Connect with us

Uncategorized

রেডমি নোট ৫: ফ্লিপকার্টে মাত্র ৯৯৯ টাকায়, আমাজনে ৮৩৪ টাকায়, জানুন বিশদে

ওয়েবডেস্ক: এ আর নতুন কথা কী- ফ্লিপকার্ট একটা কিছুতে ছাড় দিলে, বিশেষ করে স্মার্টফোনে, তার চেয়েও বেশি ভালো ছাড় নিয়ে উপস্থিত হয় আমাজন। কথাটা বিপরীত ক্ষেত্রেও সমান সত্যি! তা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে এ রকম পন্থা না নিলে তো টিকে থাকাও দায়! তবে আখেরে তাতে লাভ আমার-আপনার মতো ক্রেতার! ভেবে দেখুন তো, কত কম দামে আমরা মনের […]

Published

on

ওয়েবডেস্ক: এ আর নতুন কথা কী- ফ্লিপকার্ট একটা কিছুতে ছাড় দিলে, বিশেষ করে স্মার্টফোনে, তার চেয়েও বেশি ভালো ছাড় নিয়ে উপস্থিত হয় আমাজন। কথাটা বিপরীত ক্ষেত্রেও সমান সত্যি! তা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে এ রকম পন্থা না নিলে তো টিকে থাকাও দায়!

তবে আখেরে তাতে লাভ আমার-আপনার মতো ক্রেতার! ভেবে দেখুন তো, কত কম দামে আমরা মনের মতো জিনিসটা পেয়ে যাই সাধ আর সাধ্যের মধ্যে আপোস না করেই!

সে ভাবেই এ বার জিয়াওমি রেডমি নোট ৫ স্মার্টফোন ১০০০ টাকারও কমে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে চলেছে দুই সংস্থা। কাদের অফার কী, দেখে নেওয়া যাক এক এক করে!

ফ্লিপকার্ট:

নোট ৫-এর ৬৪ জিবি এবং ৩২ জিবির বাজারদর যথাক্রমে ১১,৯৯৯ টাকা এবং ৯,৯৯৯ টাকা। ফ্লিপকার্ট এক্সচেঞ্জ অফারে ছাড়ের পরিমাণটাকে বাড়িয়ে রেখেছে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে দুটিরই দাম নেমে আসে ৯৯৯ টাকায়। প্রথমটির তো বটেই, ছাড় দিয়ে দ্বিতীয়টিও!

আমাজন:

আমাজন-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ওই এক্সচেঞ্জ অফারই! এখানে নোট ৫ পাওয়া যাচ্ছে ১৬ জিবির মডেলেও যার বাজারদাম ৭,৯৯৯ টাকা। কিন্তু সংস্থার ছাড়ের পরিমাণ ফ্লিপকার্টের চেয়ে বেশি, ফলে এক্সচেঞ্জের পরে দাম নেমে আসছে মাত্র ৮৩৪ টাকায়!

পাশাপাশি আরেকটা সুবিধা দিচ্ছে আমাজন রিলায়েন্স জিও-র সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে। খবর বলছে, জিও রেডমি অফার-এ এই স্মার্টফোন কিনলে ক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে ২,২০০ টাকা ক্যাশব্যাক সহ ১০০ জিবি বিনামূল্যের ৪জি ইন্টারনেট ডেটাও পাবেন!

Uncategorized

দেশের ১২টি রাজ্যে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রক

Published

on

coronavirus
সুস্থ হয়ে ফিরছেন করোনারোগী। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বুধবার স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণমন্ত্রক জানাল, দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনারোগীর সুস্থতার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি। এ দিন মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এই জাতীয় গড় ৭৬.৯৮ শতাংশ।

এ দিন সকালে মন্ত্রক জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ২৬ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৯০৮ জন। [বিস্তারিত পড়ুন এখানে: ফের বাড়ল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, তবে দশ লক্ষ টেস্টের পরেও সংক্রমণের হার আট শতাংশের কম] এর মধ্যে ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার জাতীয় গড়েত তুলনায় বেশি।

কোন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুস্থতার হার কত?

*দিল্লি-৮৮.৫০ শতাংশ

*বিহার- ৮৭.৯০ শতাংশ

*তামিলনাড়ু- ৮৬.২০ শতাংশ

*আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ- ৮৫.৯০ শতাংশ

*পশ্চিমবঙ্গ- ৮৩ শতাংশ

*রাজস্থান-৮১.৯০ শতাংশ

*হরিয়ানা- ৮১ শতাংশ

*গুজরাত- ৮০.৮০ শতাংশ

*নাগাল্যান্ড- ৮০ শতাংশ

*দমন ও দিউ এবং দাদর নগর ও হাভেলি- ৮৮.৯০ শতাংশ

**বুধবার সকাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান

শেষ ছ’দিন ৬০ হাজারের উপরে!

