neymar4final

ব্রাজিল – ২            মেক্সিকো – ০ 

ওয়েবডেস্ক: মেসি, রোনাল্ডো ব্যর্থ হলেও মোটামুটি উতরে গেলেন নেইমার। যার ফলে মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ব্রাজিল। গত গ্রুপ ম্যাচগুলিতে যে ভাবে পাওয়া গিয়েছিল সেলেকাওদের এই ম্যাচে তা অনেকটাই উধাও। ম্যাচের শুরু দেখে মনে হতে পারে এমন দায়সারা ভাবে ব্রাজিল খেলছে কি করে। যার কারণ মিস পাস, ভুল রিসিভিং। ফলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেক্সিকো যে ব্রাজিলের ওপর চেপে বসবে সেটাই স্বাভাবিক। মেক্সিকোর একটাই অভাব ছিল ফিনিশিং। তাদের জায়গায় অন্য কোন দল থাকলে সেই সময় ব্রাজিল যে পিছিয়ে পড়তো না কে বলতে পারে।

শুরুতেই গোল পেয়ে যেত মেক্সিকোর লোজানো কিন্তু ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে তা প্রতিহত হয়। ডিফেন্সিভ ভাবেই শুরু ব্রাজিলের সেই নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আক্রমণে চাপ রেখেছিলেন কার্লোস বেলা, হার্নান্ডেজরা। কিন্তু কার্যকর করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। প্রথমার্ধের ২৫ মিনিট নাগাদ প্রথম সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। নেইমারের শট মেক্সিকো গোলকিপারের গায়ে লেগে বাইরে। সুযোগ পেয়েছিলেন কুটিনহো কিন্তু তিনিও ব্যর্থ। তবে এদিন হয়তো কিছুটা মানসিক চাপ সঙ্গী ছিল ব্রাজিলের তরুণদের সঙ্গে। সুযোগ হাতছাড়া করেন ব্রাজিলের জেসুসও। আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। তবে মেক্সিকো গোলকিপার ওচোয়ার প্রশংসা করতেই হবে। বিরতিতে দলকে বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র কারিগর তিনি।

অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ব্রাজিলের। যার ফল মাত্র মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গোল নেইমারের। কেনো তিনি ব্রাজিলের প্রাণভোমরা ফের বোঝালেন। এগিয়ে গিয়ে সুযোগ তৈরি করেছিল ক্যাসিমিরোরা কিন্তু সেই ওচোয়া। একার হাত বাঁচালেন নিশ্চিত পতন। নাহলে অনেক আগেই খেলার ফল নিশ্চিত হয়ে যায়। অবশ্য এদিন ব্রাজিল সুযোগ তৈরি করলেও, সাম্বা ঝড় কিন্তু চোখে পড়েনি। শেষদিকে ফের কিছুটা ডিফেন্সিভ খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা ব্রাজিলের। যার ফলে আক্রমণে সুযোগ পেয়ে পায় মেক্সিকানরা। তবে বেলা, লোজানোরা সুযোগ কার্যকর করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেন। তবে দলটা যে ব্রাজিল। একটা সুযোগই যথেষ্ট নিজেদের প্রমাণ করার। হলটাও তাই। কুতিনহোর জায়গায় আসা ফিরমিনো নির্ধারিত সময়ের মিনিট দু’য়েক আগে মেক্সিকো কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন। ভারে এগিয়ে থাকার সুবিধাটাই এদিন ঘরে তুললেন নেইমাররা। নইলে খেলার বিচারে মেক্সিকো কোনো অংশেই পিছিয়ে ছিল না।

ফলে আপাতত বিশ্বকাপে টিকে রইল ব্রাজিলের ভাগ্য এবং অবশ্যই বাঙালির বিশ্বকাপ মুহূর্ত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here