ওয়েবডেস্ক : আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে চলেছে কেন্দ্রের বাজেট আধিবেশন। আসন্ন বাজেটে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নতুন কী আনতে চলেছে কেন্দ্র সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশের শিক্ষামহল। গত বাজেটের লক্ষ্য ছিল শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণের অধিকার ও কর্মসংস্থান তৈরি।  এমনিতে নয়টি স্তম্ভের মধ্যে এটি  একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু সে দিক দিয়ে দেখতে গেলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি এখনও হয়নি। শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষকদের শিক্ষাদানের পদ্ধতি সবটাই রয়ে গিয়েছে সেই পুরনো ছাঁচে বাঁধা। আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট ক্লাসরুম, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা বা পরিকাঠামোগত মানোন্নয়ন এখনও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

তার জন্য অবশ্য প্রয়োজন প্রচুর মূলধনের। সেই সবের দিকে লক্ষ্য রেখেই এই বারের বাজেট নতুন কী নিয়ে আসছে? সেটাও এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

কী কী রাখলে ভালো হতে পারে দেশের শিক্ষার ভবিষ্যৎ? তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে নানান জল্পনা। তাঁদের মতে –

কতটা শিখল পড়ুয়ারা? সেটা জানাটাও বেশ জরুরি। এর আগের বার কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল সর্বশিক্ষা অভিযান। সেই লক্ষ্যে প্রায় একশ শতাংশ সফল হয়েছে সরকারি প্রচেষ্টা। তবে এ বার দেখা দরকার স্কুলের পড়ুয়ারা শিখল কতটুকু? উন্নতি হল কতটুকু? তার জন্য অবশ্যই দরকার নির্দিষ্ট সময় অন্তর যাচাই করা।  সে দিক থেকে ‘লার্নিং আউটকাম’-এর উপর জোর দিক সরকার। এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্টমহল। শুধু তাই নয়, এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার প্রাথমিকের সঙ্গে সঙ্গে মাধ্যমিক স্তরের জন্যও। সঙ্গে স্কুল ছুটের পরিমাণ যাতে কমানো যায় সে দিকেও নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন : রাজধানী-শতাব্দী এক্সপ্রেসকে মুছে দিতে পারে এ বারের বাজেট, তা হলে নতুন কী আসছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটা স্কুলকে উন্নত পরিকাঠামোর অধীনে আনতে গেলে দরকার প্রচুর মূলধনের। সে দিক থেকে পিপিপি (প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ) মডেলের সাহায্য নিতে পারে সরকার। এক্ষেত্রে প্রাইভেট পাবলিক উভয় ক্ষেত্রই এক সঙ্গে কাজ করতে পারা যায়। এতে করে সরকারি স্কুলগুলিকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করবে বেশি আয় আছে এমন প্রাইভেট বা পাবলিক স্কুল। সে ক্ষেত্রে যে সব স্কুলের আয় ১০ কোটির বেশি বা রাজস্ব ২৫ কোটির বেশি তারা দায়িত্ব নিতে পারে সরকার চালিত স্কুলগুলির উন্নতির জন্য। এই ভাবে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের পঠনপাঠন ও অন্যান্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তা ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিএসটি ছাড় দেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা জিএসটি-র জন্য বরাদ্দ বাড়তি টাকা দিতে পারছে না। কারণ জিএসটি-র জন্য পড়াশোনার খরচ বাড়ালে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। তাই তারা পড়ুয়াদের কাছ থেকে এর দরুন অতিরিক্ত টাকা নিতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেখানে রেস্তোরাঁগুলো ১৮ শতাংশের জায়গায় পাঁচ শতাংশ জিএসটি দিচ্ছে, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন জিএসটি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে? তাদের ছাড় দেওয়া হোক। এতে করে বরং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি একটা ভালো পদক্ষেপ হবে।

এর প্রেক্ষিতে বলাইবাহুল্য, আসন্ন বাজেটের প্রতি অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে দেশের শিক্ষামহল। এখন দেখার বিষয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সেই আশায় কতটা আলো জ্বালাতে পারেন। মাঝে মাত্র কয়েকটা দিন। তার পরই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সবটা সামনে আসবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন