পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত দোহারের কালিকাপ্রসাদ

0
588
Kalika Prasad of Dohar Band

বর্ধমান : হুগলির গুড়াপে পথ দুর্ঘটনায় মারা গেলেন দোহারের কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার তিনি কলকাতা থেকে বীরভূম জেলার সিউড়িতে একটি অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টা নাগাদ হুগলির গুড়াপে (বর্ধমান জেলার সীমানায়) ২ নং জাতীয় সড়কে পিছন থেকে একটি লরি তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে উলটে যায় তাঁর গাড়ি।   

kalikaprasad-car

সেই সময় গাড়িতে চালক-সহ আরও ৬ জন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে কালিকাপ্রসাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আরও ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, শিল্পীর সঙ্গে ছিলেন নীলাদ্রি রায়, অর্ণব রায়, সন্দীপন পাল, সুদীপ্ত চক্রবর্তী, রাজীব দাস। গাড়ির চালকের নাম অর্ণব রায়।

কালিকাপ্রসাদের দেহ বর্ধমান থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় কেওড়াতলা শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

dead body kalikaprasad

লোকসঙ্গীত শিল্পী কালিকাপ্রদাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

গুয়াহাটি থেকে নিজস্ব সংবাদদাতার সংযোজন:

“আর শোনা যাবে না শাহ আব্দুল করিমের লেখা ও সুরারোপিত ‘দোহার’ পরিবেশিত ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম/আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম…/। অসমের সাংস্কৃতিক জগতের ব্র্যান্ড অ্যাম্ব্যাসাডর কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের অকাল প্রয়াণের অপ্রত্যাশিত খবরে বাকরুদ্ধ গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. অমলেন্দু চক্রবর্তী কেবল এতটুকু বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরই ফাঁকে বলেন, “আমার খুব কাছের ছেলে ছিল কালিকা। গ্রামাঞ্চলের গবেষণালব্ধ নানা তথ্য জানতে চাইত। আর আমার কাছে কালিকার ফোন আসবে না” বলার পরই গলা ধরে যায় অমলেন্দুবাবুর।

সিলেটের (বাংলাদেশ) বাসিন্দা ভারত-বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বজন হারানোর এই খবর ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই পেয়েছেন। কালিকা সম্পর্কে কিছু বলতে বলায় তিনিও ধরা গলায় বলেন, “আধুনিক কিছু মানুষ। একটি গানের দল। মৌলিক কোনো গান না করে শুধু বাংলা লোকগান পরিবেশন করে দুই বাংলার শ্রোতা-দর্শকের মনে স্থান করে নিয়েছেন।”

অতি সম্প্রতি এবং গত আট সেপ্টেম্বর সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজরিকার ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকায় এসে মাতিয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রাষ় এক হাজার দর্শক-শ্রোতার সামনে গেয়েছেন কুড়িটির বেশি ভূপেন হাজরিকার গান। প্রাণবন্ত কালিকা এ ভাবে চলে যাবেন, কল্পনার অতীত, ভাবতেই পারছেন না হাসান আরিফ। মঙ্গলবারই বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসছেন হাসান আরিফ, জানিয়েছেন তিনি নিজে।

kalika-dead
টোল প্লাজার কাছে কালিকাপ্রসাদের মরদেহে মালা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব বসু

এ দিকে গুয়াহাটির কালিকা-ঘনিষ্ঠ সৌমেন ভারতীয়া এ খবরে প্রচণ্ড মর্মাহত। তিনিও খবর পেয়ে অসমের সাংস্কৃতিক কলাকুশলীর প্রতিনিধি হিসেবে কলকাতার উদ্দেশে বিমানে চড়েছেন। সৌমেন বলেছেন, কালিকা ছিলেন অসমের সাংস্কৃতিক জগতের ব্র্যান্ড অ্যাম্ব্যাসাডর। তাঁর শরীর কলকাতায় থাকলেও মন পড়ে থাকত অসমে। কেবল বাংলাই নয়, অসমিয়া সংস্কৃতিকে তিনি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে অক্লান্ত প্রয়াস চালিয়েছিলেন। অসমিয়া ও বাঙালির মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনে তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন বলে জানান সৌমেন।

গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শিলচরের বিধায়ক, অসম বিধানসভার উপাধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল। তিনি বলেন, এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালাম আমরা। কালিকা শিলচরের সন্তান হলেও তিনি ছিলেন আসমুদ্র হিমাচল লোকসংগীতের গবেষক। তিনি যে ভাবে অসমিয়া ও বাঙালিকে এক সূত্রে বাঁধতে ব্রত নিয়ে এগোচ্ছিলেন তা এক অবিশ্বাস্য কর্মপন্থা। পাণ্ডু কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রশান্ত চক্রবর্তীরও প্রায় একই প্রতিক্রিয়া। কালিকা তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সকালে এই মর্মান্তিক খবর পাওয়ার পর থেকে খাওয়া-নাওয়া ছেড়ে দিয়ে বাকরুদ্ধ। তাঁকে দোহার-সম্রাট কালিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই ‘আমাদের সব শেষ’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here