ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে আনন্দ উন্মাদনা থাকাটাই প্রধান এবং একমাত্র বাঞ্ছনীয় বিষয়। বিশ্বকাপ খেলা দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ যতই থাকুক না কেনো ফুটবলই পারে তা মুছে দিতে। অতীতে এমন উদাহরণ অনেক আছে যেখানে মানবিকতাকেই গুরুত্ব দিয়েছে ফুটবল। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাসগুলো এতটাই তীব্র এবং দগদগে হয়ে থাকে যে ক্রীড়া সংস্কৃতির ঔজ্জবল্যও তা ঢাকতে পারে না। আরও একবার তার প্রমাণ রাখলেন সার্বিয়ার কোচ ম্লাদেন ক্রাস্তাচিচ।

ইতিমধ্যেই গ্রুপ লিগের সুুইৎজারল্যান্ড বনাম সার্বিয়া ম্যাচকে ঘিরে চরম বিতর্ক বিশ্ব ফুটবলে। যার কারণ সেই ম্যাচে সুুইৎজারল্যান্ড দুই গোলদাতা জাকা এবং শাকিরির গোল করে দুই মুখ ঈগলের ভঙ্গিতে গোল উদ্‌যাপন করা। যা আলবেনিয়া পতাকাকে মনে রেখে। কারণ দু’জনের পরিবারই আলবেনিয়ার। কিন্তু আশির দশকের জাতি দাঙ্গা এবং নব্বইয়ের দশকে কসভোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাদের পরিবারেরা সুইজারল্যান্ডের চলে আসেন। কসভোতে অনেক আলবেনিয়ান রয়েছেন(সে সময় কসভো ছিল সাবেক সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর অধীন)। নিজের দেশকে যে কখনও ভোলা যায় না তারই প্রমাণ রাখেন এই দু’জন। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া কসভো যুদ্ধে অ্যালবেনিয়ান এবং সার্বদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু সে তো ইতিহাস। সেই যুদ্ধে সার্বিয়ায় বোমাবর্ষণ করেছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। যে বাহিনীতে ছিল জার্মানিও। যুদ্ধের শেষে হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে সাজাও হয় তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মিলোসেভিচের। অভিযোগ ছিল আলবানিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের। যে সাজার দায় নিতে হয় গোটা সার্ব জাতিকে।

সেদিনের ম্যাচের পর সেই প্রসঙ্গে টেনে এনে বিতর্কিত মন্তব্য করেন সার্বিয়া কোচ। তিনি বলেন আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন জার্মান রেফারি ফেলিস্ক ব্রাইচ। কারণ ৬৬ মিনিটে তিনি মিত্রভিচকে ফাউল করার জন্য আমাদের পেনাল্টি দেননি তিনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিয়ান কোচ কসভো যুদ্ধকে টেনে এনেছেন। তার বক্তব্য, “আমাদেরকে ঠকিয়েছেন জার্মান রেফারি। আমি ওকে লাল বা হলুদ কার্ড দেখাব না। কিন্তু ওকে হেগ-এ পাঠাবো। বিচারের জন্য। যেমন আমাদেরও করা হয়েছিল”।

ক্রাস্তাচিচের ইঙ্গিত, একসময় আন্তর্জাতিক আদালত যেমন সার্বিয়ার বিরুদ্ধে বেছে বেছে আলবানিয়ানদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ এনেছিল, তেমনই জার্মান রেফারিরও বেছে বেছে সার্বিয়াকে পেনাল্টি না দেওয়ার জন্য শাস্তি প্রাপ্য। সার্বিয়া কোচের মতে, তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যায় বহুদিন ধরে চলছে। সেই অন্যায়েরই ধারাবাহিকতা এদিন পেনাল্টি না দেওয়া।

শোনা যাচ্ছে তাঁর এই বক্তব্যের জন্য তাঁকে নাকি নির্বাসিত করতে পারে ফিফা। ইতিমধ্যেই দুই সুইস খেলোয়াড়কে দু’ম্যাচ নির্বাসিত করেছে ফিফা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here