pele
Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

ভক্তদের আদর- ভালবাসা ফুটবলার মাত্রেই দারুণ খুশির ব্যাপার। কিন্তু কখনো- সখনো ভালবাসা অত্যাচারের পর্যায়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দেশের সম্মান জড়িত থাকলে তো কথাই নেই। আবেগ তখন উন্মাদনায় পরিণত হয়।

১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবল যুদ্ধে ব্রাজিল দলে সব হিরের টুকরো ফুটবলারে ঠাসা ছিল। পেলে, টোস্টাও, রিভেলিনো, জিয়ারজিনহো এবং ক্যাপ্টেন কার্লোস আলবার্তো। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। ধারণা আছে, অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। কিন্তু ব্রাজিল টিমে ও সবের বালাই নেই কারো। গোটা দলটাই এক সুরে বাঁধা, বিশেষ করে মেক্সিকোয় ব্রাজিল টিম তারই প্রমাণ রেখেছে। প্রতিযোগিতার ৬ টা খেলার সবকটাতে জয়। যে দল এমন খেলা খেলে তারা ফাইনালে খেলবে এতো জানা কথা।

ফাইনালে মুখোমুখি ব্রাজিল ও ইতালি। মেক্সিকোর আজটেক স্টেডিয়ামে উত্তেজনায় ফুটছে। আর যেখানে ব্রাজিল সেখানে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের দাবিয়ে রাখবে কার সাধ্য। একই ছবি মাঠে। ব্রাজিল ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে ইতালি শিবির। জেতা তো হল, কিন্তু তারপর যা ঘটল অকল্পনীয়। ফুটবলাররা এই জাতীয় পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত তাই শেষ বাঁশি বাজতেই ওঁরা ঊর্ধ্বশ্বাসে নিজেদের বাঁচাতে দে-ছুট ড্রেসিংরুমের দিকে। ততক্ষণে দর্শকরাও ব্রাজিল-ব্রাজিল বলতে বলতে মাঠে চড়াও। উন্মাদপ্রায় দর্শকদের খপ্পরে পড়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার টোস্টাও, এরপর তাঁর যা শোচনীয় অবস্থা হল কহতব্য নয়।

একে একে অসংখ্য হাত ছিনিয়ে নিল খেলার শার্ট, মোজা, শিনপ্যাড এবং জুতো জোড়া। নিঃশব্দে সমর্পণ বুদ্ধিমানের কাজ। যখন ছাড়া পেলেন টোস্টাও তখন পোশাক বলতে লজ্জা নিবারণের জন্য একমাত্র সম্বল আন্ডারওয়্যার। পেলেকে কব্জা করার মতন সুযোগ মেলেনি। তবে তারই ফাঁকে ওঁর মাথায় খড়ের টুপি সেঁটে দিয়েছে ভালবাসার জনরা। উল্লেখ্য, তিনবার বিশ্বকাপ জেতার সুবাদে সে বার জুলে রিমে ট্রফি বরাবরের জন্য ব্রাজিলের লকারে সসম্মানে স্থান পেল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here