Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

জন ল্যাঙ্গনাস বেলজিয়ামের হাঁকডাকওয়ালা রেফারি। তিন-তিনটে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলিয়েছেন। এমনকী ১৯৩০-এর প্ৰথম বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচের দায়িত্বও বর্তেছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু বেঁকে বসেন স্বয়ং জন। কারণ, ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আযোজক দেশ উরুগুয়ে এবং আর্জেন্তিনা। একেবারে যাকে বলে লঙ্কা-কাণ্ড। উত্তেজনার পারদ আকাশছোঁয়া।

এমন সময় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করল পত্রাঘাত। চিঠিটা আর্জেন্তিনার সেন্টার ফরোয়ার্ড লুই মন্টির উদ্দেশ্যে লেখা। বলে রাখি, লুইয়ের যেমন দশাসই চেহারা তেমনই তাঁকে টপকাতে গেলে পা জমা রেখে যেতে হবে। তাই তাঁকে লেখা চিঠির বয়ানে একটাই বাক্য, “সামনে মৃত্যু, সাবধান”!

চিঠির কথা পাঁচ কান হতেই রেফারি জন সাফ জানিয়ে দিলেন, “দ্যাখো বাপু, নৌকা রেডি রাখবে। আমি খেলা শেষের বাঁশি ফুঁকেই সোজা মাঠ থেকে এই ড্রেসেই নৌকায় উঠব”।

আরও পড়ুন: ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ: সেমি ফাইনালে দু’টি করে গোল করা দু’ভাইয়ের হাতেই উঠল ট্রফি

কথায় বলে, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধে হয়। দুই দলই দাবি করে, তাদের বলে খেলা হবে।কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। অবস্থা বেগতিক দেখে রেফারি জন একটা চাল চাললেন, বললেন-দু’দলের বলই মাঠে পড়বে। এক দলের বলে প্রথমার্ধে, অন্য জনের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা হবে।

কিস্তিমাত। উরুগুয়ে-আর্জেন্তিনা এক বাক্যে তাঁর সিদ্ধান্তে একমত। তবে সব দিক সঠিক ভাবে সামলে নেওয়ার পর এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চোনা ফেলে দিলেন রেফারি জন। আর্জেন্তিনার প্রথম গোল অফসাইড থেকে হলেও তাঁর নজর এড়াল। ভাগ্যিস, ওই ম্যাচে উরুগুয়ে জিতে যায়, তাই এ নিয়ে জল বেশি দূর গড়ায়নি। আর জন? …চাচা আপন প্রাণ বাঁচা-হাওয়া।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here