ওয়েবডেস্ক: ওরা যাযাবর। বংশ পরম্পরায়। পশ্চিম ইরানের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো আর ভেড়া চরানো। এই ছিল আলিরেজার জীবন। তার মাঝেই ঢুকে পড়ল ফুটবলের নেশা। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ওরা যাযাবর। হাজার বছরের জীবনচর্যা ত্যাগ করার কথা ভাবতে পারেননি তাঁর বাবা। মানতে পারেননি ছেলের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। তাই খোঁজখবর নিয়ে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা যোগাড় করে তেহরান চলে আসেন আলিরেজা বেইরানভন্দ। তখন তাঁর বয়স ১২ বছর।

কিশোর ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দেয়, এমন এক ক্লাবের দরজায় সারারাত শুয়েছিলেন আলিরেজা। “লোকজন ভিখারি ভেবে সারা রাত রয়সা ছুঁড়ে দিয়েছিল। ভালই হয়েছিলে। সেই প্রথম একটু ভালো জলখাবার জুটেছিল আমার”। বলেছেন আলিরেজা। মিডিয়াকে এইসব কথা তিনি বলার সুযোগ পেয়েছেন। কারণ, সোমবার তিনি পাঁচবার ব্যালন ডি’ওর পাওয়া সিআর সেভেনের পেনাল্টি সেভ করেছেন।

সেই ক্লাবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পথেই তিনি নজরে পড়েন দেশের ফুটবল মহলের। তাতেই বা কি, জামাকাপড়ের কারখানা থেকে শুরু করে আরও নানা জায়গায় কাজ করতে শুরু করেন পেটের জন্য সঙ্গে গোলকিপিং। এভাবে চলতে চলতেই ২০১১ সালে পেশাদার ফুটবল জীবনে প্রবেশ। ক্লাব ফুটবল খেলা শুরু। সবার নজর ছিল ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা এই ফুটবলারের সবল হাতদুটির দিকে। যেগুলো দিয়ে অনেক দূর বল ছুঁড়তে পারেন তিনি। যা দিয়ে একবার প্রতিপক্ষের অর্ধের ২৩০ মিটার ভিতরে বল ছুঁড়েছিলেন। যার থেকে গোলও দেয় তাঁর দল। কিছুদিন আগে দেশের ও এশিয়ার অন্যতম সেরা পার্সপোলিস ফুটবল ক্লাবে সই করেন আলিরেজা। রেকর্ড অর্থের বিনিময়ে। কয়েকদিন আগেই জাতীয় দলের বহুদিনের  এক নম্বর গোলরক্ষক আলিরেজা হাঘিঘিকে সরিয়ে প্রথম দলে জায়গা করে নিয়েছেন। তারপরই পেনাল্টি কিং-এর গোল সেভ।

পশ্চিম ইরানের অচেনা গ্রাম থেকে তেহরান হয়ে রাশিয়া। এরপর হয়তো ইউরোপের কোনো ক্লাব। ২৪ বছর বয়সি বেইরানভন্দের নতুন এক যাযাবর জীবনের শুরুটা দেখে নিল ফুটবলবিশ্ব। যা রূপকথার সামিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here