Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে টিম ইংল্যান্ড, এক কথায় দারুণ ব্যাল্যান্সড। বোদ্ধাদের অভিমত ছিল ইংল্যান্ডকে রোখা মুশকিল আছে, গতবার হয়েছে  এ বারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যা হোক প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য ইংল্যান্ড দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, প্রথম কলম্বিয়া এবং দ্বিতীয় ইকুয়েডর। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার জাঁকজমক হোটেলে  ইংল্যান্ড আস্তানা গাড়লো। বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে ফুটবলাররা। অধিনায়ক ববি মুর আর সতীর্থ ববি চাল্ট্রন ঠিক করলেন রুমে বসে না থেকে আশেপাশে একটু চক্কর মেরে এলে মন্দ হয় না। বেড়ালেন দুই বন্ধু। অলক্ষ্যে ভাগ্য দেবতা মুচকি হাসলেন যেন বলতে চাইলেন, আনন্দে আছিস এবার বুঝবি ঠ্যালা।

বেশি দূর যাননি কয়েক পা হাঁটতে ওদের চোখে পড়ল বিশাল এক গহনার শো-রুম। ঢুকে পড়লেন, থরে থরে সাজানো, চোখ ধাঁধানো অলঙ্কার। তবে ও সব কেনাকেটার ধারে কাছে গেলেন না দুই বন্ধু। সিম্পলি সময় কাটিয়ে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু বাইরে পা রাখতে না রাখতে দোকানের এক কর্মচারী হুট করে অভিযোগ করলেন। তাও আবার অধিনায়ক ববি মুরের বিরুদ্ধে, তিনি শো-রুম থেকে ব্রেসলেট সরিয়েছেন। ওঁরা তো হতবাক। বেশ কিছুক্ষন জিজ্জাসাবাদ করার পর তাঁদের ছাড়া হল। ফাঁড়া কাটার পর একে একে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের প্রীতি খেলা সেরে এবার রওনা দেওয়ার জন্য তৈরি ইংল্যান্ড। গন্তব্যস্থল সোজা মেক্সিকো, যেখানে বিশ্বকাপের আসর বসেছে।

কিন্তু ববি মুরের ভাগ্যে তখন শনির দশা চলছে। কোথা থেকে এক উটকো মক্কেল হটেলে হাজির হয়ে বলল, সে স্বচক্ষে দেখেছে ববি মুর ওটা হাতিয়েছে। মুরকে ঘরবন্দি করে টানা চার পাঁচ দিন চলল লাগাতার জেরা। উপায়ন্তর না দেখে টিম ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ছাড়াই মেক্সিকো অভিমুখে যাত্রা করল। কিছুতেই যখন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মিলল না তখন ববি মুরকে বলা হল, এখন আপনি মেক্সিকো যেতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে অহেতুক আইনি হয়রানির ফলে ইংল্যান্ডের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ইংল্যান্ডের সমর্থকরা এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ন্যক্করজনক বলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাদের সাফ কথা ইংল্যান্ড যাতে চ্যাম্পিয়নস না হতে পারে তারই জন্য এহেন পরিকল্পনা ছকা হয়েছে। প্রসঙ্গত ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং হ্যারল্ড উইলসন হস্তক্ষেপ করেছিলেন। বলে রাখি ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে নতিস্বীকারে বাধ্য হয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here