Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

ক্রিশ্চিয়ানো কমপ্লিট ফুটবলার বলেই ফুটবলের সব অসুখগুলো মুখস্থ। ক্রনিক রোগ চিন্তায় ফেলে না, টানা ওষুধে আয়ত্তে থাকে। কিন্তু বলা-কওয়া নেই হুটহাট খুচরো শারীরিক ঝামেলগুলো সমস্যায় ফেলে। ধরে নিলাম তার জন্য টোটকা দাওয়াই মজুত আছে, চালিয়ে নিতে পারবেন ফুটবলার। কিন্তু মনের যন্ত্রণা চাগালে কোনো ওষুধই সে ভাবে কাজে লাগে না। ফুটবলারের পায়ে বল পড়া মাত্র শরীর ও মন দুই-ই এক যোগে খেলতে শুরু করে। একটাকে বাদ দিলে অন্যটা অথর্ব। সব খেলাতেই আছে, তবে মনে হয় ফুটবলে একটু বেশি। কিন্তু হঠাৎ খেয়েদেয়ে কাজ নেই রোনাল্ডোর মন খারাপ হবে কেন?

এগুলো আচমকাই আসে এবং দখল নেয় খেলার অঙ্গ হিসাবে। বুধবারের ম্যাচে অতিবড়ো সমর্থকও বলবেন না, মরক্কো ফেভারিট। কিন্তু এটাও গ্যারান্টি দেওয়ার বুকের পাটা নেই-পর্তুগাল হেলেদুলে জিতবে। যা রোনাল্ডো নিজেও জানেন। আসলে রোনাল্ডোর প্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডো নিজেই। ওঁর মধ্যে নিজেকে জাহির করার প্রচণ্ড ইচ্ছা কাজ করে, অর্থাৎ আমি-ই পারি না-কে হ্যাঁ করতে। প্রমাণিত সত্য, তবুও তেত্রিশে পৌঁছে এত অসাধারণ কীর্তিকলাপ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ভাবতে হচ্ছে পর্তুগালের জাহাজ আসল বন্দরে ঘাঁটি গাড়তে পারবে তো?

cristiano ronaldo1

রোনাল্ডোই পর্তুগালের মূল কান্ডারি। মরক্কোর কোচের মনে ফন্দি থাকতে পারে, আইসল্যান্ড যেমন মেসিকে কানা করে দিয়েছিল, রোনাল্ডোর বেলায় তেমনটাই। ঘিরে-ধরে-মেরে ওঁর ছন্দ-প্রত্যয় নষ্ট করাটাই হতে পারে মরক্কোর স্ট্র্যাটেজি এবং সেটা প্রথম থেকেই। সেই বিষয়টা আঁচ করেই রোনাল্ডো তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিয়েছেন।

যেমন ওঁর সঙ্গে সঙ্গত করার জন্য যোগ্য দোসর খুঁজেছেন অন্য দিকে আমিত্বও থোলা রাখছেন। ফলে উদার মনে গলা ছেড়েছেন রোনাল্ডো- আমার অবসরের পর আমি নিশ্চিন্ত পর্তুগালের জোয়াল বইবার জন্য পেয়ে গেছি দুর্দান্ত এক স্ট্রাইকার আন্দ্রে সিলভা-কে। এটা ঘটনা, রোনাল্ডো-আন্দ্রে কেমিস্ট্রি দারুণ ক্লিক করছে। অর্থাৎ রোনাল্ডোকে চাপলেও আন্দ্রে ফাঁকায় ফাঁকায় নিজের কাজ সারতে পারবেন। এই রেসিপি এখন শেষ অব্দি চলুক, চাইছেন মহানায়ক, কারণ যেই যত খেলুক তিনি কিন্তু তিনি-ই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here