vidyasagar protest procession
ধিক্কার মিছিলে প্রাক্তনী ও শিক্ষক ও শিক্ষিকারা।

ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলাদলির চূড়ান্ত ঘৃণ্য রূপ দেখল গোটা দেশ। কলকাতার প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুর চালানো হল। ভেঙে ফেলা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি। ঘটনার নিন্দায় সরব সমাজের সব স্তরের মানুষ।   

গোটা ঘটনায় ধিক্কার জানাতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং প্রাক্তনীরা বৃহস্পতিবার মিছিলের আয়োজন করেন। কলেজের পুরোনো ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়া ওই মিছিলে যোগ দেন অধ্যক্ষ এবং বর্তমান পড়ুয়ারাও। বিদ্যাসাগরের মূর্তি নতুন করে গড়া এবং ভাঙচুরে কলেজের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রাক্তনীরা।

নিন্দা প্রস্তাব সিন্ডিকেটে

বৃহস্পতিবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের বৈঠকে উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নিন্দা প্রস্তাব পড়ে শোনান। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনা ভারতীয় ইতিহাসের একটি কালো দিন। এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে আক্রমণ করা হয়েছে। উপাচার্য জানান, বিদ্যাসাগর কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে সব ঘটনা জানিয়েছে। এবং তাদের কী ক্ষতি হয়েছে তা-ও জানিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সব রকম সাহায্য করবে বলে উপাচার্য জানান।

উপাচার্যদের নিন্দা

পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়-সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও এই ধরনের গুন্ডামির প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন। উপাচার্যদের লেখা ওই চিঠির মূল বক্তব্য হল, বাংলার গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাব্যবস্থার যে অতীত রয়েছে, তাকে আঘাত করেছে এই ঘটনা। বিদ্যাসাগর বাংলার নব জাগরণের অন্যতম পথপ্রদর্শক, বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার পথপ্রদর্শক। এই ধরনের গুন্ডামি শুধু তাঁর সম্মানহানিই করেনি, বাংলার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে। রাজনীতিকে সামনে রেখে যে ভাবে বাংলার সংস্কৃতিকে নষ্ট করা হচ্ছে, তা মোটেই অভিপ্রেত নয়।

আরও পড়ুন বিজেপির হয়ে প্রচারে নামলেন ‘বিদ্যাসাগর!’

ছবি রাজীব বসু

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here