Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

সে বছর ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এল এক সঙ্গে দু’টো যুগান্তকারী উপহার। ১৯৫৮-এর ওই বিশ্বকাপে প্রথম উপহারটা ছিল-গতানুগতিক ছকের পরিবর্তে ৪-২-৪ ছকের উত্থান এবং দ্বিতীয়টা হল, পেলের আবির্ভাব। ভিসেন্ট ফিওলার তত্ত্বাবধানে ব্রাজিলের যে দল সুইডেনে পা রাখল, এর আগে ইউরোপে এমন অসাধারণ দলের সাক্ষাৎ মেলেনি বললেই চলে। ভারসাম্য়ে বিন্দু মাত্র ঘাটতি নেই। ফিওলা আবার পাশে পেলেন ডা. হিলটন গসলিংকে। যিনি ফিওলার থেকে এক কাঠি উপরে। মনের মতো অনুশীলন শিবিরের জায়গা খুঁজতে ডাক্তার সাহেব সুইডেন চষে ফেলেছেন এবং শেষে পেয়েওছেন।

গোথেনবার্গের বাইরে মনোরম স্থান, গাছ-গাছালি বেষ্টিত সবুজের সমারোহ, প্রকৃতির অপূর্ব দান। রাশিয়ানরাও কমতি নন। তাঁরাও ঠিক জায়গাটার সন্ধান পেয়ে সেখানে আস্তানা গেড়ে বসলেন। মস্ত ধুরন্ধর দেশ ব্রাজিল কোন জায়গায় আনুশীলন করছে ঠিক তার সন্ধান নিয়ে নিল। সেখানে গিয়ে গাছের ফাঁকফোকর দিয়ে যা দেখল, তাতে চোখ ছানাবড়া। ব্রাজিলের ফুটবলাররা উৎসবের আনন্দে অনুশীলনে মাতোয়ারা।

নাচ-গান-বাজনা, কী নেই যা ওরা করছে না। সে সব দেখে মাথা ঘুলিয়ে গেল রাশিয়ানদের। তবে এর পর তাঁরা আর ও-মুখো হননি।

ব্রাজিল চরিত্র এমনই-উচ্ছ্বল প্রাণবন্ত, যা ফুটবলেও সঞ্চারিত হয়েছে। ১৯৫৮-র বিশ্বকাপ আসরে ব্রাজিল সম্পূর্ণ নয়া সাজে সজ্জিত হয়ে সুইডেন পাড়ি দিয়েছিল। প্রতিটা বিভাগেই ছিল কোনো না কোনো নতুনত্বের চমক। যা ব্রাজিলকে অন্য দেশের কাছে খুব সহজেই অস্ত্র প্রয়োগ এবং তার সুফল পেতে সাহায্য করেছিল। তবে বারবারই চলে আসে পেলের নাম। বয়স সতেরো। আন্তর্জাতিক ফুটবল ময়দানে যাঁর জন্য একান্ত মানানসই সেই প্রবাদ, ভিনি-ভিডি-ভিসি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here