অন্য দিকে সরকারি তথ্যে প্রকাশিত, মোট সুস্থ রোগীর ৩০ শতাংশই মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক জানান,ভারতে এখন সুস্থতার হার প্রতিদিনই কিছুটা করে বাড়ছে। সব মিলিয়ে গত মে মাসের তুলনায় এখন সুস্থতার সংখ্যা ৫৮গুণ বেড়েছে। প্রতিদিনই একটা বিশাল সংখ্যক করোনারোগী হাসপাতাল অথবা হোম আইসোলেশন থেকে বাইরে আসছেন।

তিনি বলেন, দৈনিক সুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন ৬০ হাজারের উপরেই থাকছে। গত ছ’দিন ধরে এই সংখ্যা ৬০ হাজারের উপরে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের করোনা আপডেট

বুধবার রাজ্যে ফের একবার একদিনে সুস্থ হলেন তিন হাজারের বেশি মানুষ এবং সুস্থ হওয়া মানুষের থেকে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে: রাজ্যে ফের এক দিনে আক্রান্তের থেকে সুস্থ হলেন বেশি মানুষ, টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়ল

Continue Reading

Uncategorized

পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৬/ লিপুলেখ দিয়ে তাকলাকোটে

Published

on

om parvat

সুব্রত গোস্বামী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

৫ আগস্ট। চলেছি কালাপানি, ১০ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়লাম, সাথে জহরভাই আর সুরজভাই, আমার প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। পাহাড়ি পথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। একটি পাকদণ্ডি পথ অতিক্রম করতেই এক সুবিশাল শৃঙ্গ চোখে পড়ল। এতক্ষণ রোদ ঝলমল করছিল শৃঙ্গটি, সহসা দেখলাম কোথা থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে এল। জলভারে নত মেঘ পর্বতচূড়ায়। পর্বতচূড়ায় মেঘাবরণ, কিন্তু আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল। চার দিক ভাসছে সোনালি রোদে।

কখন যেন একা হয়ে গিয়েছি, খেয়াল করিনি। আমার দুই সঙ্গী পিছিয়ে পড়েছে। জনমানবশূন্য প্রান্তর দিয়ে হেঁটে চলেছি। দূর থেকে চোখে পড়ল বশিষ্টমুনির গুহা। এই সব মুনি-ঋষির যে দৈবিক ক্ষমতা ছিল, তা এই গুহা দেখলেই বোঝা যায়। সামনে পড়ল দু’টি সেতু। সেতু পেরোতেই একটি সুন্দর মন্দিরপ্রাঙ্গণ। শ্বেতশুভ্র মন্দিরটি দেখে দেহের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে কালী নদীর উৎপত্তি। তাই এই জায়গাটির নাম কালাপানি। মন্দিরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। পূজারি আমার হাতে কমণ্ডলুটি দিয়ে বললেন, “অব পানি চড়াইয়ে”। কিছুটা জল ঢেলে কমণ্ডলুটি তাঁর হাতে দিলাম। তিনি বাকি জল শিবের মাথায় ঢেলে বললেন, হর হর মহাদেব। পূজারিজির মন্ত্রধ্বনিতে মন্দির গমগম করতে লাগল। আমি রোমাঞ্চিত। বেদমন্ত্র জপ করতে লাগলাম।

কালী নদীর উৎপত্তিস্থল।

প্রসাদ হাতে একটু সামনে এগোতেই দেখি চেকপোস্ট। পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলাম। আইটিবিপি-র ক্যাম্প ছাড়িয়েই কেএমভিএন-এর অতিথিশালা। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, মাঝে ছোট্ট এক ফালি জায়গায় আমাদের রাত্রি-আবাস। যথারীতি শরবত খাইয়ে অভ্যর্থনা। গরম জলে স্নান করে শরীর অনেক চাঙ্গা হল।

