football
Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

( পরবর্তী অংশ) পেরুর চার শহরের চার কয়েদখানায় জেলার সাহেবরা ফোনে নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক কথা সেরে চা–চক্রে মিলিত হন। চায়ের কাপে তুফান উঠল যখন চার দুঁদে মাথা নিজেদের প্ল্যান টেবিলে ফেলে টুর্নামেন্ট হবে ফাইনাল করলেন। কীসের টুর্নামেন্ট কেনই বা হবে সমস্ত সংশয়ে জল ধেলে ব্লু-প্রিন্ট তৈরির চার হোতা তাঁদের বয়ানে জানালেন – পেরু বিশ্বকাপে এতকাল বাদে সেলিব্রেট মাস্ট, তবে স্বার্থপরের মতন নিজেদের মস্তি নয়, যাঁদের সঙ্গে আমাদের সঙ্গ আজীবনের, সেই জেলবন্দিরা এই কর্মসূচির সব মুখ্য কুশীলব।

কিরকম, ভেরি সিম্পল চার কারাগারের বন্দিদের নিয়ে ট্রায়াল ম্যাচ খেলিয়ে বাছাই করা খেলিয়েদের চারটে গ্রুপে ভাগ করা হচ্ছে। এদের থেকে দুটো দেশ ফাইনালে খেলবে। আলাদা ফাইভ স্টার হোটেলে, এসি বাসে যাতায়াত সব ব্যবস্থা কমপ্লিট, তবে নির্দেশ জারি করা হয়েছে সামান্য বেচাল দেখলে সেই টিম ঘ্যাচাং-ফু। পেশাদার রেফারি লাইন্সম্যান খেলা পরিচালনা করবেন এবং খেলার আগে জাতীয় সংগীত বাজবে। বলতে পারেন এটা ছায়া বিশ্বকাপ অর্থাৎ বড়র মিনিসাইজ। হ্যাটস অফ জেলার্স। লিমা স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা নেই।

ফাইনাল যুদ্ধে পেরু ও রাশিয়া, লুরিগ্যাংকো পেরুর প্রতিনিধি আর রাশিয়ার প্রতিনিধি করছে পেরুরই সিমবোতে। ফাটাফাটি খেলার টক্কর চলছে সমানে সমানে। পেরুর কোচের নির্দেশে বল আয়ত্তে রেখে যত পার পাস খেলো। পেরুর লুরিগ্যাংকো জেলের আসামীরা ওয়ান টাচ ফুটবল খেলছে। ওয়াল তৈরি করছে। গ্যলারি থেকে ওঁদের সন্তান গলা চিরে ফেলেছে- ড্যাডি কম অন কিল দেম। কারুর বাবা ভাঙাচোরা চশমার ফাখ দিয়ে দেখতে দেখতে হার সর্বশ্য পাঁজরে আওয়াজ তুলছে, লড়ে যা ছাড়বি না, কোন স্ত্রী, মা বিড়বিড়িয়ে বলছেন জয় চাই জয়।

পেরু জিতল পেনাল্টি শুটে। বিজয়ী দেশ পেল কাপ, সোনার পদক, খেলার সাজ-সরঞ্জাম, কাপজয়ী লুরিগ্যাংকোর ক্যাপ্টেন টমাস ম্যানুয়াল আগুরি খেলা শেষে ধরা গলায় বললেন আমি এই সম্মান আমার পরিবারের সঙ্গে বেঁটে নিলাম। কিছুক্ষণের জন্য নির্ভেজাল শ্বাস নিলাম, জানি আবার আমাকে ফিরতে হবে অন্ধকার কুঠরিতে, তবুও কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। সব খেলার সেরা আমাদের ওই ফুটবল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here