Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

২০০৬-এ শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা ডেভিড বেকহ্যাম তো আছেনই, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের পত্রিকাগুলি টিমের ঢালাও প্রশস্তি গাইছে। অনেক বছরের খরা চলছে, তাই এবারের ইংল্যান্ড টিম সামান্য ঝলসে উঠতেই দেশবাসী প্লাস যোগ্য কলমচিদের কলম মুখরিত হয়েছে। হয়তো আশায় মরে চাষা-এ বার হবে না। ইংল্যান্ডের যে দল রাশিয়ায় খেলছে এক দম ভরপুর যৌবনের প্রতীক। বেশির ভাগ এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে, মানে হাতে গরম টাটকা। মুখিয়ে আছেন প্রমাণ করার জন্য-আনকোরা হলেও আমরা চাপ নিতে জানি এবং রিলাক্সড মুডে থেকে একে অপরকে বলছি-টেনশন লেনে কা নেহি, দেনে কা।

কোচ ফুটবলার বাছাইয়ে দারুণ ঝুঁকি নিয়েছেন, সাউথগেটের কনসেপশন উঠতিরা ভুল করলে মুহূর্তে শোধরাতে পারে। তা ছাড়া তিনি তো আঠার মতো লেগে রয়েছেনই। ওঁরা তাঁর আস্থার দাম দেবেনই।

টিমের স্ট্রাইকার ক্যাপ্টেন কেন ইতিমধ্যে প্রথম ম্যাচে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন আর কোচ তো কেন বলতে অজ্ঞান। তবে আরও এক ফরোয়ার্ড, স্টারলিং যে কোনো সময় বিপক্ষের সঙ্গে ফারাক গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা ধরেন।

england

অনেকে আগ বাড়িয়ে বলেছেন, রাশিয়ায় স্টারলিং চমক দেখালেন বলে, যদিও প্রথম ম্যাচে কেন-কে ডুবিয়েছে সতীর্থ আক্রমণ স্কোয়াড। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সেরা রাশিয়ার মাটিতে। যাকে বলে বিশ্বকাপের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং এঁদের মস্ত বড়ো গুণ এঁরা প্রতি মুহূর্তে আক্রমণে দুর্দান্ত সহায়তা করেছেন। ফুলব্যাকরা ইতিবাচক ভূমিকা নিলে আক্রমণ ভাগ অলআউট খেলতে পারে। আবার পরমুহূর্তে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহতে আঁটোসাঁটো চরিত্রে সিদ্ধপুরুষ।

পানামার কোচ হার্লন দারিও গোমেজের এই নিয়ে তিনটি বিশ্বকাপে আসা। প্রতিটি আলাদা দেশ, যেমন ১৯৯৮-এ কলম্বিয়া, ২০০২-এ ইকুয়েডর। দুটোতেই গ্রুপে অকালমৃত্যু, সেখানে পানামার ভাগ্যে কী ঝুলছে ঈশ্বর জানেন। পানামা আহামরি টিম নয়। তাই চমকপ্রদ কিছু আশা করা অন্যায়। তবে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী টিম মানেই যোগ্যতা আছে , ব্যকরণ তাই বলে। পানামা টিমে সবাই সমান মাপের। রক্ষণভাগেও টোরেসরা খানিকটা ভালো। অন্য দিকে গোলকিপার পেনিডো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য।

ও দিকে চিনের মিডিয়া আবার ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের উদ্দেশে ‘হ্যাপি ফুটবলের’ শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। সাহেবি ভাষা রপ্ত করার শুরু কি না!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here