বৃষ্টির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছে। ৮টা নাগাদ বৃষ্টি একটু কমতেই আমরা রওনা দিলাম। আজ আমাদের গন্তব্য ৯ কিমি দূরের নাবিডাং, উচ্চতা ১৩৯৮০ ফুট। প্রথমেই অনেকটা চড়াই। আজ আমার সঙ্গী পুত্রসম গণেশ। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে চলা। মাঝে আবার বৃষ্টির তেজ বাড়ল। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ভালো ট্রেকিং-শু না পরলে এই পথে হাঁটা খুব দুষ্কর। যারা ভয়ংকরের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অভয়ংকরের প্রসাদে পদে পদে বরাভয় লাভ করে তাদের ঈশ্বরবিশ্বাস পাকা হয়ে যায়।

১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নাবিডাং। কেএমভিএন-এর কর্মী-ভাইরা শরবত তুলে দিলেন। একটু পরেই খাবারের ডাক পড়ে গেল। গরম গরম খিচুড়ি আর পাঁপড়ভাজা, যেন অমৃত। আজ রাতের খাবার সন্ধে ৬টায় দিয়ে দেবে। রাত ২টোয় যাত্রা শুরু হবে।

নাবিডাং বেস ক্যাম্প।

নাবিডাং থেকে ‘ওম’ পর্বতের দর্শন মেলে। পাহাড়ের চূড়ায় বরফে লেখা ওঁ। কপাল খারাপ। আবহাওয়া এত খারাপ যে কিছুই দেখা গেল না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমুচ্ছি। হঠাৎ অনেকের চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। ভক্তের কাতর আহ্বানে ঈশ্বর অবশেষে করুণা করলেন। বাইরে এসে দেখি, মেঘ কেটে গিয়েছে। চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে ওঁ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রণাম করলাম।

রাত ১২টায় ঘুম ভেঙে গেল। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাথায় হেডটর্চ লাগিয়ে, গায়ে চার সেট জামা চাপিয়ে, মাথায় ২টো টুপি পরে রওনা হলাম। তবু ঠান্ডা যেন কাটে না। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ছাতা নিয়ে গাইড গণেশকে অনুসরণ করে সন্তর্পণে এগিয়ে চললাম। আমাদের গন্তব্য ১২ কিমি দূরে ১৬৭৩০ ফুট উচ্চতায় লিপুলেখ পাস। গণেশ বার বার সতর্ক করে বললল – “স্যর, আপ পনি লিজিয়ে।” আজকের রাস্তা সব থেকে দুর্গম। আমি আবার দুর্গম পথ চলতেই বেশি ভালোবাসি। যে পথে রোমাঞ্চ নেই, সেই পথ আমায় টানে না। আমার ‘প্রভুর’ উপর অগাধ আস্থা। তিনি যদি কৃপা করেন, কোনো পথই আমার কাছে বাধা নয়।

‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপতে জপতে পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে এগিয়ে চললাম। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা পিঁপড়ের মতো লাইন করে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলছে। ডান দিকে নদীর জলের শব্দ। হঠাৎ দেখি জহরভাই অন্ধকারে পথ বুঝতে না পেরে খাদের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর এক ফুট দূরেই খাদ। সাক্ষাৎ মৃত্যু। হ্যাঁচকা টান দিয়ে জহরভাইকে আমার দিকে টেনে আনলাম। ঈশ্বরের অপার করুণায় এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। এই ভাবে একটা পাহাড় থেকে আরেকটা পাহাড় পেরিয়ে চলেছি। গলা শুকিয়ে আসছে। সঙ্গে গরম জল ছিল। একটু খেয়ে তাজা হলাম।

লিপুলেখ পাস যাওয়ার পথ।

খাড়া পাহাড়ে শুধুই হেঁটে চলেছি। সামনে গণেশ, আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। রাতের পাহাড়ে চলার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ এই রাতে আমি উপলব্ধি করলাম, মহারণ্যের নিজস্ব সংগীত আছে। অরণ্য-প্রকৃতির সোঁ সোঁ শব্দ ওঁকারে পরিণত হচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে পর্বতের সানুদেশে এসে পৌঁছোলাম। পুবের আকাশ আলোকিত করে সূর্যদেব উঠছেন। সূর্যের প্রথম আলোয় পর্বতের চূড়াগুলি হিরের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ব্যাগ থেকে যে ক্যামেরা বার করব, সে ক্ষমতাও নেই। শুধুই প্রাণভরে দেখা। এই দেখার কোনো শেষ নেই। যত দেখছি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতির এই রূপের সন্ধানেই তো আসা। এই রূপে যারা একবার মজেছে, তারা ঘর-সংসার ফেলে বার বার ছুটে আসে।

