france croatia 2018
Arunava Gupta
অরুণাভ গুপ্ত

১৯৯৮-এর সেমি। চোখের সামনে স্পষ্ট পরিসংখ্যান। ফ্রান্স ২-ক্রোয়েশিয়া ১। দীর্ঘ ২০ বছর বাদে এই ফলাফলের কতটা হেরফের হবে আগামী রবিবার? এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে লুঝনিকিতে ম্যাচ শেষের বাঁশি না বাজা অবধি অপেক্ষা করতেই হবে। তার আগে এগিয়ে থাকার স্বার্থে কিছু ফিরে দেখা।

“১০ জুলাই আমাদের জয়োল্লাসের দিন ছিল না। কী আর করা যাবে অনুতাপ ছাড়া। সারা প্রতিযোগিতায় এক বারও দ্বিধা-সংশয় আমাদের কাবু করেনি, এমনকী সেমিতে ফ্রান্সের সঙ্গে তফাত ছিল খুবই সামান্য। অথচ একটা কর্নার সব হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে দিল-আমরা বেলজিয়াম ছিটকে গেলাম। খেলা শেষ হয়ে গিয়েছিল উমতিতির জবরদস্ত হেড দেওয়া গোলে, ফাইনালে ফ্রান্স”।

ঘোরের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন হ্যাজার্ড, ব্রুনে, লুকাকু এবং গোলরক্ষক থ্রিবট কোর্টওয়েস। ব্রুনের কথায় ওঁরা মাথা নেড়ে সায় দিলেন সবাই। সত্যিই তো সারাক্ষণ বেলজিয়াম খেলল, বল পায়ে রইল অথচ নিট রেজল্ট নিস্ফলা। হ্যাজার্ড কিন্তু খোলা মনে স্বীকার করেছেন, “ফ্রান্সের ডিফেন্স তারিফ করার মতো। আমরা হুড়হুড়িয়ে উঠলেও গোলের সামনে কোনো ফাঁকফোঁকর খুঁজে পাইনি। এতোটাই আঁটোসাঁটো ছিল। আমাদের এটা মেনে নেওয়া উচিত এবং ফ্রান্সের অভিনন্দন প্রাপ্য। শুভেচ্ছা থাক ফাইনালের জন্য”।

আচমকা যেন মাঠ ফুঁড়ে উঠেছেন দর্শকরা। সদ্য দেখা খেলার রেশ চোখেমুখে। বলে ফেলেন, “ফ্রান্স একবার জিতেছে এ বার না হয় বেলজিয়াম জিতত, কী সমস্যা ছিল”। আলোচনা -মন্তব্য নিজেদের মধ্যে চলবে আরও বেশ কিছু দিন কিন্তু এটা বাস্তব সত্য বেলজিয়াম সে দিন যথেষ্ট বেসুরো ছিল এবং লুকাকুর ভূমিকা দেখে দর্শকরা বলতে বাধ্য হয়েছেন, “উনি কি অতিথি শিল্পী”।

সত্যি বলতে কী, ফ্রান্স চরিত্র বরাবর সংযত এবং লক্ষ্যে অবিচল। ফ্রান্স পরিবার তাঁদের সন্তানদের এখন ছেলেবেলা থেকে ফুটবলে হাতেখড়ি দিয়ে দেন। সেখানে তাদের কোচিং করার দায়িত্ব থাকে বাবার। যেমন পোগবা, এমবাপের তালিম দেওয়ার নেপথ্যে তাঁদের বাবা। এদের থেকে বেছে নিয়ে ক্রিম ফুটবলারদের বছর বারো-তেরোতেই তুলে নেয় পেশাদার ক্লাবগুলি। তার পর লাগাতার নানান জাতের অনুশীলন। খেলা আর খেলা। দেশ নিশ্চিন্ত।

france croatia 1998
১৯৯৮-এর সেমির স্মৃতি

বিশ্বকাপের মতো আসরে যাচাই হয় কার দৌড় কত দূর। যেমন অনেক ঘাম ঝরানোর পর দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে পূরণ হল ক্রোয়েশিয়ার। তাও কিনা ফ্লুক্সে নয়, রথী-মহারথীদের ধরাশায়ী করে। যার মধ্যে ছিল ইংল্যান্ড। যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ফুটবলখচিত অথচ প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া অনেকটাই নবীন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার জেদ, যা কি না তাতিয়ে রেখেছে ক্রোয়েশিয়াকে। এই দেশের স্বাধীন ফুটবল ইতিহাস খুব বড়োজোর বিশ-পঁচিশ বছরের। তবুও পুঁজিপাটা নিয়ে খেলে ফাইনালে উঠল।

সে দিন মাঝরাতের সেমি ফাইনালে বিশ্ববাসী দেখল শুরুতে গোল দেওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়ার লালচে খোপের জার্সির দাবানলে পুড়ে ছাই, হয়তো ‘আমরা হনু’-র অবজ্ঞা মিশলে এমনটাই হাল হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রলেপ, এ বার হল না কিন্তু লম্বা যাত্রাপথে তোমাদের ভূমিকায় দেশ গর্বিত। যাঁদের হারানোর কিছু নেই, সেই ক্রোয়েশিয়া হয়তো এ বার সাব মেরিন হয়ে ফ্রান্সের জাহাজ ফুটো করে দেওয়ার চেষ্টা চালাবে। সাধারণ যখন আসাধারাণ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ফয়দা না তোলাটা অস্বাভাবিক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন