আর্জেন্তিনা-২     নাইজেরিয়া-১

ওয়েবডেস্ক:রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে মেসিদের দিয়ে। প্রতিপক্ষ গ্রিজম্যান-পোগবা-এমবাপের ফ্রান্স। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায়। মেসিদের গ্রুপ থেকে প্রথম হয়ে উঠল ক্রোয়েশিয়া। রবিবার রাত সাড়ে এগারোটায় তাঁরা খেলবে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে। ক্রোটরা আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশের ন’জনকে বাদ দিয়ে নেমেছিল। তাও শেষ মুহূর্তের গোলে তাঁরা আইসল্যান্ডকে হারাল ২-১ ফলে।

মানে যেটা দাঁড়াল, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া দুই দলই আইসল্যান্ডকে হারাল। শুধু পারল না মেসির আর্জেন্তিনা। তবু কিসের ভরসায় কে জানে, সাম্পাওলি সোমবার বলেছিলেন, তাঁরা ফাইনাল খেলবেন(মেসির ভরসাতেই যে, সেটা গোটা দুনিয়া বোঝে)। এদিন তো গ্যালারিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্তিনোও ছিলেন না। হয়তো ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ছিলেন। নাকি এদিনও মেসিদের খেলাই দেখছিলেন, টিভিতে দেখায়নি। যাই হোক, তিনি কিন্তু প্রি ওয়ার্ল্ড কাপে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে মেসিদের মরণবাঁচন ম্যাচে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন। সেদিন মেসি হ্যাটট্রিক করেন। ইকুয়েডরের পাঁচ ফুটবলার সাময়িক সাসপেন্ড হন। কয়েকদিন আগে নাইজেরিয়া বনাম আইসল্যান্ড ম্যাচেও গ্যালারিতে ছিলেন ইনফ্যান্তিনো।

বাজে কথা থাক। এদিন খেলার শুরুতেই মেসি চমৎকার গোল করেছেন। একটি দারুণ পাস বাড়িয়েছেন। ফ্রিকিক থেকে গোল না পেলেও চমৎকার মেরেছিলেন। তাঁর ভক্তদের আশা অনেক। তবু তিনি গোল তো পেলেন। হোক না এদিনের আর্জেন্তিনা দলের গড় বয়স ৩০ বছর ১৯০ দিন। হোক না গোটা ম্যাচ কিচ্ছু না করতে পারা সত্ত্বেও ইগুয়াইনকে পরিবর্তন করতে পারেননি সাম্পাওলি। হয়তো তাঁর মতো ভালো মেসিকে বোঝার লোক নেই রিজার্ভ বেঞ্চে। সত্যি বলতে কি, এই আর্জেন্তিনা দলটাই বাছা হয়েছে, ‘কে কত ভালো মেসিকে বোঝেন’, তার ওপর দাঁড়িয়ে। নইলে মাসচেরানো এদিন যেভাবে খামোকা পেনাল্টিটা দিলেন, তারপর তাঁকে বিশ্বকাপেই আর নামানো উচিত নয়। কিন্তু উপায়ই বা কি! মেসি তো রাজপুত্র ফুটবলের। ভগবান তো আর্জেন্তিনা ম্যাচে বহুদিন হয়ে গেল গ্যালারিতে বসেন। আর রাজপুত্ররাও তো মানুষ। সেজন্যই সময় নষ্ট করে এদিন হলুদ কার্ড দেখলেন লিও।

প্রথমার্ধের মাঝখান থেকেই বল তাড়া করতে শুরু করেছিল সুপার ঈগলস। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেয়ে তাঁরা প্রাধান্যে চলে যায় বেশি কিছুটা সময়। তবু তো ফুটবল ঐতিহ্য বলে একটা বিষয় থাকে। অভিজ্ঞতার দাম থাকে। তবু মেসি থাকেন। তাই এবারও বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকান দলকে হারানো হল না নাইজেরিয়ার। চারবারের পর পঞ্চম বারেও বিশ্বকাপে নীলসাদা জার্সির কাছে হারল সবুজ।  আরও কি আদ্ভুত! গত বিশ্বকাপেও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন মেসি(দুটি), এবারও করলেন। গতবারও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মাকোর্স রোহো। এবারও করলেন(৮৬ মিনিটের মাথায়)।

যা হোক, আরও অন্তত পাঁচদিন বিশ্বকাপে মেসি থাকবেন(পরের কথা পরে)। এই তো জীবন, হে কলকাতাবাসী!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here