ম্যাচ শেষে সেনেগালের খেলার ফল জানতে অপেক্ষায় জাপান দল

ওয়েবডেস্ক: অঘটনের বিশ্বকাপ এবার লজ্জার বিশ্বকাপে পরিণত হল। পরিণত করল এশিয়ার উদিত সূর্যের দেশ।

এদিন গ্রুপ এইচের শেষ দুটি ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে জাপান এবং সেনেগাল, দুই দলেরই পয়েন্ট ছিল চার। দুই দলেরই গোল পার্থক্য ছিল শূন্য। এবং দুই দলই গোল দিয়েছিল চারটি করে। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে পেছনে ছিল কলম্বিয়া। পোল্যান্ড ইতিমধ্যেই কাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল।

এদিন জাপান বনাম পোল্যান্ডের খেলায় ৫৯ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে যায় পোল্যান্ড। তখনও ড্র চলছিল সেনেগাল বনাম কলম্বিয়া ম্যাচ। সেই অবস্থায় দুটি খেলা শেষ হলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেত সেনেগাল ও জাপান। কিন্তু ম্যাচের ৭৪ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। এই সময়ই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। দেখা যায়, সেই অবস্থায় দুটি খেলা শেষ হলে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে কলম্বিয়া। অন্যদিকে দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে জাপান।

কীভাবে?

ওই পরিস্থিতিতে খেলা শেষ হলে জাপান ও সেনেগালের পয়েন্ট থাকত চার। গোলপার্থক্য ও স্বপক্ষে গোলের সংখ্যাও ছিল সমান। কারণ দুই দলই তখন এক গোলে পিছিয়ে। কিন্তু গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে জাপান। কারণ এমন অবস্থায় ফিফার ‘ফেয়ার প্লে’ নিয়ম কার্যকর হয়। অর্থাৎ কোন দল কম কার্ড দেখেছে, তা দেখা হয়। সেই মতো দেখা যায়, সেনেগাল টুর্নামেন্টে তখনও পর্যন্ত ৬টি হলুদ কার্ড দেখেছে, জাপান দেখেছে ৪টি হলুদ কার্ড।

এই অবস্থায় ঝুঁকি নেয় জাপান। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে তাঁরা নিজেদের অর্ধে নিজেদের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে বল দেওয়ানেওয়া করতে থাকে। পোল্যান্ডও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখে বল তাড়া করেনি। সেই অবস্থাতেই এক সময় ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। তখনও সেনেগাল বনাম কলম্বিয়া ম্যাচের কিছুক্ষণ বাকি ছিল। দেখা যায়, জাপানের কোচ ও খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেনেগালের খেলা শেষ হওয়ার জন্য টেনশন নিয়ে অপেক্ষা করছেন। শেষ পর্যন্ত সেনেগাল গোল শোধ করতে না পারায় ১-০ গোলে জেতে কলম্বিয়া। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারাই গ্রুপ শীর্ষে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেল জাপান। ২০১০ সালের পর আবার দ্বিতীয় রাউন্ডে গেল জাপান।

ঝুঁকি ছিল 

শেষের যে দশ মিনিট জাপান চূড়ান্ত আনস্পোর্টিং মনোভাবের পরিচয় দিয়ে পায়ে হঁটে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়ানেওয়া করল, যদি সেই সময় সেনেগাল অন্য ম্যাচে গোল দিয়ে ম্যাচ ড্র করে দিত, তাহলে কিন্তু জাপানকে পয়েন্টের বিচারেই  বিদায় নিতে হত। কিন্তু জাপান গোল দিতে গিয়ে গোল খাওয়ার বা কার্ড দেখার ঝুঁকি নেয়নি। কারণ গোল শোধ না করেই যখন দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া যাচ্ছে, তখন গোল করার দরকারটা কী! কিন্তু সেনেগাল অন্য ম্যাচে গোল দিলে তাঁর কি নতুন করে আক্রমণে যেত? যদি তাঁরা আক্রমণ করত, তাহলে পোল্যান্ডের ভূমিকা কী হত? কোনো গড়াপেটার বোঝাপড়া কি তলায় তলায় হয়ে গেছিল? শেষ দশ মিনিট পোল্যান্ডের কোনো উদ্যোগ না নেওয়াটা সেই দিকে কিছুটা হলেও ইঙ্গিত করে বইকি। যদিও এই প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর কোনোদিনও জানা যাবে না।

এই দশ মিনিট নিয়ে ফিফা কী অবস্থান নেয়, তা সময়ই বলবে। কিন্তু ‘ফেয়ার প্লে’-র কৃতিত্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা দল যে চূড়ান্ত আনফেয়ার খেলার দৃষ্টান্ত তৈরি করল। তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে থেকে যাবেই।

দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপান খেলবে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মধ্যে যারা জি গ্রুপে প্রথম হয়ে উঠবেস তাদের সঙ্গে। দ্বিতীয় দলটির সঙ্গে খেলবে কলম্বিয়া।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here