starpalyers

ওয়েবডেস্ক: ফুটবল নিয়ে কথা বলা মানেই সবার আগে মেসি এবং রোনাল্ডো। বিশ্বের দুই সেরা তারকাকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তাঁদের স্কিল, ড্রিবলিং, গোল দেখতে কে না ভালোবাসে। একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তাঁদের লড়াইয়ে ভাগ হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। শেষ দশ বছরে পাঁচ বার করে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের তকমা রয়েছে তাঁদের মুকুটে। তবে এ বার কি সেই পদে নতুন কেউ থাবা ফেলতে চলেছেন? একটা আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ-জ্বরে আক্রান্ত গোটা দুনিয়া। অর্ধেক পর্ব শেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পালা। কিন্তু মেসি-রোনাল্ডোর অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও টুর্নামেন্টকে যে বিমর্ষ করে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কথাতেই আছে জায়গা কখনও ফাঁকা পড়ে থাকে না। কেউ না কেউ ঠিক ভরাট করে দেয়। এই বিশ্বকাপ এমনিতেই অঘটনের বিশ্বকাপ। ক্রমাগত বড়ো দলগুলির বিদায়। তবে বিশ্বকাপ যে বরাবরই নতুন ‘তারকা’র জন্ম দেয় তা ফের প্রমাণিত। যাঁরা চলতি টুর্নামেন্টে ছাপিয়ে গিয়েছেন এই দুই মহাতারকাকে। আগামীতে যাঁদের হাতেই হয়তো উঠতে চলেছে বিশ্বসেরার তকমা।

দেখে নিন এই খেলোয়াড়দের যাঁরা ব্যালন ডি’ওর জিততে পারেন বিশ্বকাপ ঘরে তুললেই:

১। হ্যারি কেন

এই মুহূর্তে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ছয়টি গোল রয়েছে তাঁর নামের পাশে। সোনার বুট জিতবেন কি না তা তো সময়ই বলবে। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এই মুহূর্তে যে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৬৬-এর পর দেশকে ফের বিশ্বকাপ জয়ী করতে বদ্ধপরিকর ইংরেজ অধিনায়ক। শেষমেশ যদি সর্বাধিক গোলদাতা হয়ে দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেন, তবে মেসি-রোনাল্ডো যুগের ইতি টেনে প্রথম বার ব্যালন ডি’ ওর জয়ী হবেন তিনি।

harrykane600

২। নেইমার

মেসি-রোনাল্ডোর পর যাঁকে নিয়ে বেশি চর্চা বিশ্ব ফুটবলে। দুই মহাতারকার প্রস্থান হলেও, তিনি টিকে রয়েছেন। ১৬ বছর পর ব্রাজিলকে ফের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দলকে নেতৃত্ব দিলেও তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়া কম হচ্ছে না। অবশ্য তাতে কান দিতে রাজি নন তিনি। বিশ্বকাপ করেছেন দু’টি গোল। সেলেকাওদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিতে পারলে ব্যালন ডি’ওর পেয়ে যেতে পারেন তিনিও।

neymarfinal

৩। কিলিয়ান এমবাপে

বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা হয়তো এই তরুণ ফরাসি খেলোয়াড়ই। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে একার হাতেই দুরমুশ করেছেন মেসির আর্জেন্তিনাকে। টুর্নামেন্টে তিনটি গোলও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ হিসাবে নকআউটের ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল। ফলে ২০ বছর পর দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এনে দিতে পারলে ব্যালন ডি’ওর জিততে হয়তো খুব একটা বেগ পেতে হবে না তাঁকে।

mbappe600

৪। অ্যান্টন গ্রিজম্যান

পিছিয়ে নেই ফরাসি এই স্ট্রাইকারটিও। বিশ্বকাপে দু’টি গোল করলেও, দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই তিনিও। আগামী ম্যাচগুলিতে সাফল্যের ধারা বাড়াতে পারলে, সহ-খেলোয়াড় বাপেকে বেশ টক্কর দিতে পারেন ব্যালন ডি’ ওর লড়াইয়ে।

griezmann600

৫। লুইস সুয়ারেজ

১৯৫০ সালের পর উরুগুয়েকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সুয়ারেজ। বার্সেলোনার এই খেলোয়াড়টি দলের যে মূল অস্ত্র সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বকাপ করেছেন দু’টি গোল। উরুগুয়েকে চ্যাম্পিয়ন করলে ব্যালন ডি’ওর পেয়ে যেতেই পারেন এই মুখ।

luiss-suarez

৬। রোমেলু লুকাকু

বেলজিয়ামকে প্রথম বার বিশ্বকাপ জেতাতে রীতিমতো বদ্ধপরিকর তিনি। ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা। করেছেন চারটি গোল। শেষমেশ নিজের সাফল্য ধরে রেখে যদি দেশকে সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেন, তা হলে ব্যালন ডি ওর তকমা মাথায় তুলতেই পারেন।

lukaku600

৭। এডেন হ্যাজার্ড

বেলিজিয়ামকে সাফল্য এনে দিতে পারেন ইনিও। দলের অধিনায়ক হ্যাজার্ড। দলকে নিজের হাতেই পরিচালনা করেছন তিনি। তাই বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা খেলা উপহার দিচ্ছে তাঁর দল। বাকি ম্যাচগুলোতেও নিজের ফর্মকে ঊর্ধ্বমুখী করে একার হাতে দেশকে যদি প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেন, তা হলে ব্যালন ডি’ ওর পাওয়ার সম্ভাবনা তাঁরও আছে।

hazard600

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here