গণেশের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ। তবে রাস্তার বরফ গলে গিয়েছে। না হলে এই পথে হাঁটতে আরও কষ্ট হত। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে লিপুলেখ পাস, ভারত-চিন সীমান্ত। সামনের রাস্তা আরও চড়াই। অনেকের অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। দু’ পা হাঁটছি, দাঁড়িয়ে পড়ছি। কিন্তু দাঁড়ালে চলবে না। গণেশ তাড়া দিচ্ছে। বেশিক্ষণ দাঁড়ালে পা ধরে যাবে। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরের তেজ কমে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম জল শেষ। পকেট থেকে চকোলেট বার করে মুখে দিলাম। এ ভাবেই শরীর আর মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিন কিমি চড়াই অতিক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছোলাম।

আরও পড়ুন: পরমেশ্বরের সন্ধানে কৈলাস-মানসে: পর্ব ৫/ নবী হয়ে ফের গুনজিতে

শরীরে আর শক্তি নেই। প্রচণ্ড ঠান্ডা হাওয়ায় শরীর কাঁপছে। গণেশ আমাকে একটা পাথরের আড়ালে বসাল। কিছু খেজুর খেলাম। ধীরে ধীরে শরীরের বল ফিরে পেলাম। গণেশ এখান থেকে ফিরে যাবে। ও আবার ১৫ আগস্ট আসবে আমাদের এখান থেকে নিয়ে যেতে। এই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় গণেশরাই ভরসা। এদের ছাড়া পাহাড়ে এক মুহূর্ত চলা যায় না। গণেশ কাল রাত থেকে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে, কিছুই খায়নি। ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো খাবার গণেশকে দিলাম। ওর চোখে জল।

সকাল ৮টা। পাহাড়ের নীচে গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ১১ নম্বর ব্যাচের যাত্রীরা উপরে উঠে আসছেন। সঙ্গে চিনা অফিসারেরা। ওঁরা এ পারে এলে আমরা ও পারে যাওয়ার অনুমতি পাব। ওঁরা উপরে উঠে আসতেই ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল লিপুলেখ। ওঁরা আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। চিনা অফিসারেরা আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। পাহাড়ের নীচে দু’টি গাড়ি অপেক্ষা করছে। গাড়িতে উঠতেই ফলের রস আর আপেল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হল। ফলের রস খেয়ে একটু বল ফিরে পেলাম। গাড়ি ছাড়ল। চললাম তাকলাকোট।

তাকলাকোটের পথ।

তিব্বতের এই ভূমির সঙ্গে আমাদের লে-লাদাখের খুব মিল। কোনো গাছপালা নেই। শুষ্ক মরুভূমি। বিস্তীর্ণ এই রুক্ষ প্রান্তরে শুধু মাটি আর পাথর। বড়ো বড়ো গাছ এনে রাস্তার দু’ পাশে বসানো হচ্ছে। সুন্দর, মসৃণ রাস্তা, কোথাও একটা গর্ত চোখে পড়ল না। তাকলাকোটে পৌঁছে আমাদের নিয়ে গাড়ি পৌঁছোল অভিবাসন দফতরে। সেখানে আমাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মুখের ছবি মেলানো হল। আমাদের পাঁচ আঙুলের ছাপ নেওয়া হল। চোখের মণির ছবি তুলে রাখা হল। এ বার আমাদের গন্তব্য কাস্টমস অফিসে। এখানে আমাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হল। ক্যামেরা আর মোবাইলের সব ছবি দেখে নিলেন অফিসারেরা। সব নিয়নকানুন মিটিয়ে বেলা আড়াইটা নাগাদ হোটেলে এলাম। ঘরে ঢুকে গরম জলে স্নান করতেই সমস্ত ক্লান্তি উধাও। দুপুরে গরম গরম ভাত খেয়ে হোয়াটস অ্যাপে বাড়ির সঙ্গে কথা বললাম। চোখ জ্বালা করছে। হোটেল ঘরের সুন্দর বিছানায় শরীর ছুড়ে দিলাম।(চলবে)

ছবি: লেখক                          

Continue Reading

Uncategorized

বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি

Published

on

vivekananda

স্মিতা দাস

তিন ধর্মের উপাসনালয়ের গঠনশৈলির মিশ্রণে তৈরি বেলুড় মঠ। স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এই বেলুড়মঠের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৩৮ সালের ১৪ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়। ৪০ একর জমির উপর অবস্থিত মূল মঠপ্রাঙ্গন।

