Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

১৬ দলের গোলকিপার ফোনাফুনি করে এক জায়গায় মিট করেছেন। এখানে নিজের আখের গোছানোর কোনো বিষয় নেই। যেহেতু সমস্যা সমষ্টিগত এবং দিশেহারা হচ্ছেন তাঁরা। এজেন্ডা একটাই- চলতি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ফুটবল। বলের অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড-কারখানায় গোলরক্ষকরা রীতি মতো চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। জাজ করছেন এক রকম আর ঘটছে আর এক রকম। কারণ, বলের গতিপথ বাতাসে এতটাই বাঁকছে যা মাঝেমধ্যে আন্দাজ করা শিবের অসাধ্য। বিশেষ করে ফ্রি-কিক পারদর্শী ফুটবলারদের শটি বল যেন গুণে গুণে পা ফেলছে।

খেয়াল নিশ্চয় করেছেন, এ বারের বিশ্বকাপে কিছু অবিশ্বাস্য গোল হয়েছে। যেমন স্পেনের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে রোনাল্ড ফ্রি-কিক থেকে সকলকে দাঁড় করিয়ে রেখে গোল দিয়ে দলকে সমতায় ফেরালেন। আবার টিমের মরণ-বাঁচন ম্যাচে জার্মানির ক্রুস সুইডেনের বিপক্ষে সেই অনবদ্য ফ্রি-কিক নিয়ে কোনো রকমে সে যাত্রায় অস্তিত্ব রক্ষা করেছিলেন। রাশিয়ার চেরিশেভের দুরন্ত ফ্রি-কিক তাক লাগিয়ে দিয়েছিল শুধু সৌদি আরবকে নয়, গোটা বিশ্বকে।

তবে নামের পিছনে দক্ষতা মাস্ট। ১৯৫০-এ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ডিডি প্রথম এই জাতীয় বাঁক খাওয়া ফ্রি-কিকের জন্ম দিলেন। ডিডিই বিশ্ব ফুটবলের আসরে দেখালেন, ফুটবলকেও এ ভাবে বাঁক খাওয়ানো যায়। ইউরোপে বেশি বৃষ্টি হওয়ার দরুন বল ভিজে ভারী হয়ে যেত, ফলে ঘুরত না। লাতিন আমেরিকার আবহাওয়া শুকনো এবং গরম, যার দরুন বল বাঁক নিত বেশি। দক্ষ ফুটবলাররাও ফায়দা তুলতেন। ১৯৬০-এ এল সিন্থেটিক বল, তখন আবার ইউরোপের রমরমা। আগে ৩২ প্যানেলের সেলাই বল তৈরি হতো, পরে সেটা দাঁড়ায় ২৪-এ। এখন আবার কমে ১৪।

Goal 1

ফুটবল বিশেষজ্ঞ ড. কেন ব্রে ব্যাখ্যা দিলেন, প্যানেল বেশি হলে বাঁক হবে কম, আর কম হলে উল্টো। আর সেই সঙ্গে জুড়বে ফুটবলারের ক্যালি, সেখানেও এক অঙ্ক সুইং বেশি করলে ফল হবে সমানুপাতিক।

ব্রাজিলের রোনাল্ডিনহো ওস্তাদ ছিলেন সাইডস্পিনে আর ইংল্যান্ডের বেকহ্যাম টপস্পিন মাস্টার। তবেই না ফ্রি-কিক ম্যাজিক! পদার্থ বিজ্ঞানের অঙ্ক অনুসারে ফুটবল ঘুরপাক খেতে খেতে যাওয়ার সময় পিছনের অংশের বাতাসে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করে যার দরুন সামনে দু’পাশে চাপের পার্থক্য হয়, যা বলের গতিপথের হেরফের ঘটায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here