frafinal

ফ্রান্স – ৪                             আর্জেন্তিনা – ৩

ওয়েবডেস্ক: পারলেন না লিও মেসি। বিশ্বকাপ প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্তিনাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। দলগত ভাবে খেললে যে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতা যায় তা করে দেখাল দিদিয়ের দেশঁর ছেলেরা। যোগ্য দল হিসাবেই যে ফরাসিরা জয়ী হয়েছে সেই নিয়ে কারুর মনেই কোনো দ্বিধা নেই। যার ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিলেন গ্রিজম্যান, জিরুরা। মেসিকে টপকে এদিনের নায়ক কিন্তু ফ্রাসের তরুণ স্ট্রাইকার কিলিয়ান বোঁপে। বিশ্বকাপ হাতে নেওয়ার স্বপ্ন হয়তো অধরাই থেকে গেল লিও মেসির। কারণ পরের বিশ্বকাপে তাঁর বয়স হয়ে যাবে পঁয়ত্রিশ।

ম্যাচ নিয়ে বলতে গেলে শুরুর স্পেলটা দুর্দান্ত ফরাসিদের। কেনো তাদের এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা দল বলা হছে তা প্রথম থেকেই বোঝাতে শুরু করে তারা। দশ মিনিটের মধ্যে গ্রিজম্যানের গোলে এগিয়ে যেতে পারতো ফ্রান্স কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঁপেকে বক্সে ফাউল করেন রোখো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি গ্রিজম্যান। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় গোল তাঁর। তবে পিছিয়ে পরে খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা চালায় নীলসাদা বাহিনী। আক্রমণ ভাগে পজেশন বাড়ালেও, অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে আটকে যান মেসিরা। প্রথমার্ধে প্রায় নিষ্প্রভ ছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। তবে চাপ রাখার ফল অবশেষে পেয়ে যায় তারা। বিরতিতে যাওয়ার মিনিট চারেক আগে বক্সের অনেকটা দূর থেকে ডি’মারিয়ার দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্তিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সেই রাশ ধরে রাখার চেষ্টা করে তারা। ফলে মিনিট তিনেকের মধ্যে আক্রমণ ভাগে মেসির শট মার্কদোর পায়ে লেগে ফরাসি গোলে ঢুকে যায়। ম্যাচে প্রথম বার লিড মেসিদের। সবাই ভেবেছিল এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবে তারা। কিন্তু হল উল্টো। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে প্রবল ভাবে ফিরে এসে ৯৮’র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফলে দশ মিনিটের মধ্যে পাভার্দের আউটস্টেপে অবিশ্বাস্য গোল। ম্যাচে সমতা ফেরায় পোগবা, উমতিতিরা। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফের গোল। নিজের প্রথম এবং দলের তৃতীয় গোলে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান বোঁপে। এ সময় আর্জেন্তিনার ডিফেন্সকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রোহোর বসে যাওয়ার ফল ভুগল গোটা দল। এই সময় নীলসাদা বাহিনিকে নিয়ে প্রায় ছেলেখেলা করতে থাকে ফরাসিরা। এর রেশ কাটতে না কাটতে ফের গোল। জিরুর দেওয়া দুর্দান্ত বলে নিজের দ্বিতীয় গোল সম্পন্ন করেন সেই বোঁপে। যদিও তাঁর শট গোলরক্ষক আর্মানির হাতের তলা দিয়ে গলে যায়। সেখানেই ঠিক হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। শেষদিকে আগুয়েরোকে নামিয়ে কিছুটা ম্যাচের ফেরার চেষ্টা চালান আর্জেন্তাইন কোচ সাম্পাওলি। সংযুক্ত সময়ে মেসির ঠিকানা লেখা ক্রস থেকে ব্যবধান কমালেও জয় আনতে ব্যর্থ হন আগুয়েরো। আর তিনটি বিশ্বকাপে গোল দিলেও নক আউট পর্যায়ে গোল দেওয়া হল না ফুটবলের রাজপুত্রের।

আর্জেন্তিনা-জার্মানির বিদায়ের পর এখন বাঙালির শেষ ভরসা হয়ে রাশিয়ায় টিকে রয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here