ডিমের খোসা কি ফেলে দেন? রূপচর্চা ও ঘরকন্নায় এর ১০টি ব্যবহার তুলনাহীন

0
egg
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: প্রায় প্রত্যেকেই ডিমের খোসা ফেলে দেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না ডিমের খোলার বহুমুখী ব্যবহার সম্বন্ধে। এতে যেমন ত্বক ঝকেঝকে হয়ে ওঠে তেমনই বাড়ির গাছে ফুলফলও ভরে ওঠে। তবে তার জন্য জানতে হবে তার ব্যবহার বিধি। আজ রইল তেমনই কয়েকটি টিপস।

১) টয়লেটের জন্য –

ঘরের মেঝেতে হওয়া নতুন পুরানো যে কোনো দাগ বা টয়লেট প্যান, বেসিনের নোংরা দাগ তুলতে ডিমের খোসার কোনো তুলনা হয় না। তাই ডিমের খোসা এখন থেকে আর ফেলবেন না। জমিয়ে রাখুন। বেশ খানিকটা জমে গেলে তা গুঁড়ো করে নিন ও প্রয়োজন মতো ব্যবহার করুন।

২) মাটির সার –

আজকাল প্রায় অনেক বাড়িতেই কমবেশি গাছপালা থাকে। সেই গাছপালার পুষ্টির জন্যও ডিমের খোলা ভালো। ডিমের খোলা গুঁড়ো গাছের নীচের মাটিতে ছড়িয়ে দিলে তাতে মাটি যেমন উর্বর হবে, তেমনই গাছের পুষ্টিও বৃদ্ধি করবে। ফলে ফুলে-ফলে গাছ ভরে যাবে।

৩) কীটনাশক –

গাছের গোড়ায় ডিমের খোসা গুঁড়ো দিলে তা কীটনাশক হিসাবে কাজ করে। এতে গাছের ডালে বা পাতায় পোকার উপদ্রব বন্ধ হবে।   

৪) আটকে যাওয়া নর্দমা –

রান্না ঘরের বেসিনের পাইপ প্রায়ই জমে যায়। জল নামতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা ডিমের খোলার মিহি গুঁড়ো নলের মুখে দিয়ে দিতে হবে। এর পর বেশি করে জল ঢেলে দিলেই দেখবেন চটপট ময়লা কেটে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। পাইপ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

৫) বাসন মাজাতে –

হাঁড়ি-কড়ার নীচে প্রায়ই কালো পোড়া দাগ ধরে নেয়। সেই দাগ তুলতে খুবই কসরত করতে হয়। কিন্তু এই কঠিন দাগই সহজে দূর হয়ে যেতে পারে ডিমের গুঁড়োর সাহায্যে। বাসন মাজার সাবানের সঙ্গে কিছুটা ডিমের খোলা গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে মাজলে কম পরিশ্রমে বাসন ঝকঝকে হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন – বয়স ধরে রাখতে জাপানিদের ভাতের প্যাক

৬) জামাকাপড় কাচতে –

ডিমের খোলা ডিটার্জেন্ট সাবানের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। এতে সাদা জামাকাপড়ের হারিয়ে যাওয়া ধবধবে ভাব আবার ফিরে আসবে।

৭) কফিতে –

অনেকে কফি খেতে ভালোবাসেন না তেঁতো স্বাদের জন্য। কিন্তু জানেন কি কফির মধ্যে সামান্য পরিমাণ ডিমের খোসার মিহি চূর্ণ দিলে তেতো ভাব কেটে যায়। খেতেও সমস্যা হয় না।    

৮) ক্যালসিয়াম হিসাবে –

ডিমের খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। তা ছাড়াও রয়েছে আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফ্লোরিন, ক্রোমিয়াম ও মলিবডেনাম। তাই একে ফেলে ফেলে দেওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একে উনানে ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিয়ে অথবা খুব ভালো করে গরম করে নিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এই গুঁড়ো লেবুর রস বা ভিনিগারের সঙ্গে মিশিয়ে রান্নার কাজে ও স্যালাডে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৯) বাতের ব্যথায় –

অনেক দিন ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন? কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না? এক বার ডিমের খোসা ব্যবহার করে দেখুন। এতে রয়েছে ব্যথা নাশক কোলাজেন ও গ্লুকোসামিন। ব্যথা কমবে। তার জন্য একটি পাত্রে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার নিতে হবে। তার মধ্যে একটি গোটা ডিমের খোসা গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। এটি ভিনিগারের মধ্যে এক দম গুলে যাবে। তার জন্য অবশ্য কয়েক দিন সময় লাগবে। সেই মিশে যাওয়ার পর তা ব্যথার জায়গায় ভালো করে লাগিয়ে নিন।  

১০) ত্বকের যত্নে –

রূপচর্চাতেও ডিমের খোসার তুলনা নেই। ত্বকের জন্য প্যাক তৈরি করতে লাগবে একটি গোটা ডিমের পুরো সাদা অংশটি, সঙ্গে দুইটি ডিমের খোসা গুঁড়ো। এ বার দুইটি উপকরণকে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মুখে গলায় লাগিয়ে রাখতে হবে। প্যাকটি শুকিয়ে এলে সামান্য গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই ভাবে কয়েক বার ব্যবহারেই ফল হাতে হাতে পাওয়া যাবে। ত্বক কোমল, মসৃণ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। কালো দাগ দূর হবে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.