নয়াদিল্লি : বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে আর একটা খুড়োর কল। প্রতিবারই রেলের জন্য কী বরাদ্দ হতে চলেছে, টিকিটের দাম বাড়ছে কিনা, পরিষেবার কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে, পরিষেবা উন্নতির জন্য কী ব্যবস্থা করছে মন্ত্রক- এই সব সম্পর্কে জানার জন্য দেশবাসীর বিশেষ নজর থাকে। তেমনই একটা লোভনীয় বিষয়ের কথা ঘোষণা মন্ত্রকের।

রাজধানী ও শতাব্দীর বদলে নতুন প্রযুক্তির উচ্চগতি সম্পন্ন ট্রেন নামাতে চলেছে রেলমন্ত্রক। আগামী গ্রীষ্মেই শুরু হয়ে যাবে এই নতুন ট্রেনে যাত্রী পরিবহণ। না, এটি বুলেট ট্রেন নয়। বা বিদেশ থেকে আমদানি করা কোনো ট্রেনও নয়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাকটারিতে তৈরি এই নতুন রেক। মন্ত্রক সূত্রের খবর, এই ট্রেন তৈরির খরচ আমদানি করা রেকের খরচের প্রায় অর্ধেক। উল্লেখ্য, বুলেট ট্রেন আসতে চলেছে ২০২৩ সালে।

২০১৮-এর জুন মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে এই ট্রেনগুলি। প্রাথমিক পর্যায়ে শতাব্দী ট্রেনের বদলে নামানো হবে এই ট্রেন। ট্রেনগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ট্রেন১৮। চলতি বছরেই শতাব্দী বদলে গেলেও রাজধানী বদলাতে একটু সময় লাগবে। রাজধানীর বদলে নামানো হবে ট্রেন২০। ট্রেন২০ যাত্রী পরিবহণের জন্য নামানো হবে ২০২০ সালে।

আরও পড়ুন : যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের সব স্টেশন এবং ট্রেনে সিসিটিভি লাগানোর পরিকল্পনা রেলের

এই ট্রেন১৮-এর ১৬টি বগি থাকবে। প্রত্যেকটিই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, সবক’টি জানলাই কাচে ঢাকা, আধুনিক প্রযুক্তি, থাকবে জিপিএস আর ওয়াইফাই ব্যবস্থা, পুরোটাই দুর্গন্ধমুক্ত বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা, তার থেকে বড়ো কথা হল যাত্রার সময় প্রায় ২০ শতাংশ কমবে। গতি হবে ১৬০ কিলোমিটার ঘণ্টায়। যেখানে শতাব্দীর চলার কথা ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে, সেখানে বর্তমানে শতাব্দী চলে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে। নানান জটিলতার কারণে ট্রেনের চাকা জোড়ে ঘুরতে পারে না। শতাব্দী রাজধানী সব ট্রেনের ক্ষেত্রেই গল্পটা প্রায় একই। তার বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে চলতি মরশুমেই।

যাই হোক, আগেই বলেছি শতাব্দী ছাড়াও বদল হবে রাজধানীর রেকগুলিও। সেই ট্রেনগুলিও একই প্রযুক্তিতে তৈরি। এর নাম দেওয়া হয়েছে ট্রেন২০। এর গতি ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার। পার্থক্য একটাই। ট্রেন১৮ তৈরি সম্পূর্ণ স্টেনলেস স্টিলে। আর ট্রেন২০ তৈরি অ্যালুমিনিয়ামে।

এই উচ্চগতির ট্রেন হাওড়া থেকে দিল্লি যেতে সময় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা কম নেবে। শুধু তাই নয় কমবে শতাব্দী আর রাজধানীতে যাত্রার যে কোন দুরত্বের সময়ও।

গতি বাড়বে শুনেই খুশি আমজনতা। কিন্তু গতি বাড়াতে গেলে কি শুধু রেক বদল করলেই হবে? তার জন্য কি আরও অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই? সেই উত্তর অবশ্য সব থেকে ভালো জানবে মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহলই। তবে শেষ অবধি গতির পাশাপাশি নিরাপত্তাটাই কিন্তু বেশি দরকার যাত্রীদের জন্য। সেই বিষয়ে কি কিছু ভাবছে মন্ত্রক?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন