নিজস্ব সংবাদদাতা: একহাতে দোনলা বন্দুক, আরেক হাতে মোবাইল। বুনো হাতির ছবি তুলতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ গেল এক নিরাপত্তারক্ষীর। জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ৩১নং জাতীয় সড়কের ঘটনা। মৃতের নাম সিদ্দিক হুসেইন। বাড়ি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকে। সুপার সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামে একটি বেসরকারি সংস্থার তরফে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মালবাজার ব্রাঞ্চে টাকা পৌঁছে দিয়ে গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন সিদ্দিক সহ বেশ কয়েকজন। সেই সময় গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মহাকালধাম এলাকায় জাতীয় সড়কে একটি বুনো দাঁতাল অনেকক্ষন ধরেই ঘোরাফেরা করছিল।তখন ওই এলাকায় বহু গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছিল হাতির আক্রমণের ভয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা গিয়েছে, সেই সময় ওই যুবক গাড়ি থেকে নেমে তাঁর সঙ্গে থাকা দোনলা বন্দুকটি নিয়ে হাতির দিকে এগিয়ে যান। এক হাতে বন্দুক বাগিয়ে, আরেক হাতে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন। হাতিটি খুব কাছে চলে আসার পরও তাঁর কোনো হেলদোল দেখা যায়নি।

এরপর হাতিটি তাঁকে আক্রমণ করে। কিছুক্ষণ তাঁকে শুঁড়ে নিয়ে লোফালুফি করার পর তাঁর মাথা পিষে দেয়। সেই ছবি ধরাও পড়েছে মোবাইলে। তাঁর সঙ্গীরা সেই পরিস্থিতি দেখে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। অন্যরাও হাতিটির রণং দেহি মূর্তি দেখে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি।

আর পড়ুন : সুন্দরবনে পিরখালির জঙ্গলে বেরোল বাঘ, দেখুন ভিডিও 

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- ঘটনাস্থলে থাকা বনকর্মীরা কেন ওই ব্যক্তিকে আটকালেন না? বন্দুক বা মোবাইল হাতে নিয়ে কেন তাঁকে এগিয়ে যেতে দিলেন? হাতি-বিশেষজ্ঞদের মত, বিরক্ত হয়েই দাঁতালটি আক্রমণ চালিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই নিরাপত্তারক্ষীকে মেরে ফেলার পরেও হাতিটির রাগ পড়েনি। রাস্তার মাঝখানে মৃতদেহ এনে পা দিয়ে লাথি মারে সে। দোনলা বন্দুকটিও দু’ টুকরো করে দেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here