england football team 2018

ওয়েবডেস্ক: সেই কবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলেছিল ইংল্যান্ড! নব প্রজন্ম তো ভুলেই গিয়েছে, তারা হয়তো অতশত হিসেবের ধারও ধারে না। কিন্তু ষাটোর্ধ্ব মানুষজন যাঁরা, তাঁরা হয়তো স্মৃতি হাতড়ে বার করার চেষ্টা করবেন, মনে করতে পারবেন হয়তো, তাঁদেরই শৈশব-কৈশোরে সেই কাণ্ডটা ঘটেছিল। পেরিয়ে গিয়েছে এক এক করে ৫২টা বছর। সেই ১৯৬৬-তে শেষ ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড। আবার আশায় বুক বাঁধছেন ষাটোর্ধ্বরা।

নব প্রজন্ম বলছে, আরে এখনই ফাইনালের কথা আসছে কেন? মাঝে তো আর একটা বাধা আছে। সেই বাধা তো আগে কাটাতে হবে, তার পর তো ফাইনাল। সেই বাধা এসেছে ক্রোয়েশিয়ার রূপ ধরে।

এ বারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রোয়েশিয়া। আর এই আপাত নিরামিষ তথ্যটার মধ্যে লুকিয়ে আছে একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য।

নয় নয় করে ২৮টা বছর কেটে গিয়েছে, ইংল্যান্ড ফের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলছে। শেষ খেলেছিল তারা ১৯৯০-এর জুনে। সে বার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পশ্চিম জার্মানি। পেনাল্টি শুট আউটে হার মানতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে।

আবার সুযোগ এসেছে ইংল্যান্ডের। কিন্তু এ বার তাদের সামনে পুচকে একটা দেশ। আয়তনে ইংল্যান্ডের এক-তৃতীয়াংশেরও কম, লোকসংখ্যা তো নগন্য, মাত্র ৪৩ লক্ষ। আর বয়স? শেষ বার যখন ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল খেলে তখন ক্রোয়েশিয়ার কেউ সে খেলা দেখেইনি। দেখবে কী করে? দেশটারই তো জন্ম হয়নি। দেশটার জন্ম হল আরও এক বছর পর, ১৯৯১ সালের ২৫ জুন।

ইংল্যান্ডের বরিষ্ঠ মানুষজনের অনেকেই বলছেন, যে দেশে ফুটবলের জন্ম, যে দেশে ফুটবল কয়েক শতাব্দীর খেলা, তার সঙ্গে খেলা হচ্ছে কিনা এমন একটা দেশের যাদের বয়স সবেমাত্র ২৭, ফুটবল-সংস্কৃতি তো দূরের কথা। আত্মগরিমায় একটু ঘা লাগছে বই-কি!

নব প্রজন্ম ভাবছে, হয়তো ভালোই হয়েছে তরুণ একটি দেশকে সেমিফাইনালে পেয়ে। নামে ভারী কোনো দেশকে সেমিফাইনালে পেলে কী হত বলা যায় না। ক্রোয়েশিয়াকে সামনে পেয়ে হয়তো ফিরিয়ে আনা যাবে সেই ৫২ বছরের আগের দিনটাকে। আবার ফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ জিতবে।

বিশ্বকাপ জিতবে কি না সে পরের কথা। আপাতত সেমিফাইনালের বাধা টপকাল কি না তা দেখার জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক দিন।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here