ওয়েবডেস্ক: অবশেষে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল আর্জেন্তিনার ফুটবল সংস্তা। আগামী শনিবার বিশ্বকাপের আগে মেসিদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল ইজরায়েলের বিরুদ্ধে, জেরুজালেমে। সেই ম্যাচ বাতিল করে দেওয়া হল।

বস্তুত, ইজরায়েলের রাষ্ট্র জন্মের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ওই ম্যাচের আয়োজন করেছিল ইজরায়েল। পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে বার্তা দিতে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল জেরুজালেমে। যে শহরের উপর ইজরায়েলের অধিকার নিয়ে গোটা দুনিয়ায় বিতর্ক রয়েছে। আমেরিকা ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেও বহু দেশই মনে করে ওটা তাদের দখল করা অঞ্চল। তার ওপর যে টেডি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হত, সেটি ছিল একটি প্যালেস্তাইনি গ্রাম। ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যে গ্রামটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। দেশে আরও অনেক স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও সরা দুনিয়ার সামনে জেরুজালেমের ওপর নিজেদের অধিকার দেখানোর জন্যই সেখানে ম্যাচটি আয়োজন করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইজরায়েল।

সব মিলিয়ে ম্যাচ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্যালেস্তাইনের পক্ষ থেকে বিরোধিতা শুরু হয়। আর্জেন্তিনায় প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রীয় স্তরে এর বিরোধিতা করেন। ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ রয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনার। লাতিন আমেরিকার দেশটি ই দ্বীপটিকে নিজেদের মনে করলেও সেটিকে দখল করে রেখেছে ইংল্যান্ড। সেই উদাহরণ দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফকল্যান্ডে যদি ব্রিটিশরা উৎসব করে, তাহলে আর্জেন্তিনার যেমন লাগবে, এক্ষেত্রেও তেমনই মনোভাব প্যালেস্তাইনিদের। সে দেশের সংগ্রামী জনগণের পক্ষ থেকেও মেসি ও আর্জেন্তিনাকে অনুরোধ করা হয় ম্যাচটি না খেলতে যাওয়ার জন্য। বলা হয়, “সামরিক দখলদারির মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে কিছু হয় না”। যতদিন না ইজরায়েল প্যালেস্তাইনিদের মানবাধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, ততদিন সে দেশে না খেলারও আবেদন জানানো হয়।

মহম্মদ খালিল নামে এক প্যালেস্তাইনি ফুটবলার মেসিকে আবেদন জানান ম্যাচটি না খেলার জন্য। এই বিষয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে স্নাইপারের গুলিতে তাঁর দুই পা মারাত্মক জখম হয়। তিনি আ্রর ফুটবল খেলতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল করে দিল আর্জেন্তিনা।

১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপেরআগে ইজরায়েলের সঙ্গে চারটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে মেসি-মারাদোনার দেশ। সেই ইতিহাস এবার থমকে দাঁড়াল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here