জলপাইগুড়ি:-দুপুরের ভিড়ে ঠাসাঠাসি আদালত চত্বর। দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রিজনভ্যান আদালতের গেট দিয়ে ঢুকেই প্রথমে একটি ছোটগাড়িকে ধাক্কা মারে।তারপর সেই গতিতেই  কয়েকজন আইনজীবীকে প্রায় চাপা দেওয়ার উপক্রম হয়।এরপর গাড়ি থেকে চালক নামতেই ফাঁস হয় রহস্য।তখন তার টালমাটাল অবস্থা।নিজের পায়ে দাড়ানোর ক্ষমতাটুকুও নেই।

ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের।বুধবার দুপুরে আসামি সহ প্রিজন ভ্যান নিয়ে আদালতে আসেন মদ্যপ ওই চালক। ঘটনার পর আদালতের আইনজীবীরাই তাকে আটক করে রাখেন।তখন তাঁর এতটাই টালমাটাল অবস্থা যে নিজের নামটুকুও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে পারছিলেন না।
খবর দেওয়া হয় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়।পুলিশ এলে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।তখনই জানা যায় তাঁর নাম সুশান্ত রায়।তিনি শিলিগুড়ি কমিশনারেটের ভক্তিনগর থানার পুলিশ ড্রাইভার পদে কর্মরত।তিনি শিলিগুড়ি সংশোধনাগারে থাকা পাঁচজন আসামিকে নিয়ে আদালতে আসছিলেন।
ঘটনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। একজন মদ্যপ চালকের হাতে কিভাবে গাড়ি তুলে দিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক?ওই প্রিজন ভ্যানে পাঁচজন অভিযুক্ত এবং কয়েকজন পুলিশকর্মী ছিলেন।শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৫০কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসতে হয়েছে।পথে দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্ব কার ঘাড়ে বর্তাত ?
যদিও এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার শুধু জানিয়েছেন, ওই চালকে সেফ কাস্টাডিতে রাখা হয়েছে।উপর মহলে ঘটনার কথা জানানো  হয়েছে।
যদিও প্রত্যক্ষদর্শী জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অভিজিৎ সরকারের প্রশ্ন, সরকার যেখানে রাজ্য জুড়ে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচির প্রচার চালাচ্ছে সেখানে একজন পুলিশকর্মী কিভাবে আইন শিকেয় তুলে এই তাণ্ডব চালালেন?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here