীরে শরীরের বল ফিরে পেলাম। গণেশ এখান থেকে ফিরে যাবে। ও আবার ১৫ আগস্ট আসবে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় গণেশরাই ভরসা। এদের ছাড়া পাহাড়ে এক মুহূর্ত চলা যায় না। গণেশ কাল রাত থেকে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে, কিছুই খায়নি। ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো খাবার গণেশকে দিলাম। ওর চোখে জল।

সকাল ৮টা। পাহাড়ের নীচে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ১১ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা উপরে উঠে আসছেন। সঙ্গে চিনা অফিসারেরা। ওঁরা এ পারে এলে আমরা ও পারে যাওয়ার অনুমতি পাব। ওঁরা উপরে উঠে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল লিপুলেখ। ওঁরা আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। পাহাড়ের নীচে দু’টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। গাড়িতে উঠতেই ফলের রস আর আপেল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হল। ফলের রস খেয়ে একটু বল ফিরে পেলাম। গাড়ি ছাড়ল। চললাম তাকলাকোট।

তাকলাকোটের পথ।

তিব্বতের এই ভূমির সঙ্গে আমাদের লে-লাদাখের খুব মিল। কোনো গাছপালা নেই। শুষ্ক মরুভূমি। বিস্তীর্ণ এই রুক্ষ প্রান্তরে শুধু মাটি আর পাথর। বড়ো বড়ো গাছ এনে রাস্তার দু’ পাশে বসানো হচ্ছে। সুন্দর, মসৃণ রাস্তা, কোথাও একটা গর্ত চোখে পড়ল না। তাকলাকোটে পৌঁছে আমাদের নিয়ে গাড়ি পৌঁছোল অভিবাসন দফতরে। সেখানে আমাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মুখের ছবি মেলানো হল। আমাদের পাঁচ আঙুলের ছাপ নেওয়া হল। চোখের মণির ছবি তুলে রাখা হল। এ বার আমাদের গন্তব্য কাস্টমস অফিসে। এখানে আমাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হল। ক্যামেরা আর মোবাইলের সব ছবি দেখে নিলেন অফিসারেরা। সব নিয়নকানুন মিটিয়ে বেলা আড়াইটা নাগাদ হোটেলে এলাম। ঘরে ঢুকে গরম জলে স্নান করতেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। দুপুরে গরম গরম ভাত খেয়ে হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। চোখ জ্বালা করছে। হোটেল ঘরের সুন্দর বিছানায় শরীর ছুড়ে দিলাম।(চলবে)

ছবি: লেখক                          

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য32 mins ago

বাম প্রার্থীদের ভোট দিতে বললেও কংগ্রেসের নাম নিলেন না আব্বাস সিদ্দিকি

রাজ্য3 hours ago

কলকাতায় পৌঁছোল কেন্দ্রীয় বাহিনী, রবিবার সকাল থেকেই শুরু রুটমার্চ

রাজ্য4 hours ago

কলকাতায় তেজস্বী যাদব, হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ

দেশ4 hours ago

মুকেশ অম্বানির বাড়ির সামনে বিস্ফোরক রাখার দায় স্বীকার করল জঈশ-উল-হিন্দ

শিল্প-বাণিজ্য5 hours ago

বেড়েছে রাজস্ব ঘাটতি, জানুয়ারির শেষে পৌঁছেছে ১২.২৩ লক্ষ কোটি টাকায়

দেশ6 hours ago

দেশে সামান্য বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ, অর্ধেকই মহারাষ্ট্রে

রাজ্য6 hours ago

ব্রিগেড সমাবেশ: দরকারে ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ি নিলাম করে প্রতারিত মানুষের টাকা ফেরত, হুঁশিয়ারি মহম্মদ সেলিমের

BJP TMC Congress CPIM
রাজ্য7 hours ago

পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে পারে তৃণমূল সরকার, কী বলছে সমীক্ষা

দেশ2 days ago

পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফায় ভোট, কলকাতায় ভোট ২৬ ও ২৯ এপ্রিল

ম্যানহোলে শ্রমিকের মৃত্যু
কলকাতা3 days ago

শুধু দড়ি বেঁধে ম্যানহোলের কাজ করতে নেমে কুঁদঘাটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত ৪ শ্রমিক

প্রযুক্তি2 days ago

আরবিআই-এর নতুন নির্দেশিকা, ঝক্কি বাড়বে ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে!

election commission of india
দেশ2 days ago

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন

দঃ ২৪ পরগনা3 days ago

‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী চাই, প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

ক্রিকেট3 days ago

দু’দিনে টেস্ট শেষ করে মহাবিতর্ক তৈরি করে দিল অমদাবাদের খোঁয়াড় পিচ

বিদেশ3 days ago

নীরব মোদীকে ভারতে প্রত্যর্পণের পথ পরিষ্কার করে দিল লন্ডনের আদালত

বিনোদন3 days ago

জন্মদিনে ফিরে দেখা দিব্যা ভারতীকে

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা1 month ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা1 month ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা1 month ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা2 months ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে