লোকসভার ফলে দেশ জুড়ে বিজেপি-ঝড়, বাজেটে প্রভাব ফেলবে কতটা?

0
nirmala sitharaman
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: এক দিকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ-২ সরকারের প্রথম বাজেট, অন্য দিকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসাবে নির্মলা সীতারমণের প্রথম বাজেট। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর লোকসভার অধিবেশন চালু হয়ে গিয়েছে। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায়শই জানান দিচ্ছে, লোকসভা ভোটে দেশ জুড়ে বিজেপি-ঝড়ের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। আগামী ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট-২০১৯-এও কি প্রভাব পড়তে চলেছে তারই?

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী২.০ সরকারের প্রথম বাজেটে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি বড়োসড়ো চমকও অপেক্ষা করে থাকতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলে যে বিজেপি এবং এনডিএ জোট শরিকরা সাফল্যের মুখ দেখেছে, তারই রেশ পড়তে পারে এ বারের বাজেটে। এক নজরে দেখে নেওয়া যেতে পারে তেমনই কিছু সংস্কারমূলক সম্ভাব্য পদক্ষেপ।

করের পুনর্বিন্যাস

প্রত্যক্ষ করের সংস্কার সে ভাবে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারে কতটা, সে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এই পদক্ষেপ যে সরকারের ভাঁড়ারে শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়, তা বলাই বাহুল্য। দেশের জিডিপির মাত্র ৪% জুড়ে রয়েছে এই প্রত্যক্ষ করের ভূমিকা। যা বিশ্বমানের থেকে নেহাতই কম। তবে শেষ কয়েকটি আর্থিক বছরে এই চিত্রের সামান্য হলেও অগ্রগতি ঘটেছে।

সাম্প্রতিক অতীতে সমাজের একটা বৃহত্তর অংশ (অসংগঠিত এবং স্বনির্ভর) আয়কর দাখিলে অনীহা দেখান। কিন্তু শেষ কয়েক বছরে সরকারের লাগাতার প্রচারে সেই চিত্রেরও পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। সেই ধারাকে অব্যাহত রাখতেই আয়ের ভিত্তিতে করের পুনর্বিন্যাস হতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষকে আয়কর দাখিলে আগ্রহী করে তোলার জন্য সদর্থক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে করছাড় যোগ্য আয়ের পরিমাণে আরও কয়েকটি ধাপের অন্তর্ভুক্তি করে।

ভরতুকির বিতরণ

ভরতুকি নিয়ে বহুবিধ জটিলতা রয়ে গিয়েছে সর্বক্ষেত্রেই। স্বাভাবিক ভাবেই এই ক্ষেত্রটি সংস্কারের দাবি রাখে। রাজনৈতিক কারণে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক সরকারই বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করে থাকে। বিশেষ করে সার, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য এবং খাদ্যপণ্যের উপর যে সরকারি ভরতুকি রয়েছে, তার সংস্কারসাধনের পথে হাঁটতে পারে দ্বিতীয় মোদী-সরকার।

অন্য দিকে সমাজের প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সরকারি ভরতুকি পৌঁছে দিতে প্রত্যক্ষ ভরতুকি প্রদান ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রবল। যা গত কয়েক বছর ধরেই প্রচারে নিয়ে এসেছে বিজেপি সরকার। আবার এটাও সমান ভাবে প্রগুরুত্বপূর্ণ যে, সরকারি অর্থের অপ্রোয়জনীয় এবং অযৌক্তিক খরচ কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ

কী কেন্দ্র, কী রাজ্য- উভয় সরকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অবহেলিত হয়ে রয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের সর্বজনীন চাহিদা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য। মোটামুটি সাড়ে তিন শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করা এই দুই ক্ষেত্রের বরাদ্দ বিশ্বমানের থেকেও অনেকটা নীচে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই দুই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও ঝেড়ে ফেলার নয়।

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির হাতে বাড়তি অর্থের অধিকার, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ-সহ একাধিক সংস্কার উঠে আসতে পারে এ বারের বাজেটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.