এই বেলুড় মঠ হল রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের বিশ্বাস অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। এই মন্দিরের মাধ্যমে বিশ্বধর্মের আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। তাই জন্যই বৌদ্ধ, মুসলিম, হিন্দু-সহ একাধিক ধর্মের স্থাপত্য ও প্রতীককে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে গোটা চত্ত্বরের বিভিন্ন স্থাপত্য। মন্দিরের মূল ফটক বৌদ্ধধর্মের স্থাপত্যের আদর্শে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল প্রবেশপথের উপরের অংশে রয়েছে উচ্চ স্তম্ভ। সেই অংশ দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের স্থাপত্যের কায়দায় নির্মিত। আবার মন্দিরের ভেতরের জানলা বারান্দা উত্তর ভারতের রাজপুত ঘরানার এবং মুঘল স্থাপত্যের শৈলি অনুসরণ করে তৈরি। মূলমন্দিরের মাঝের গম্বুজটিতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। আবার ভিতরের মেঝে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ক্রসের আকারে সুসজ্জিত। স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই মন্দিরের নকশা তৈরি করেছিলেন রামকৃষ্ণদেবের অন্য এক শিষ্য স্বামী বিজ্ঞানানন্দ।

এই হেন বেলুড়মঠ গড়ার পেছনে মা সারদার অবদান ও স্বপ্ন এবং দিকদর্শন যে সাংঘাতিক ভাবে ক্রিয়াশীল ছিল সে কথা বলাই বাহুল্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কাজ চলত আলমবাজারের এই ভাড়া বাড়ি থেকে। জায়গার সমস্যা হওয়ায় কারণে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নীলাম্বর বাবুর বাড়িতে। সেটিও ভাড়া বাড়ি। এই সময়ই বেলুড় মঠের জমিও কেনা হয়েছিল বিদেশি ভক্তদের অর্থানুকুল্যে। সেখানেই আজকের বেলুড়মঠ।

আলমবাজার মঠের ভারপ্রাপ্ত স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, কিন্তু একটা সময় এই হেন বেলুড়মঠের জমিই বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন খোদ স্বামীজি। এক সময় প্লেগ মহামারী আকার নিল। সেই সময় নিবেদিতাও রয়েছেন বাগবাজারে। অর্থাভাবের কারণে স্বামীজি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেলুড়মঠের জমি বিক্রি করে দিয়ে প্লেগাক্রান্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করবেন। স্বামীজি বলেছিলেন, তাঁরা সন্ন্যাসী মানুষ, গাছ তলাতেও জীবন কাটাতে পারবেন। কিন্তু মানুষের সেবার প্রয়োজন। সেই সময় সারদা মা তাঁকে সেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত করেন। সারদা মা বলেন, “বাবা একটা প্লেগেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? যুগ যুগ ধরে এই বেলুড় মঠ থেকে বহু মানুষের সেবা হবে।“ মায়ের এই কথার প্রেক্ষিতে স্বামীজির সিদ্ধান্ত বদলায়।

Continue Reading
Advertisement
Umar Khalid
দেশ4 hours ago

উমর খালিদের মুক্তির দাবিতে সরব অমিতাভ ঘোষ, মীরা নায়ার-সহ দুশোর বেশি বিদ্বজ্জন

KL Rahul
ক্রিকেট6 hours ago

রাহুল-ঝড়ে তছনছ বেঙ্গালুরু

KL Rahul
ক্রিকেট7 hours ago

রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়ে দুর্ধর্ষ ইনিংস কেএল রাহুলের

কেনাকাটা8 hours ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

Poorva Express
রাজ্য8 hours ago

রবিবার থেকে হাওড়া-দিল্লি স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়াচ্ছে রেল

coronavirus west bengal
রাজ্য8 hours ago

রাজ্যের সামগ্রিক করোনা-পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বাড়ল সুস্থতার হার

রাজ্য8 hours ago

সিভিক ভলান্টিয়ার ও আশাকর্মীদের বেতন বাড়াল রাজ্য, সঙ্গে হকারদের জন্য অনুদান

Yeddyurappa and siddaramaiah
দেশ10 hours ago

কর্নাটকে বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব ঘিরে নয়া জল্পনা! অনাস্থা প্রস্তাব আনল কংগ্রেস

কেনাকাটা

কেনাকাটা8 hours ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা2 days ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা6 days ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা1 week ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা2 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা3 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

kitchen kitchen
কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই ৮টি জিনিস কাজ অনেক সহজ করে দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজকাল রান্নাঘরের প্রত্যেকটি কাজ সহজ করার জন্য অনেক উন্নত ব্যবস্থা এসে গিয়েছে। তা হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট...

নজরে