Romelu Lukaku

ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের ময়দানে খেলার সুযোগ পেয়ে ফের স্মৃতি কোঠা থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসছে সেই সব দিনের কথা। যখন আড়াল থেকে ভাইবোনেরা দেখত, মা কী ভাবে দুধে জল মিশিয়ে সবার মুখে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক, বিশ্বকাপে রাশিয়া আসার অনেক আগেই সেই অভাব ঘুচে গেছে বেলজিয়ামের প্রতিভাময় ফরোয়ার্ড রমেলু লুকাকুর। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে সুনামের সঙ্গে খেললেও অনেকের ভাগ্যে অধরা থেকে যায় বিশ্বফুটবলের আসরে নজরে কাড়ার। তিনি পেরেছেন। খেলেছেন এবং খেলা দেখিয়েওছেন। তাই বলে ভুলবেন কী করে সে সব দিনের কথা!

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে বড়ো হয়ে ওঠা লুকাকুর জীবনের মোড় যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই বদলে দিয়েছে, তা মোটেই নতুন কথা নয়। তবে তাঁর দক্ষতা দেখানোর সেরা প্লাটফর্ম হিসাবে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন এবং গ্রুপ স্টেজের প্রথম ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে এক জোড়া গোল পরের ম্যাচেও সেই ধারা অব্যাহত রাখা, তো যে কোনো খেলোয়াড়ের কাছেই সব সময়ই অভিনব।

Romelu Lukaku2

কিন্তু শুরুর দিনগুলো যে বিশ্বকাপের মতো গ্ল্যামারভরা মঞ্চের সঙ্গে যথেষ্ট বেমানান ছিল, সে কথা অকপটে তিনি বলেন সাংবাদিকদের সামনে। তিনি বলেছেন, “আমার দৃঢ়তা ছাড়া আর কী-ই বা সম্বল ছিল? বেশ কয়েক বছর আগে অভিবাসী এক পরিবারের প্রতি পদে ছিল শুধুই সংকট। টাকার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত ছিল না বাসস্থানে। অন্ধকারে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো পথও ছিল না”।

আরও পড়ুন: বেলজিয়ামের চাপা গর্জন, লুকাকুর পাসিং দক্ষতার হার আঁতকে ওঠার মতোই

লুকাকু বলেন, “আমাদের হাতে সেই টাকাটাও ছিল না, যেটা দিয়ে একটা সপ্তাহ অন্তত ন্যূনতম ভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়। আমরা শুধু গরিবই ছিলাম, ভেঙে পড়েছিলাম। বাবাও ছিলেন এক জন ডাকসাইটে ফুটবলার। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারও তখন শেষ”।

২৫ বছর বয়সি লুকাকু বলেন, “১২ বছর বয়স থেকেই মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। দারিদ্রতা মোচনের সেই লড়াইটা চলেছে পরিবারের কথা ভেবে। হ্যাঁ, আমি ফুটবল দিয়ে খিদে মেটাতে পেরেছি। তার পর অনেক পথ হেঁটেছি। কিন্তু পিছনের দিনগুলো বারবার টেনে নিয়ে যায়”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here