ক্রোয়েশিয়া- ৪(২)        রাশিয়া-৩(২)

ওয়েবডেস্ক: ক্রোয়েশিয়ায় অনেকে দাবি করেন, দেশে যত সমস্যাই থাক, ফুটবল সবাইকে এক করে দেয়। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর সে দেশের পরিস্থিতি অনেকটাই পালটে গেছে। দেশে দারিদ্র বেড়েছে, অর্থনীতি নিম্নমুখী, রাজনৈতিক দলগুলির লড়াই ব্যাপক। আর এই পরিস্থিতিতে দেশের ফুটবলাররা নীরব। ক্ষোভে বহু নাগরিক বিশ্বকাপে দেশের ফুটবল দলকে সমর্থন করছেন না। পরিস্থিতিতে ঘি ঢেলেছেন লুকা মদরিচ। দুর্নীতিগ্রস্ত ফুটবল শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। কারণ তিনি তাঁকে একদা ক্লাব বদল করে আর্থিক সুবিধা পেতে বেআইনি ভাবে সাহায্য করেছিলেন।বিশ্বকাপের পর তাঁর বিচার শুরু হবে। সেই শীর্ষকর্তা আপাতত দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আর সেই মামিচের সঙ্গেই দারুণ সম্পর্ক ক্রোয়েশিয়ার দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার কিত্রারোভিচের। আগামী বছর সে দেশে নির্বাচন।

এদিন সারাক্ষণ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গ্যালারিতে থাকলেন কোলিন্দা। নিন্দুকেরা বলছেন, এ তাঁর ভোট জোটানোর কৌশল। সে যাই হোক, এদিন তাঁর ছেলেরা নিরাশ করেননি। ১২০ মিনিটের খেলার অধিকাংশ সময় প্রাধান্য ছিল মদরিচ-রাকিতিচদের। যদিও রেকর্ড বুকে লেখা থাকবে না, কি দুরন্ত লড়াইটাই না করেছে রুশরা। ৩১ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে চেরিশেভের দুরন্ত গোল দিয়ে যার শুরু।

৪১ মিনিটেই সে গোল শোধ করে দেয় ক্রোয়েশিয়া। তারপর ম্যাচে প্রাধান্য ছিল ক্রোটদেরই। যার হাত ধরে অতিরিক্ত সময়ের ১০১ মিনিটে এগিয়ে যায় তাঁরা। সারা ম্যাচে রক্ষণে ব্যস্ত রুশদের দেখে যখন মনে হচ্ছিল ক্রোটদের সেমিফাইনাল যাত্রা নিশ্চিত, তখনই, অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিলেন স্মোলভ-ফার্নান্দেজরা। ১১৫ মিনিটে গোল শোধ। বাকি সময়টাও গোল বাঁচাল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু টাইব্রেকারে দুই গোলরক্ষকের লড়াইটা জিতে গেলেন সুবাসিচ। যে ফার্নান্দেজ গোল করে রাশিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন, তিনি মিস করেলেনন। একটি করে শট বাঁচালেন দুই গোলরক্ষকই।

চেরিশেভের দুরন্ত গোল

রুশদের রূপকথা তৈরি হল না এবার, দক্ষিণপন্থী কোলিন্দার প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসার স্বপ্নপূরণ কি হবে? তার জন্য ১১ জুলাই আপাতত ব্রিটিশদের হারাতে হবে ক্রামারিচদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here